Sunday, January 20, 2019

ভারত বর্ষের বর্তমান আইন ও আদালত

January 20, 2019
ছবি: সংগৃহীত

ভারত বর্ষের সর্বোচ্চ আদালত হল সুপ্রীম কোর্ট, আর রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে সুপ্রীম কোর্টে করতে হয়। যে-সব ট্রাইব্যুনালগুলি সুপ্রীম কোর্টের এক্তিয়ারে রয়েছে তাদের আপীল গুলিও সুপ্রীম কোর্টে আসে। রাজ্য ও রাষ্ট্রের মধ্যে বা দুইটি রাজ্যের মধ্যে বিবাদ ঘটলে - তা সুপ্রীম কোর্টেই ফয়সলা হয়। এছাড়া নাগরিকদের মৌল-অধিকার রক্ষা করার জন্য সুপ্রীম কোর্ট নানা আদেশ জারি করতে পারে। রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের প্রধান ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। তার আগে কোনও অপরাধের জন্য তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করাতে হলে লোকসভা ও রাজ্যসভা - দুই সভারই  অনুমোদন লাগে।

রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্টের নিচে থাকে নিম্ন আদালতগুলি। হাইকোর্টের কাজ হল নিম্ন আদালতের আপীল গুলি শুনে তার সমাধান করা। হাইকোর্টের এক্তিয়ারে যে-সব ট্রাইব্যুনাল থাকে তাদের আপীল শোনাও হাই কোর্টের কাজ। হাইকোর্টের বিচারপতিদেরও নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। এই নিয়োগের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। হাই কোর্টের সব বিচারপতিকেই ৬২ বছর বয়সে অবসর নিতে হয়। হাই কোর্টেরও কোন বিচারপতিকে পদ থেকে অপসারণ করতে হলে লোকসভা ও রাজ্যসভার অনুমোদন দরকার হয়।

রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলি দুটি বিভাগে বিভক্ত: একটি ফৌজদারি আদালত বা ক্রিমিন্যাল কোর্ট, অন্যটি দেওয়ানি আদালত বা সিভিল কোর্ট।
ক্রিমিন্যাল বা ফৌজদারী আদালতের সর্বনিম্নে হল ম্যাজিস্ট্রেটের (প্রথম শ্রেণী বা দ্বিতীয় শ্রেণীর) আদালত। তার ওপরের আদালত হল সেশান জজের আদালত। ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের আপীলগুলি যায় সেশান জজের কোর্টে। আর সেশান জজের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে হাইকোর্টে যেতে হয়।

সিভিল কোর্টের নিম্নতম আদালত হল মুন্সেফ-এর আদালত। মুন্সেফ-এর আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে সাব-জজের আদালতে যেতে হয়। সাব-জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে যেতে হয় জেলা আদালত বা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে। জেলা আদালতের আপীল যায় হাই কোর্টে, হাইকোর্টের আপীল যায় সুপ্রীম কোর্টে। সাধারণত যেকোনো কোনও মামলায় দুইবার আপীল করা যায়। প্রথমবার আইন ও বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে, দ্বিতীয়বার শুধু আইনের ভিত্তিতে।


সিভিল আর ক্রিমিন্যাল কেস-এর পার্থক্য:
সিভিল কেস বা দেওয়ানি মামলা যে কোন ব্যক্তি বা সংস্থা অন্য কারোর বিরুদ্ধে আনতে পারে। যে মামলা আনে তাকে বলা হয় বাদী। অন্যপক্ষে ফৌজদারী মামলায় অভিযোক্তা হয় সরকার, অর্থাৎ শুধু সরকার বা গভর্নমেণ্টই ফৌজদারী মামলা আনতে পারে। সিভিল আর ক্রিমিন্যাল আইনের আরেকটা বড় পার্থক্য হচ্ছে শাস্তি-সংক্রান্ত। ক্রিমিন্যাল কেস-এ দোষীর শাস্তি হল সশ্রম (বা বিনাশ্রম) কারাবাস বা অর্থদণ্ড অথবা দুটোই। অর্থদণ্ডের টাকা সরকারের তহবিলে যায়। কোন কোন বিশেষ অপরাধের ক্ষেত্রে দোষীর মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। সিভিল মামলায় হেরে গেলে প্রতিবাদী বা অপরাধীকে কখনোই কারাবাস করতে হয় না। এই মামলায় অপরাধীদের শাস্তি হল বাদীর ন্যায্য দাবী মেনে নেওয়া এবং অপরাধের জন্য বাদীর যে-অর্থ নষ্ট হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে অনেক সময় এই ক্ষতিপূরণ শুধু বাদীর আর্থিক ক্ষতির (সাধারণ অর্থে) পূরণ নয় - অপরাধের জন্য বাদীর সন্মানহানী বা অন্য কোনও সম্মানহানী ঘটে থাকলে, তার জন্য একটি আর্থিক ক্ষতিপূরণও কোর্ট ধার্য করতে পারে।

ক্রিমিন্যাল বা ফৌজদারি মামলায় অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব সব সময়ে সরকারের। অভিযুক্তকে ধরে নেওয়া হবে নিরপরাধ বলে। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে, সে অপরাধী। এর দুই একটি ব্যতিক্রম আছে। যেমন, অভিযুক্ত যদি দাবী করে যে, সে আত্মরক্ষার্থে অপরাধ করেছে, অথবা সে সুস্থমস্তিষ্ক নয় বলে দোষী নয়, ইত্যাদি - সেক্ষেত্রে এই দাবীগুলির সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে অভিযুক্তের ওপর। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত তখনই দোষী বলে সাব্যস্ত হবে - যদি সংশয়াতীত ভাবে প্রমাণিত হয় যে, সেই দোষী।

দেওয়ানি মামলায় অভিযোগকারীকেই তার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য সংশয়াতীত প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। মোটামুটি ভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণই যথেষ্ঠ।

দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী সালমা!

January 20, 2019
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। বিয়ের বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। এসময় তিনি বলেন , ২০১৮ইং  সালের ৩১ই  ডিসেম্বর তিনি বিয়ে করেছেন। তার বরের নাম সানাউল্লাহ সাগর। তিনি পেশায় এ্যাডভোকেট। বর্তমানে তার স্বামী লন্ডনে আছেন। তার বার অ্যাট-ল শেষ করতে ৪ মাস বাকি।

সালমা আরো জানান, কোনো কোনো সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে আমি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যারিস্টারি পড়তে যাচ্ছি। আসলে যুক্তরাষ্ট্রে না আমি পড়তে গেলে ব্রিটেনে যাবো। বর্তমানে ঢাকায় বিপিবি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ছে সালমা। সেকেন্ড ইয়ার শেষ হয়েছে। ফলাফল প্রকাশ হলে সিদ্ধান্ত নিব দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে থার্ড ইয়ার ও ফাইনাল ইয়ার ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে কিংবা ওখানকার অন্য কোনো ইউনিভার্টিতেও করতে পারি। কোন ভার্সিটিতে পড়বো এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নাই।

সালমা আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে সেখানেই বার অ্যাট-ল করবো। ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরবো। পড়ালেখা চলছে। নির্বাচনের পরেই বাইরে যাওয়ার প্রসেসিং শুরু করবো। এরই মধ্যে আমার কয়েকজন বন্ধু পড়তে চলেও গিয়েছে।’

