Saturday, March 2, 2019

আটক পাইলটকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

বুধবার বিমান লড়াইয়ের সময় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তার বিমান বিধ্বস্ত হলে আহত অবস্থায় আটক হন ভারতের বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার আভিনন্দন ভার্তামান।

সাথে সাথে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে ভারতে তীব্র জনমত তৈরি হয়। পুলাওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দাবি ছাপিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হতে থাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আটক পাইলটকে পরের দিনই অর্থাৎ শুক্রবার ভারতের হাতে ফেরত দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। সন্ধ্যার পর উইং কমান্ডার ভার্তামানকে পাঞ্জাবের ওয়াগা সীমান্তে ভারতের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তান টিভিতে উইং কমান্ডার ভার্তামান বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আচরণে তিনি 'খুবই চমৎকৃত' হয়েছেন।

আটক পাইলটকে মুক্তি দেওয়ায় তার সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের বিভিন্ন মহলেও অভিনন্দিত হয়েছেন। কিন্তু এই পাইলটের মুক্তির মধ্যে দিয়ে কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সর্ব-সাম্প্রতিক সংকটের নিরসন হবে এমন ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি।

কাশ্মীরে সীমান্ত এলাকার দুধারে এখনও দুই দেশের হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

ভারত জুড়ে উৎসব

শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ভারতে ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেয় পাকিস্তানী রেঞ্জার্স।

তারপরেই সারা ভারত জুড়ে শুরু হয়ে যায় উৎসব, বাজি পটকা ফাটানো।

সকাল থেকেই ভারতের নানা শহরে চলেছে আবির খেলা, মিষ্টি খাওয়ানো আর বাজি ফাটানো।

কে জিতলেন - ইমরান না মোদী ?
উইং কমান্ডার ভার্থমানকে মুক্তি দেওয়ার কথা যখন বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তখন থেকেই ভারতে টুইটার সহ সামাজিক গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত।

খোলাখুলি ইমরান খানের প্রশংসা করছেন অনেকে। অনেকে লিখছেন মি. মোদীর দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের কারণেই পাকিস্তান বিনা শর্তে পাইলটকে ফেরত দিচ্ছে।

ফেসবুক টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যম হোক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো যোগাযোগ মাধ্যম - সব মাধ্যমেই গত ৪-৫ দিন ধরে চর্চার বিষয় মূলত একটাই - ভারত পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা।

মে যখন পাকিস্তানের সীমানায় ঢুকে ভারতীয় বিমান থেকে বোমাবর্ষণ হল, সেইদিনটা ছিল নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশের দিন।

পরের দিন আবার ভারতের আকাশ সীমা পার করে পাকিস্তানী বিমান ঢুকে পড়ায় সেই উচ্ছ্বাসে ভাটা পরেছিল একটু।

আর উত্তেজনাময় তৃতীয় দিন, বৃহস্পতিবার যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করলেন যে গ্রেপ্তার হওয়া পাইলটকে মুক্তি দেবেন তারা, সেদিন পাল্লাটা যে কোন পক্ষে ভারী, সেটা গবেষণার বিষয়।

এক ফেসবুক ব্যবহারকারী অমিতাভ আইচ লিখেছেন - '১৯৮১ সালে যখন পাকিস্তানে খেলতে যায় ভারত তখন রিভার্স সুইং সম্বন্ধে কোনও ধারণা ছিল না। ইমরান খানেরই আবিষ্কার ওটা। গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের মতো ব্যাটসম্যান, যাকে ফাস্ট বোলিং সামলানোর অন্যতম সেরা বলে মনে করা হত, তিনি বারেবারেই ওই রিভার্স সুইংয়ে আউট হয়ে যাচ্ছিলেন। তার ক্যারিয়ারই একরকম শেষ হয়ে গিয়েছিল ইমরানের ওই বলে।'

মি আইচ বিবিসিকে বলেন, 'গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের ক্যারিয়ারই ইমরানের খানের রিভার্স সুইং আর ইনডীপারের সামনে প্রায় হারিয়ে গেল, তাহলে নরেন্দ্র মোদীর কী হবে, সেটাই ভাবছি।"

নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির পক্ষ নিয়ে নিয়মিতই ফেসবুক পোস্ট করেন বিজেপির এক নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।

তার কথায়, "পাকিস্তান নানা উগ্রপন্থী সংগঠনকে দিয়ে একটা ইয়র্কার দিতে গিয়েছিলেন কিন্তু নরেন্দ্র মোদী নিঃসন্দেহে একটা ছক্কা মেরেছেন। আমাদের কিছু সৈনিক মারা গেছেন ঠিকই, কিন্তু দেশ একত্রিত হয়ে গেছে। ১৯৪৭ এর পর থেকে এতবড় চাপ পাকিস্তানের ওপরে আর কেউ তৈরি করতে পারে নি।"

সামাজিক মাধ্যমে খুবই অ্যাক্টিভ কলকাতার অধ্যাপক গর্গ চ্যাটার্জী। তিনি অবশ্য কে হারল কে জিতল তার বাইরে গিয়ে একটু অন্যভাবে দেখতে চান এই ঘটনাক্রমে।

তিনি বলেন, "একটা যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই সাধারণ মানুষই হারে। তবে এক্ষেত্রে বলব যে পাকিস্তানে বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশই যখন একজন ভারতীয় বৈমানিককে ছেড়ে দেয়, তাতে বলাই যায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান। কারণ তারপরে ভারতের বাহিনীও কিন্তু বলেছে এরপরে আর আগ্রাসন না হলে তারাও আর কিছু করবে না ।"