এর আগে ২০১১ইং  সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন সালমা। শিবলী সঙ্গীত পরিবারের ছেলে হলেও পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১২ সালে ১ জানুয়ারি তাদের সংসারে কন্যা সন্তান স্নেহার জন্ম হয়। সাংসারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ইং সালের ২০ নভেম্বর স্বামী শিবলী সাদিকের সাথে রাজধানীর ধানমণ্ডি একটি হোটেলে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিচ্ছেদের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

Saturday, January 19, 2019

প্রাচীন যুগের আইন ও আদালত

January 19, 2019
ছবি: সংগৃহীত

অন্যায়ের জন্য শাস্তি দেওয়ার প্রচলন এই পৃথিবীতে বহু বছর আগে থেকেই ছিল এবং সেই প্রচলন এখনো আছে। সমাজের প্রধানরা তাঁদের ধর্মীয় বিদ্যাবুদ্ধি ও নৈতিক চিন্তাধারা ব্যবহার করে দোষীর শাস্তি বিধান করতেন প্রাচীন যুগে। কালের পরিবর্তনে তাঁদের এই চিন্তাধারা লিখিত রূপ পেয়ে আইন হিসাবে পরিণত হয়। তবে সে-যুগে সব দেশেই কিন্তু আইনের সঙ্গে ধর্মের যোগ ছিল না। যেমন প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার আইনসূত্র, যেগুলি 'কোড অফ হাম্মুরাবি' বলে পরিচিত - সেগুলি ছিল মোটামুটি ভাবে ধর্ম-নিরপেক্ষ - ধর্ম ও তত্সংলগ্ন নীতিবোধের প্রভাব তার ওপর বিশেষ ছিল না। হাম্মুরাবি ছিলেন ব্যাবিলোনের রাজা। ১৭৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। তাঁর রাজত্বকালে বড় বড় পাথরের ওপর এই আইনগুলি লিপিবদ্ধ করা হতো। ২৮২ টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত এই আইনসমূহে বাণিজ্য, বিবাহ, দাসত্ব, কর্জ - সব কিছুই স্থান পেয়েছিল। শাস্তির যে-সব বিধান এখানে ছিল - আজকের যুগে সেগুলি বর্বর মনে হবে। চুরির অপরাধে আঙুল কেটে নেওয়া, বিবাহিত নারীকে কোনও পরপুরুষ চুম্বন করলে তাঁর ঠোঁট কেটে ফেলা, অপবাদ প্রচারের শাস্তি হল জিভ কেটে নেওয়া, বাড়ি ভেঙে পড়ে বাড়ির মালিকের পুত্রের মৃত্যু হলে, গৃহনির্মাতার পুত্রকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

অনুমান করা হয় যে, তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত মিশর ও চীন দেশেও ধর্ম-নিরপেক্ষ আইনের প্রচলন কিছুটা ছিল। অন্যপক্ষে পুরনো যুগে হিন্দু, ইহুদী, খিরিস্টান ও মুসলিম সমাজের আইনের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ বেদ-উপনিষদ, বাইবেল ও কোরাণের প্রভাব লক্ষ করা যায়। ১৩০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাইবেলের 'টেন কমাণ্ডমেণ্ট'-এর সঙ্গে যে-সব আইনের কথা লেখা হয়েছিল - সেগুলিতে শাস্তির বহরও অনেকটা হাম্মুরাবির বিধানের মতই কঠোর জাতীয় চিন্তাধারা-প্রসূত।

আমাদের দেশে মনুর ধর্মশাস্ত্রের আইনে (আনুমানিক ১২৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৮৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ধর্ম, বিশেষকরে ব্রাহ্মণত্বের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। হিন্দুদের মধ্যে জাতিভেদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও বিভিন্ন ধরণের আইনের সঙ্গে সেই জাতিভেদকে জড়িত করা হয়েছে এই আইন-পুস্তকে। তবে মনু শাস্তির বিধান দিয়েছেন অল্প ক্ষেত্রেই। অঙ্গচ্ছেদনের উল্লেখ শাস্তি হিসেবে থাকলেও, সাধারণভাবে শাস্তিগুলি অত ভয়াবহ নয়। কোটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও (আনুমানিক ২৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) বেশ কিছু আইনের উল্লেখ আছে। সেখানেও ধর্মের প্রচ্ছন্ন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কৌটিল্যের কিছুকাল আগে সম্রাট অশোক (আনুমানিক ২৬৫-২৩৮ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, মতান্তরে ২৭৪-২৩২ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) বিভিন্ন প্রস্তর-স্তম্ভে আইন বিষয়ক বিভিন্ন রাজাজ্ঞা বা নির্দেশ জারি করেছিলেন। এই রাজাজ্ঞার বেশ কয়েকটিতে অশোকের উদার ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর সপ্তম প্রস্তর-স্তম্ভ রাজাজ্ঞার এক জায়গায় তিনি লিখেছিলেন:

আবেদন শোনার ও তার বিচারের ভার রজ্জুকদের ওপর ন্যাস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের কর্তব্য নির্ভয়ে অবিচলিত চিত্তে বিশ্বস্তভাবে পালন করতে পারে। আমার ইচ্ছা যে আইন এবং সাজা যেন সব সময়ে একই ভাবে প্রযোজ্য হয় এমন কি আমি এতদূর পর্যন্ত গিয়েছি যে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামী যারা এখন কারাগারে আছে, তাদের ওপর দণ্ডাদেশ পালন করা তিন দিনের জন্য স্থগিত রেখেছি। এই সময়ের মধ্যে তাদের আত্মীয়রা আপীল জানাতে পারে - মৃত্যুদণ্ড মকুবের জন্য। যদি কেউ আপীল না করে, তাহলে আসামীরা দান-ধ্যান বা উপবাস করে পর-জীবনের জন্য পূণ্য অর্জন করতে পারে। বলাবাহুল্য আমার ইচ্ছা এই যে, যদিও আসামীদের স্বল্প সময়, কিন্তু তার মধ্যেও তারা পরজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে এবং সাধারণের ধর্মাচরণ, আত্ম-সংযম ও বদান্যতা বৃদ্ধি পায়।

ধর্মের প্রভাব সে-যুগের বিচার ব্যবস্থার ওপর থাকলেও, বিচারের ভার সাধারণত রাজা বা গোষ্ঠিপ্রধানেরই হাতে ছিল। বড় বড় রাজাদের পক্ষে একা এই কাজ করা সম্ভবপর ছিল না, তাই নিজেদের আত্মীয় বা আমত্যদের ওপর ভার দিতেন বিচারকের কাজ করার জন্য। তবে অনেক সময়েই রাজারা স্বাধীনভাবে তাঁদের ন্যায়পালন বা বিচার করার ক্ষমতা হারিয়েছেন, যখন তাঁদের রাজ্যে ধর্মের জোয়ার এসেছে। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে ধর্মপ্রধানেরা (যাজকগোষ্ঠী, মোল্লাসমাজ, প্রভৃতি) বিচারকের আসনে বসেছেন কিংবা না বসলেও বিচারকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। চীন দেশ ও বহু মুসলিম দেশে বিংশ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত এই অবস্থা বিদ্যমান ছিল।

বিচার-ব্যবস্থার প্রথম দিকে উকিল শ্রেণী বলে কিছু ছিল না। নিজেদের বক্তব্য নিজেদেরই বিচারককে জানাতে হত। কিন্তু আইন যখন জটিলরূপ নিতে শুরু করল, সাধারণের পক্ষে তা ভালোভাবে জানা আর সম্ভবপর হল না - তখন প্রয়োজন হল বিশেষজ্ঞদের। তথাকথিত উকিল শ্রেণী বা আইনজ্ঞদের আত্মপ্রকাশ সম্ভবত প্রথম হয় গ্রীস ও রোমে - আনুমানিক ২০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। প্রথমে অবশ্য এঁদের সন্মানের চোখে দেখা হত না। রোম সাম্রাজ্যের শেষের দিকে এঁরা সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। শুধু কথায় নয় লিখিত ভাবেও এই সময় থেকে এঁদের অনেক নথিপত্র তৈরী করতে হত। ধীরে ধীরে এটি একটি সন্মানীয় জীবিকা হিসেবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হল।

উকুনের ‘পুরুষাঙ্গ’, নারীদের শরীরে খিদে মেটান সঙ্গমের মাধ্যমে

January 19, 2019
ছবি: সংগৃহীত

বিচিত্র এক দৈহিক মিলন! নারী সঙ্গীর শরীরে জন্ম নিচ্ছে উকুনের ‘পুরুষাঙ্গ’। সে তাই দিয়ে শারীরিক সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে। পুরুষ সঙ্গীর শরীরে রয়েছে যোনির মতো দেখতে অঙ্গ। এমন আশ্চর্য সঙ্গম চলে দিনের পর দিন। প্রাণীবিজ্ঞানে যৌন মিলনের চেনা ছবির একেবারেই উলটো ছবি এই বিশেষ প্রজাতির উকুনদের সংসারে। দেখে বিস্ময়ে হতবাক গবেষকরা।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রজাতির উকুনের দেখা মেলে। এরা গুহাবাসী। ‘বায়োলজি লেটার্স’ নামের এক জীববিদ্যা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে এই উকুনদের শরীরী খেলার সন্ধান মিলেছে। গবেষণাপত্রটির অন্যতম রচয়িতা জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজুনোরি ইওশিজাওয়া জানাচ্ছেন, স্ত্রী-উকুনেরা পুরুষ সঙ্গীদের সঙ্গে বহুক্ষণ সঙ্গম করতে থাকে। দেখা গিয়েছে ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত এরা মিলিত হয়েছে!

কিন্তু কেন এমন উগ্র যৌনতা? এর পিছনের কারণ চমকে দেয়। গবেষকরা জানাচ্ছেন, গুহার ভিতরে খাদ্যের সন্ধান পাওয়া বেশ শক্ত। তাই খিদে মেটাতেই যৌনতার আশ্রয় নেয় স্ত্রী-উকুনেরা। পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় তারা টেনে নেয় সঙ্গীর শরীরের শুক্রাণু। যা রীতিমতো পুষ্টিকর। এভাবেই তারা খিদে মিটিয়ে শরীর রক্ষা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা সামনে কোনও পুরুষ সঙ্গী দেখলেই তার সঙ্গে মিলিত হয়। সঙ্গীর সম্মতি আছে কিনা সে নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা থাকে না।

গবেষকরা এমনও দেখেছেন, পুরুষ সঙ্গীকে ধরে তার শরীর ছিন্ন করে গেলেও তখনও সঙ্গমে লিপ্ত থাকে স্ত্রী-উকুন। তাদের শরীরে উৎপন্ন পুরুষাঙ্গটির এমনতর সংযুক্তি ক্ষমতা দেখে বিস্মিত গবেষকরা। ঠিক কী করে এমন অদ্ভুত পরিবর্তন হল এই প্রজাতির উকুনদের শরীরে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। 

এরশাদ গুরুতর অসুস্থ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাবেন

January 19, 2019
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও নবগঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচএম এরশাদ গুরুতর অসুস্থ। তার শরীর বেশ ভেঙে পড়েছে। প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি।

অনেক দিন ধরে তার উঠতে-বসতে ও হাঁটাচলায় সমস্যা হলেও গত দুইদিন ধরে তার নড়াচড়া করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। পরিমাণমতো খেতেও পারছেন না তিনি। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন এরশাদ এককথায় বিছানায় পড়ে গেছেন। এই অবস্থায় আগামীকাল রবিবার তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে।

এরশাদের ছোট ভাই ও জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের শরীর দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়েছে। হাঁটাচলা তো করতেই পারছেন না, এমনকি বিছানায় নড়াচড়া করতেও তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। চিকিত্সকরা খাবারের পরিমাণ বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন এরশাদ সাহেবকে। কিন্তু তিনি ঠিকমতো খেতেও পারছেন না, আজ (শুক্রবার) একটু খেয়েছেন, তাও পরিমাণে খুব সামান্য। সম্ভবত তার লিভারে খুব সমস্যা হচ্ছে।’

জিএম কাদের জানান, এরশাদ আজ শনিবার সিএমএইচ থেকে বারিধারার বাসায় যাবেন। সেখান থেকে আগামীকাল বেলা ১২টা ২০ মিনিটের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাবেন। সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তিনি চিকিত্সা নেবেন, সেখানে হয়তো কয়েক সপ্তাহ থাকতে হতে পারে। জানা গেছে, এরশাদের সঙ্গে তার এক ছোট ভাই, ব্যক্তিগত সচিব ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার ও একজন ব্যক্তিগত স্টাফ সিঙ্গাপুর যাবেন।

সিএমএইচে এরশাদকে দেখতে যাওয়া জাপার একাধিক নেতা জানান, এরশাদ বর্তমানে একা-একা বাথরুমেও যেতে পারছেন না। ওষুধ খাওয়ার জন্য পানির গ্লাসও নিজ হাতে ধরতে পারছেন না। কথাবার্তাও খুব কম বলছেন। এমনকি দলের ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য কলম ধরতেও তার কষ্ট হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এরশাদ। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময় তাকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে। ১০ই  থেকে ২৬ই  ডিসেম্বর ২০১৮ ইং পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে চিকিত্সা নিলেও তার অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। রংপুর-৩ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও অসুস্থতার কারণে একদিনও প্রচারণায় যেতে পারেননি। গত ৫ই  জানুয়ারি ২০১৯ ইং হুইল চেয়ারে করে সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে এমপি হিসেবে শপথ নেন।

এরশাদের অবর্তমানে বা চিকিত্সাধীন অবস্থায় বিদেশে থাকাকালীন জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে দলীয় বিস্বাস যোগ্য সূত্রে জানা গেছে। গতকাল জাপার পক্ষ থেকে এরশাদ এর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এতথ্য জানানো হয়। অবশ্য ‘সাংগঠনিক নির্দেশনা’ শিরোনামে লেখা এই চিঠিতে এরশাদ স্বাক্ষর করেছেন গত বুধবার। সেটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে গতকাল। জিএম কাদের বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের অবর্তমানে কিংবা চিকিত্সার জন্য বিদেশে থাকাকালে কে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়ে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে, সে কারণেই তিনি বিষয়টা একদম স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অসুস্থ হলেও তার মানসিক অবস্থা ঠিক আছে। সেই কারণে বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি সবকিছু ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।’

এর আগে এরশাদ গত ১লা  জানুয়ারি ২০১৯ইং  এক চিঠিতে তার অবর্তমানে জাপার চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করেছিলেন। ‘অবর্তমান’ শব্দটি স্পষ্ট না হওয়ায় দলের ভেতরে এনিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এই ধোঁয়াশা দূর করতেই নতুন করে এরশাদ নতুন করে নির্দেশনা দিলেন।

Friday, January 18, 2019

এন্ড্রয়েড মোবাইল নিরাপত্তার জন্য কিছু টিপস

January 18, 2019
ছবি: সংগৃহীত

এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনে কম্পিউটারের কাছাকাছি অনেক কাজই করা যায়। কিছু এন্ড্রয়েড ফোনের প্রসেসর ও র‍্যাম অনেক কম্পিউটার এর থেকেও বেশি হয়ে থাকে। এই সবকিছুই এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তৈরি। কিন্তু ব্যবহারকারীরা যদি সঠিকভাবে এন্ড্রয়েড মোবাইল  ব্যাবহার করতে না পারেন, তবে ঘটতে পারে বিপত্তি। এন্ড্রয়েড ফোনকে নিরাপদ রাখতে নিচে কিছু প্রয়জোনীয় টিপস দেওয়া হলো :

নিয়মিত আপডেট

অনেকে ডেটা খরচ করার ভয়ে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপস আপডেট করতে চান না। কিন্তু এটা হতে পারে ডিভাইস ও আপনার তথ্যের গোপনীয়তার জন্য মারাত্নক হুমকি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের কোডে ভুলত্রুটি ধরা পড়ে যা সাইবার হামলাকারীরা লুফে নেয়। ডিভাইস নিয়মিত আপডেট করলে এই ভয় থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়া লেটেস্ট আপডেট অনেক নতুন ফিচারও নিয়ে আসে।


মোবাইল লক করে রাখুন

অনেকেই আছেন যারা মোবাইল লক করেননা।  আপনি যদি আপনার ফোন লক না করেন, তাহলে এর বিপদ টের পাবেন তখনই, যখন আপনার ফোনটি চুরি হয়ে যাবে, কিংবা অন্য কোনোভাবে হারিয়ে যাবে। সেই দুর্দিনের অপেক্ষা না করে এখনই ফোন লক করে রাখুন। আনলক করার জন্য এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসিয়াল রিকগনিশনের মত সুবিধাজনক পদ্ধতি উপলভ্য আছে। সুতরাং কেন আপনি অরক্ষিত থাকবেন? আর হ্যাঁ, পাসওয়ার্ড ও পিন কোড সেট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন কিছু দিবেন যা কেউ অনুমান করতে পারবেনা।

শুধুমাত্র অফিসিয়াল সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য অফিসিয়াল ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যাপ ডাউনলোডের স্থান হচ্ছে গুগল প্লে স্টোর। বাইরে থেকে এপিকে ফাইল এনে ফোনে ইনস্টল করলে নিজের অজান্তেই ভাইরাসের কবলে পড়তে পারেন। গুগল প্লে থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সেটির রিভিউ এবং অ্যাপটি কতবার ইনস্টল করা হয়েছে তা দেখলে এর জনপ্রিয়তা ও সঠিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

এনক্রিপশন ব্যবহার করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনাল ও এক্সটেন্ডেড স্টোরেজ পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে রাখুন। তাহলে পাসওয়ার্ড ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই আপনার ফোনের কোনো ডেটা এক্সেস করতে পারবেনা। এনক্রিপ্ট না করলে ফোনের মেমোরি কার্ড অথবা ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা তথ্য সহজেই বের করে আনা সম্ভব। এনক্রিপশন চালু করতে স্মার্টফোনের সেটিংসের সিক্যুরিটি সেকশন দেখুন।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট

অনেকেই ফোনের মধ্যে নোটস অ্যাপে বিভিন্ন অনলাইন সেবার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড লিখে রাখেন।  এভাবে গোপনীয় ডেটা সংরক্ষণ করলে তা হারিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বরং কোনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ ব্যবহার করুন (যেমন লাস্টপাস)। অথবা গুগল ক্রোমেও পাসওয়ার্ড সেভ করা যায়, যা গুগলের সার্ভারে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করুন

যদি এমন হয়, আপনি একটি অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, তাও এটি ফোনে ইনস্টল করা আছে, তাহলে সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি অ্যাপটি রিমুভ করে ফেলেন। কারণ বিভিন্ন অ্যাপ আপনার ডিভাইসের বিভিন্ন পারমিশন চায়। যত কম অ্যাপ ইনস্টল করবেন, ডিভাইস হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও তত কম থাকবে।


অপ্রয়োজনীয় কানেকশন বন্ধ রাখুন

যখন দরকার হচ্ছেনা তখন ফোনের মোবাইল ডেটা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এসব কানেকশন বন্ধ করে রাখুন। এগুলো যেমন আপনার ফোনের ব্যাটারি বাঁচাবে, তেমনি ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই হ্যাকের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করবে।

ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

January 18, 2019
ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক বিশ্বকে ভাবা যায় না। আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে ইন্টারনেটে ব্যাবহার করছি ও এর সুফল ভোগ করছি।  প্রতিদিন আমরা কত সাইট ভিজিট করি, আমাদের প্রয়জনীয় কনটেন্ট দেখি। আর এই সুযোগে অনলাইন দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চোখে ধূলা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি করছে। এই দুর্বৃত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে ফেলছে, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে, পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে প্রতারণা করছে, আরও অনেক ক্ষতি করছে।  এই ধরণের সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কিছু টিপস নিয়ে আজকের পোস্ট।

কোনো কিছু ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে সাবধান হোন

ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করার সময় আকর্ষিত বিজ্ঞাপনে অনেক কিছুই ডাউনলোডের অফার দেখবেন। এগুলোতে ক্লিক করার আগে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত সাইট ছাড়া অন্য কোনো সাইট থেকে ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। বিভিন্ন সাইটে ক্র্যাক, কিজেন প্রভৃতির কথা বলে ম্যালওয়্যার/ভাইরাস ধরিয়ে দেয়া হয়। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি নির্ভরযোগ্য সাইট ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ডাউনলোড না করেন। আর ডাউনলোডকৃত ফাইল স্ক্যান করার জন্য কোনো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার (যেমন উইন্ডোজ ডিফেন্ডার) ব্যবহার করতে পারেন।

পাসওয়ার্ড নিয়ে সতর্ক 

পাসওয়ার্ড মনে রাখার ভয়ে অনেকেই একাধিক সাইটের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা মোটেই ঠিক না। কারণ, এতে আপনার ঐ পাসওয়ার্ডটি বেহাত হয়ে গেলে আপনার সকল অনলাইন একাউন্ট ঝুঁকিতে পড়বে। নিজে পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ব্রাউজার, যেমন গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, মাইক্রোসফট এজ প্রভৃতিতে বিল্ট-ইন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থাকে। এগুলো অনলাইনে সিঙ্ক্রোনাইজ করে একাধিক ডিভাইসে এক্সেস করা যায়। সুতরাং আপনি চাইলে এসব সেবা ব্যবহার করতে পারেন। এবং অবশ্যই কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন ও প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে লিখে রাখুন। দুটি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপের নাম হচ্ছে লাস্টপাস ও ওয়ানপাসওয়ার্ড।

ব্রাউজারের এড্রেসবার খেয়াল করুন

এমন অনেক আক্রমণকারী আছে, যারা জনপ্রিয় সাইটের মত দেখতে নকল সাইট তৈরি করে সেখানে লোকজনকে নিয়ে লগইন করতে বলে। ভিজিটররা তখন তাতে ইউজারনেম পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করেন। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে অনলাইনে তথ্য দেয়ার আগে ব্রাউজারের এড্রেসবার খেয়াল করুন যে আপনি কোন সাইটে আছেন। এক্ষেত্রেও একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ দারুণ কাজে আসবে। কারণ, একটি সাইটের জন্য আপনার সেইভ করা পাসওয়ার্ড অন্য সাইটে নিজ থেকে সাজেস্ট করেনা। সুতরাং যখন আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করা সাইটের লগইন পেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড না দেখাবে, তখন এড্রেস বার দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি আসলে কোন সাইটে আছেন। এড্রেসের শুরুতে সবুজ রঙে HTTPS থাকাটা খুবই জরুরি। কারণ শুরুতে HTTP (S থাকেনা) লেখা সাইটগুলো ব্রাউজ করার সময় ইন্টারনেট কানেকশন হ্যাক করে তৃতীয়পক্ষ আপনার গোপনীয় তথ্য (পাসওয়ার্ড, ডেবিট কার্ড তথ্য প্রভৃতি) জেনে ফেলতে পারে।

অনলাইন একাউন্টে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন ওয়েবসাইট সেগুলোর ব্যবহারকারীদের ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ছাড়া দ্বিতীয় একটি উপায়ে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এটি ব্যবহার করলে প্রতিবার নতুন ডিভাইস/ব্রাউজারে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেবায় (উদাহরণস্বরূপ জিমেইলে) সাইন ইন করার সময় ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ইনপুট করার পরেও সেখানে আরেকটি পিন কোড দিতে হবে। এই কোডটি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আসে। এগুলোকে সিক্যুরিটি কোডও বলা হয়, যা প্রতিবারই সার্ভার থেকে পাঠানো হয়। ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড নিয়ে নিলেও একই সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটি হ্যাকারের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এভাবেই আপনার একাউন্টটিও হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করুন

বর্তমানে বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার বলতে গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, মজিলা ফায়ারফক্সকে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা যায়। অপেরা ব্রাউজারও ভাল। তবে ইউসি ব্রাউজারের বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইউসি ব্রাউজারের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ এসেছে। এমনকি গুগল প্লে স্টোর থেকে ইউসি ব্রাউজার একবার মুছেও দেয়া হয়েছিল।

ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন

আজকাল বিভিন্ন স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া যায়। এসব ওয়াইফাই হটস্পট ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়

January 18, 2019
ছবি: সংগৃহীত

‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট’ হলো এ বছর বিশ্ব হার্ট দিবসের স্লোগান। এর অন্তর্নিহিত বিষয় হলো সব মানুষকে একীভূত করা ও হার্টের সুস্থতা বিষয়ে একতাবদ্ধ হওয়া। সারা বিশ্বব্যাপী হৃদ্‌রোগ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য এ দিবস পালন করা হয়।

এক সমীক্ষা দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিজনিত রোগের কারণে। হৃৎপিণ্ডে রক্তনালির ও মস্তিষ্কের স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যানসার, এইচআইভি-এইডস ও ম্যালেরিয়া থেকে অনেক বেশি। বর্তমানে ৩১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ধরা হয় এই হার্ট স্টোক  ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে এবং অল্প বয়সে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণও এ হার্ট স্টোক কে দায়ী করা হয়।
স্টোক এর  প্রাথমিক লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দন হওয়া ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। কারও করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে। কখনো কখনো এনজাইনা থেকে হার্ট অ্যাটাক হয়। আবার করোনারি ধমনি যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়, তখনই হার্ট স্টোক হয়। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে। আমাদের এ দেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের এটি হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের দেশের লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫-৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা।

এ ছাড়া এ অঞ্চলে দুর্বল হার্ট বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি একটি পরিচিত হৃদ্‌রোগ, যেখানে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা। সাধারণত ছোটবেলায় বাতজ্বর থেকে পরবর্তী সময়ে বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ হয়ে থাকে। বাতজ্বরজনিত রোগে সাধারণত হার্টের বাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে কিছু রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। আর কিছু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যদি সময়মতো চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে শল্যচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে।

হৃদ্‌রোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণের মধ্যে যদি কারও পরিবারে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শিশুর জন্মগত হৃদ্‌রোগ থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের কিছুই করার থাকে না।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এড়াতে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এ বছর বিশ্ব হার্ট দিবস পালনের উদ্দেশ্য আমাদের হার্টের যত্ন নেওয়ার জন্য কয়েকটা বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। সেগুলো হলো আপনার হার্টকে জানুন, হার্টকে শক্তিশালী করুন ও হার্টকে ভালোবাসুন। যখন আপনার হার্টের অসুখ থাকবে, তখন সবকিছুতে নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে। আপনি ক্রমাগত বৃদ্ধ হতে থাকবেন। আপনি হয়ে যাবেন অনুভূতিহীন।

এই দিবস পালনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে হৃদ্‌রোগ-সম্পর্কিত জ্ঞান দেওয়া হয়, যাতে তারা সময়মতো হার্ট পরীক্ষা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমে নিজেদের নিয়োজিত রাখা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া ও অ্যালকোহল পান থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে নিজেদের হার্টকে সুস্থ ও সচল রাখতে পারে। তাই সাধারণ জনগণকে তাদের অভ্যাস পরিবর্তনে উৎসাহ প্রদান করা ও হৃদ্‌রোগ-সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদান করাই বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

মেসি ভিন্ন গ্রহের মানুষ কেবল স্প্যানিশ লিগেই ৪০০ গোল

January 18, 2019
ছবি: সংগৃহীত

গোল তো আর কম হলো না মেসির ক্যারিয়ারে। এই তো সেদিন লা লিগার ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪০০ গোলের মাইলফলকও ছুঁলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে প্রায় ১৫ বছরের এই ক্যারিয়ারে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৫৭৫ গোল হয়ে গেছে মেসির । সঙ্গে যদি আর্জেন্টিনার জার্সিতে করা আরও ৬৫টি গোল যোগ করেন, তাহলে মেসির ক্যারিয়ারে গোল হয় ৬৪০টি। কিন্তু এত গোল করেও যে গোলের খিদে মিটছে না আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের। লা লিগায় ৪০০তম গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রতিক্রিয়ায় মেসির গোলক্ষুধাটা বোঝা গেছে, ‘খুবই গর্বিত বোধ করছি লিগে ৪০০ গোল করতে পেরে। আশা করছি আরও কিছু গোল করতে পারব।’

সেটা না পারার কোনো কারণ নেই। আগামী জুনে ৩২-এ পড়বেন মেসি। এই বয়সেও লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতাদের দৌড়ে তিনিই এগিয়ে আছেন। এই মৌসুমে ইতিমধ্যে ১৭ গোল হয়ে গেছে লিগে, সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ২২ ম্যাচে ২৩ গোল। এমন ফর্মে থাকলে আরও কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যেতে পারবেন চোখ বুজে। আর খেললে তো গোলসংখ্যা হু হু করেই বাড়বে। তাতে নতুন নতুন মাইলফলক ছোঁবেন, নতুন নতুন রেকর্ডও হবে। তবে ক্যারিয়ারে এত কীর্তি আর এত রেকর্ড গড়েছেন যে এগুলো নিয়ে এখন আর খুব বেশি ভাবেন না আর্জেন্টাইন এই তারকা। তাঁর ভাষায়, ‘আমি এখন আর রেকর্ড, পরিসংখ্যানের দিকে খুব একটা মনোযোগ দেই না। আমি প্রতিদিনের খেলাটার কথাই বেশি ভাবি। গোল করার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ আমার কাছে দলকে জিততে সাহায্য করা। দলের জয়ই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’

এই যে ৪০০ গোল করেছেন লিগে, সেটার জন্যও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ মেসি, ‘আমার সতীর্থদের সাহায্য ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো না।’ তো এই ৪০০ গোলের মধ্যে কোনটা তাঁর কাছে বিশেষ? নিজের গোলের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট করে কোনো একটা বা দুটিকে বেছে নিতে মেসি আগে কখনো রাজি হননি। তবে এবার একটা বিশেষ গোলের কথা ঠিকই বললেন। সেটা ২০০৫ইং সালে আলবাসেতের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে লিগের তাঁর প্রথম গোলটা। প্রথম বলেই এর সঙ্গে অনেক আবেগ জড়িত মেসির, রোনালদিনহো পাস থেকে ওই গোলটা করেছিলাম। ওটা আমি কখনো ভুলব না।’
সত্যিই তো, প্রথম সবকিছুই তো মানুষ আঁকড়ে ধরে রাখে সারাজীবন।

ইনস্টাগ্রামে লাইকের বিশ্ব রেকর্ড গড়লো একটি ডিম

January 18, 2019
একটি ডিমের ছবি, আর কিছু নেই; কিন্তু সেই ছবিটিই গড়েছে বিশ্বরেকর্ড। ইনস্টাগ্রামে সবচেয়ে বেশি লাইক পড়েছে ছবিটিতে। লাইকের সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়ে গেছে ইতোমধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত

এর আগে এই রেকর্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টিভি তারকা কাইলি জেনারের। কাইলি তার সদ্য জন্ম নেয়া কন্যা স্ট্রোমির ছবি পোস্ট করে পেয়েছিলেন এক কোটি ৮০ লাখ লাইক। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি পোস্ট করেছিলেন কাইলি। এতদিন সেটিই ছিল সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া ছবি। কিন্তু এবার এই তারকাকে ছাড়িয়ে গেছে সাধারণ একটি ডিম এর ছবি।

‘ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এগ’ নামের একটি একাউন্ট থেকে গত ৪ জানুয়ারি ২০১৯ইং  ডিমের ছবিটি পোস্ট করা হয়। তার সাথে লিখে দেওয়া হয় - ‘আসুন আমরা সবাই মিলে ডিমটিকে নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ি’। এর মাধ্যমে সকলে অনুরোধ করা হয় ছবিটি লাইক ও শেয়ার করতে। সবাই যে দারুণভাবে সাড়া দিয়েছে এই অনুরোধে তা তো বুজাই যাচ্ছে লাইক এর সংখ্যা থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাজফিড জানিয়েছে, গত ১৩ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় ছবিটি কাইলি জেনারের ছবির লাইক সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। ছবিটিতে প্রতি ঘণ্টায় লাইক পড়েছে এক লাখ। তাই দ্রুতই ছবিটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেছে ডিম এর ছবিটি।

যে অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি আপলোড করা হয়েছে তার ব্যবহারকারীর পরিচয় হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ব্রিটেনের মফস্বল এলাকার একটি মুরগি’। ওই অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, ডিমটির নাম ‘ইউজিন’। আরো বলা হয়েছে, ‘ডিমের ক্ষমতা অনেক’ তাই ডিমটি বিশ্বরেকর্ড গড়তে পেরেছে।

এদিকে বিশ্ব রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন টিভি তারকা কাইলি জেনার। তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন কি না তা জানা না গেলেও একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে তাতে দেখা যাচ্ছে জেনার রাস্তার ওপর একটি ডিম ভেঙে ফেলছেন।

Thursday, January 17, 2019

গরম কালের চেয়ে শীতকালে হার্ট অ্যাটাক ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশী

January 17, 2019
শীতকালীন সময়ে  হার্ট অ্যাটাক ও মৃত্যুর ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে–স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই হৃদরোগের সংখ্যার প্রকাশ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে জানানো হয়।
ছবি: সংগৃহীত

শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীন তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ‘কার্ডিওভাস্কুলার’ অর্থাৎ হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য শরীরের অভ্যন্তরীন তাপামাত্রা কমে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কারণ, ঠান্ডার সংস্পর্শে আসলে বুক ব্যথা শুরু হতে পারে। হৃদরোগের আক্রান্ত কিংবা আগে হৃদরোগের চিকিৎসা করিয়েছেন এমন প্রতিটি মানুষের জন্য শীতকাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে শীতকালে বুকে যে কোনো ধরনের অস্বস্তি, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, ঘাড়, বাহু, চোয়াল ও কাঁধে ব্যথা হওয়া এবং দম নিতে অসুবিধা হওয়াকে মোটেও হেলাফেলা করা যাবে না। কারণ এগুলো হল হৃদযন্ত্রের কার্য সম্পাদনে ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

ভারতের নয়া দিল্লির দয়ার্কাতে অবস্থিত ভেঙ্কাটেশ্বর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অনিল ধাল বলেন, “শীতকালে হৃদযন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে রক্তচাপ বৃদ্ধি। শীতল আবহাওয়ায় ধমনী সংকুচিত হয়ে থাকার কারণে তা দিয়ে রক্ত সরবরাহ করতে হৃদযন্ত্রকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। শীতকালে রক্তে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিনের মাত্রাও বেড়ে যায়, ফলে ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায় অনেক বেশী।”
“শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রা কমে যাওয়াকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘হাইপোথামিয়া’ যা অনেক হার্ট অ্যাটাকের কারণ।”

বৃদ্ধ এবং যাদের হৃদযন্ত্রে সমস্যা আছে তাদের হৃদযন্ত্রের পক্ষে এই বাড়তি চাপ সহ্য করা কঠিন হয়ে পরে ফলে বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের শঙ্কা।
এছাড়াও, শীতকালে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত ওঠানামা করে। যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

হার্ট কেয়ার ফাইন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া এর সভাপতি ডা. কে.কে. আগারওয়াল বলেন, “প্রত্যেক হৃদরোগীর উচিত শীতকালে হৃদযন্ত্র এবং মানসিক চাপ বিষয়ক পরীক্ষা করানো। খাওয়ায় অনিয়ম, রাত জাগা, সময়মতো ওষুধ সেবন না করা এবং ধূপমান বা মদ্যপানের কারণেই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে শীত কালে ।”

করণীয়

* শরীরচর্চা স্বাস্থ্যের জন্য সবসময়ই ভালো, আর হৃদরোগীদের জন্য তা অবশ্য কর্তব্য। তবে শীতের সকালে তীব্র ঠাণ্ডায় হাঁটতে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বরং বিকালে কিংবা সন্ধ্যায় সূর্যের আলো ফুরিয়ে যাওয়া আগে হাঁটতে যাওয়া ভালো।

* শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ঘরের ভেতরে বেশি সময় পার করা উচিত। অন্যান্য শীতের কাপড়ের পাশাপাশি হাত ও পায়ে মোজা পরতে হবে। গোসল করতে হবে গরম পানি দিয়ে।

* একবারে ভারী আহার সব বয়সেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ ফেলে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারও কম পরিমাণে নিয়ে কয়েকবারে খেতে হবে। পানি ও লবণ গ্রহণের মাত্রার উপর নজর রাখতে হবে।

* যেকোনো বিপদ-আপদের জন্য পুরো পরিবারকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বুকে অস্বস্তি, ঘাম, হাঁসফাস অনুভুতি, ঘাড়, কাঁধ কিংবা চোয়ালে ব্যথা, পায়ের তলায় ঘাম ইত্যাদি সমস্যাকে অবহেলা করা যাবে না। একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

মোবাইল ফোনের ডাটা প্যাকেজ এর সাত দিনের নিচের সকল প্যাকেজ বন্ধ করে দিচ্ছে সরকার

January 17, 2019
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২৭ই জানুয়ারী পর থেকে বন্ধ হচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্যাকেজ, তিন দিনের প্যাকেজ, ৫ দিনের প্যাকেজসহ সবগুলো ছোট ডাটা প্যাকেজ। এ সকল ছোট প্যাকেজ গুলোতে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা। ২৭ জানুয়ারির পর থেকে ৭ দিনের নিচে টকটাইম বা ইন্টারনেটের আর কোনো প্যাকেজ থাকবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসি সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। এটা মানার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে বিটিআরসি।

গতকাল বুধবার টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা জানিয়েছেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

টেলিযোগাযোগ খাতে ২০১৮ সাল অর্জন ও সফলতার বছর ছিল উল্লেখ করে জহুরুল হক বলেন, চলতি বছরে সেবার মান উন্নত করার ওপরই জোর দিচ্ছেন। টিআরএনবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ছাড়াও দুই জন কমিশনার, মহাপরিচালক, পরিচালক ও কমিশন সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোবাইল ফোনের ছোট প্যাকেজগুলোতে  প্রতারিত হয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা। ওই প্যাকেজগুলো কম টাকায় দিলেও ইন্টারনেটসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো গ্রাহকরা শেষ করতে পারতেন না। ফলে তার বেঁচে যাওয়া ইন্টারনেট নষ্ট হয়ে যেত। আবার তাকে কিনতে হতো। অন্তত ৭ দিনের প্যাকেজ থাকলেও গ্রাহক হিসেব করে খরচ করতে পারেন।

বাংলাদেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যা রয়েছে কেবল গ্রামীণফোনের। তাদের গ্রাহক ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ। জহুরুল হক বলেছেন, এসএমপি হয়ে গেলে সবাই ব্যবসা করতে পারবে। কারও গ্রাহক ৪০ শতাংশের বেশি হবে না। আগামী কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

জানা গেছে, বার্ষিক রাজস্ব আয়ের দিক দিয়ে গ্রামীণফোন আরও এগিয়ে আছে। ২০১৭ সালে বাজারের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ শতাংশ পেয়েছে তারা। বাজারে একক কর্তৃত্বের পাশাপাশি সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, বাজারের সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ’, অধিগ্রহণ বা একীভূতকরণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে এসএমপি প্রবিধানমালায়। এই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে বিটিআরসির হাতে।

চলচিত্রের নায়িকারা সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপত্র কিনলেন

January 17, 2019
ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন বেশ কয়েকজন চলচিত্র নায়িকা। ১৫ই জানুয়ারী ২০১৯ তারিখ সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে দলটি। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সূত্রে পাওয়া খবরে  এ পর্যন্ত তারকাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, শমী কায়সার, সুবর্ণা মুস্তাফা, ফাল্গুনী হামিদ, তারিন, সারাহ বেগম কবরী, সুজাতা, অঞ্জনা, দিলারা, অরুণা বিশ্বাস, রোকেয়া প্রাচী, শাহনূর।
আওয়ামী লীগের প্রতিটি মনোনয়নপত্রের জন্য নেওয়া হচ্ছে ত্রিশ হাজার টাকা।

বাংলাদেশে ৩৫০ আসনে জাতীয় সংসদে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি আসন পাচ্ছে।

কী হইতেছে তাবলীগ জামাতের ভিতরে? সমস্যার সমাধান হবে কি ভারতে?

January 17, 2019
সরকার তাবলীগ জামাতের বিভক্তি মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য সংগঠনটির দুই গ্রুপের প্রতিনিধিদের ভারতের দেওবন্দে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।এই উপমহাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভারতের দেওবন্দে ফতোয়ার জন্য পাঠানোর এই উদ্যোগকে সরকারের পক্ষ থেকে তাবলীগ জামাতকে ঐক্যবদ্ধ রাখার শেষ চেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
 ছবি: সংগৃহীত

তাবলীগ জামাতের মধ্যে বিভক্তির কারণে এবার বিশ্ব ইজতেমা নির্ধারিত সময়ে হতে পারেনি এবং অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। তাবলীগ জামাতের নেতা ভারতীয় সাদ কান্দালভিকে নিয়ে বাংলাদেশে সংগঠনটির প্রতিপক্ষ দুটি গোষ্ঠীই যার যার অবস্থানে অনড় রয়েছে। তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপ এবার আলাদা আলাদাভাবে ঢাকার কাছে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করার তারিখ ঠিক করেছিল।

সেজন্য টঙ্গীর সেই ইজতেমা মাঠের দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে গত ২০১৮ইং সালের ১লা   ডিসেম্বর। সেই ঘটনার পরে সরকার তাবলীগের দু'টি গোষ্ঠীর সাথে বৈঠক করেছিল এবং সেই বৈঠকে ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছিল।

"সাদ (কান্দালভি) কিছু কথা বলেছেন। এটা আলেম ওলামা সমাজ মনে করেন, সেটা কোরআন ও সুন্না বিরোধী। আবার সাদ সাহেবের পক্ষের লোকেরা বলছেন, উনি সেটাকে রুজু করেছেন, মানে প্রত্যাহার করেছেন। তো এখন দেওবন্দের কর্তৃপক্ষ এটাকে অর্থ্যাৎ এই রুজু করাটাকে গ্রহণ করেছেন কিনা বা তা কার্যকর হয়েছে কিনা -এটা দেখার জন্য বাংলাদেশ এর ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে তাবলীগের দুই পক্ষ দেওবন্দ যাবে।" 

তাবলীগে বিরোধ মেটানোর জন্য কয়েক দিনের মধ্যে ভারতের দেওবন্দে ফতোয়া নিতে যারা যচ্ছেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিজেই সেই দলের নেতৃত্ব দেবেন।কিন্তু বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত এর সাথে জড়িতরা আলাদা আলাদাভাবে কাজ করছেন।
ভারতের সাদ কান্দালভিকে নিয়েই এই যে বিভক্তি, সেই সাদ কান্দালভির পক্ষের অংশের আশরাফ আলী অভিযোগ করেছেন, হেফাজতে ইসলাম এখন তাবলীগ জামাতকেও নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় সেখানে রাজনীতি ঢুকে এই বিভক্তি এসেছে।

"হেফাজতে ইসলামের সাথে আমাদের তাবলীগেরই একটা অংশের লিঁয়াজো হয়ে যাওয়ার কারণে বাইরের লোক ঢুকে গেছে। আর সেকারণে একটা রাজনৈতিক স্টাইল এখানে ঢুকে গেছে। "আশরাফ আলী আরো বলেছেন, "এখন আমাদের দুই অংশের মধ্যে একেবারে নীতিগত পার্থক্য হয়ে গেছে। এটা নয় যে শুধু মনমালিন্য হয়েছে এখানে মত পার্থক্য ও তৈরী হয়েছে। "সাদ কান্দালভি তাবলীগ জামাতে কিছু সংস্কারের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "ধর্মীয় শিক্ষা বা ধমীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত হবে না "। তাঁর এসব বক্তব্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মতো বাংলাদেশেও তাবলীগ জামাত বিভক্ত হয়ে পড়েছে  তাবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে নিয়ে বিরোধও এই বিভক্তির অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন।

তবে ভারতের দেওবন্দে গিয়ে যে সমঝোতা হয়ে যাবে, সেটা তাবলীগের দুই পক্ষের এই নেতারা জোর দিয়ে বলতে পারছেন না।ধর্ম প্রতিমন্ত্রীও বলছেন তারা একটা শেষ চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে নিকৃষ্ট নির্বাচন হয়েছে : মাইলাম

January 17, 2019
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ও রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বলেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হলো ২০১৮ ইং  সালের ৩০ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ এর জাতীয় নির্বাচন। আসল কথা হলো ক্ষমতাসীন সরকার ‘নির্বাচনের ফলাফল জোর করে তাদের পক্ষে নিয়েছে, আর যারা নিজেদের সরকার বলে দাবি করছে তারা গণতান্ত্রিক সরকার নয়।
 ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন, ভঙ্গুর গণতন্ত্র, ক্ষমতাসীন  সরকারের ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারিতাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দ্য ফ্রাইডে টাইমসের চলতি সংখ্যায় লেখা এক বিশেষ নিবন্ধে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন মাইলাম।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ এবং কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে নিবন্ধে কড়া সমালোচনা করে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইলাম বলেন, তাতে বিশ্বশান্তিরক্ষা মিশনে বাহিনীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং প্রশ্ন তৈরি হবে।

জাতীয় নির্বাচনের ভোটের চিত্র তুলে ধরে মাইলাম বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রার্থীরা যেন তাদের আসনগুলোতে কোনো রকমের প্রচার-প্রচারণা না চালায়, বাইরে না যায়, সে জন্য হুমকি আর ভয় দেখানো হয়েছিল। মিথ্যা মামলায় অনেককে আটক করা হয়। অনেকের নামে আগেই আদালতে প্রহসনের মামলা দায়ের করা ছিল। কিছুসংখ্যক মানুষকে গুম করা হয়।

গ্রামে মহিলা ভোটারদের ভোট না দিতে ভয় দেখিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর যারা ভোট দিতে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে তাদেরকে হুমকি দিয়ে কিংবা পুলিশ দিয়ে বাধা দেয়া হয়েছে। আর কেন্দ্রের ভেতরে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজন ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে। আমার এক বন্ধু জানিয়েছে, ‘সে যে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিল তার সবগুলো ভোট কাস্ট করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষে’।

পুলিশকে এবং তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি যেটা বলি এ রকম নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের কোনো মানুষই বিশ্বাস করবে না। এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও না। বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থকও এ ভোটের ফলকে অতিরঞ্জন মনে করে যদিও তারা মুখ ফুটে এ কথা বলার সাহস পাবে না।’

মাইলাম লিখেছেন, ‘যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা জানতেন, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে, কয়েকদিন আগে এবং নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে তা ছিল দলকে জেতানোর পরিকল্পনা। তাই পর্যবেক্ষকেরা হতবাক হননি। এটাও স্পষ্ট ছিল যে, আওয়ামী লীগ কী করবে তা ছক করে রেখেছে। তবে সেনাবাহিনী নির্বাচনে কেমন ভূমিকা রাখবে সেটা নিয়ে কারো আগাম ধারণা ছিল না।

আমার ধারণা, নির্ধারিত সময়েরও দুই সপ্তাহ পর সেনাবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমাদের মধ্যে এখনো যাদের স্মৃতি উজ্জ্বল তাদের মনে আছে, অতীতে গণতন্ত্রের জন্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল আশাব্যঞ্জক। ধারণা করেছিলাম তারা মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং নির্ভুল গণনায় সহায়তা করবে। আমরা যারা সেনাবাহিনীকে নিয়ে আশা করেছিলাম যে, এবারো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে তারা গভীরভাবে হতাশ হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘কোনো বিরোধী দল ছাড়াই আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে একদলের শাসন কায়েম করে। এরপরই যুক্তি উঠে এ সরকার অবৈধ, নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা যেতে পারে। বিএনপি নির্বাচন বয়কট না করলে সরকার জয়ের কোনো সুযোগ পেত না এ রকম কথাও শুনা যায়।’

নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে উল্লেখ করে মাইলাম আরো বলেন, ‘ভোট চুরির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনের অবস্থাটা কেমন তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপের উদাহরণ টেনেই বুঝিয়ে দেয়া যায়। ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি ক্লাসরুমে পাঠ নিতে বসে আছে ১০-১১ বছর বয়সী ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী। কাসে এসে শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে লিখলেন ২+২=৫ এবং সব ছাত্রকে নির্দেশ দিলেন এটাই সত্য, মানতে হবে।
একজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালো এবং বলল, না- এটা সত্য নয়। আমরা সবাই জানি ২+২=৪। অবশেষে প্রতিবাদ করায় ছাত্রটিকে শাস্তি দেয়া হয় এবং হত্যা করা হয়। তারপর শিক্ষক আবার পাঠে মন দিলেন এবং উচ্চস্বরে পড়া শুরু করলেন ২+২=৫। শেষ দিকে দেখা যায় ভুল লেখা থেকে পেন্সিল একবার সরে আসে এবং হিসাবে পাঁচের বদলে শিক্ষার্থীরা সেটাকে চার লেখা শুরু করে।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার বার্তাটা তুলনা করা যায় ব্রিটিশ উপন্যাসিক এবং সাংবাদিক জর্জ ওরওয়েলের সেই বার্তার সাথে। বার্তাটা এমন, সরকার নিজের ইচ্ছেমতো করে কোনটা সত্য সে ঘোষণা দেয় কিন্তু দিন শেষে মানুষ সেটাকে আসলে মেনে নেয় না। তারা প্রকৃত সত্যের ছাঁকুনি দিয়েই সব কিছু বিচার করে। প্রকৃত কথা হলো নির্বাচনের ফলাফল (৩০ ডিসেম্বরের ভোট) চুরি করা হয়েছে। আর যারা নিজেকে সরকার দাবি করছে তারা অবৈধ।’