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাকলি সেনগুপ্তও নজর রেখেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মতামতগুলির ওপরে।

তিনি বলছেন, "ইমরান খানের ঘোষণার পরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ভাবে সেটাকে ব্যাখ্যা করছেন মানুষ। এইরকম দুটো দেশের মধ্যে যখন একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকে, তার মধ্যেই যদি কোনও পক্ষ একটা শান্তির বার্তা দেয়, তাহলে তাদের একটা আশঙ্কা থাকেই যাতে অপর পক্ষ সেই বার্তাটাকে তাদের দুর্বলতা হিসাবে না দেখে। আবার অন্য দেশটিও ব্যাখ্যা করতে পারে যে তাদের কাছে মাথা নোয়াতে হল অন্য দেশটিকে।"

"আমার মতে এভাবে বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করাই উচিত নয়। কারণ যখন ঐতিহাসিকভাবেই বৈরিতা আছে এমন দুটো দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন করাটাই সবথেকে জরুরী। প্রয়োজন আলোচনায় বসার," বলছিলেন মিজ সেনগুপ্ত।

সামাজিক মাধ্যমে যেমন নানা জন নানা মত প্রকাশ করছেন ভারত পাকিস্তানের মধ্যেকার এই কদিনের উত্তেজনা নিয়ে, তেমনই চলছে বেশ কিছু হ্যাশট্যাগও - হাজার হাজার টুইট করছেন সেখানে মানুষ - কেউ আবার নানা ধরণের কার্টুনও শেয়ার করছেন।

সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে ভারতের পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধ না হলেও ফেসবুক টুইটারে রীতিমতো যুদ্ধই বেধে গেছে ভারত পাকিস্তানের দুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর ইমরান খানের পক্ষে এবং বিপক্ষে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আত্মীয় বা বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন যেসব ক্রিকেটাররা

ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেট ইতিহাসে ক্রিকেটারদের নিয়ে ক্রিকেট প্রেমিভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। শুধু খেলা নয় ক্রিকেটারদের পারিবারিক জীবন নিয়ে ভক্তরা কথা বলে। ক্রিকেটারদের ভালো-খারাপ দিকগুলো সবই ক্রিকেটভক্তরা আলোচনা করে। আর গল্পটা যদি হয় ক্রিকেটারের বান্ধবী বা স্ত্রী নিয়ে তাহলে তো কথাই নেই। এমন কিছু ক্রিকেটার আছেন যারা বিয়ে করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।

এদের কেউ আলোচনায় এসেছেন আত্মীয়কে বিয়ে করে। আবার কেউ সমালোচিত হয়েছেন বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করার কারণে। উপমহাদেশে এমন পাঁচ ক্রিকেটার আছেন যারা আত্মীয় বা বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করেছেন।

আসুন জেনে নেয়া যাক সেইসব ক্রিকেটারদের গল্প…

শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান) : পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি তার কাজিন নাদিয়াকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো না। শহীদ আফ্রিদির বাবা তাদের বিয়ে ঠিক করেন। এই সুখী দম্পতির দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

উপুল থারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) : উপুল থারাঙ্গার আগে দিলশানের সাথে বিয়ে হয় নীলঙ্কের। শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা বিয়ে করেছেন নীলঙ্ককে। তবে এরচেয়ে বড় খবর এই নীলঙ্ক আরেক লঙ্কান ক্রিকেটারের সাবেক স্ত্রী। তিলকারত্নে দিলশানের সাথে তার প্রথম বিয়ে হয়। জনশ্রুতি আছে থারাঙ্গা ও নীলঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক থাকার কারণেই দিলশানের সাথে তার ডিভোর্স হয়ে যায়।

মুরালি বিজয় (ভারত) : মুরালি বিজয়ের সাথে সম্পর্কের কথা জানার পরই নিকিতাকে ডিভোর্স দেন দিনেশ কার্তিক। ভারত ওপেনার মুরালি বিজয় ও নিকিতা সুখেই সংসার করে যাচ্ছেন। তবে এর জন্য আরেকটি সংসার ভেঙেছেন এ দুজন। এটা নিকিতার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে তার বিয়ে হয় ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিকের সাথে। বিজয়ের সাথে সম্পর্ক আছে জেনেই নিকিতাকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন কার্তিক।

সাঈদ আনোয়ার (পাকিস্তান) : সাঈদ আনোয়ার ও তার স্ত্রী লুবনা। শহীদ আফ্রিদির মতো পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার সাঈদ আনোয়ার তার কাজিন লুবনার সাথে ১৯৯৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পেশায় ডাক্তার লুবনা ও পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সাঈদ আনোয়ারের একটি কন্যা সন্তান ছিলো। বিসবাহ নামের ছোট্ট শিশুটি ২০০১ সালে মারা যায়।

বীরেন্দ্রর শেবাগ (ভারত) : বীরেন্দর শেবাগ ও তার স্ত্রী আরতি। বীরেন্দর শেবাগ ও আরতি আহলাওয়াত বিয়ে করেছেন ১২ বছর হয়। তাদের দুটি সন্তান আছে। বিয়ের বয়স ১২ বছর হলেও তাদের প্রেমের গল্প ১৫ বছরের। বিয়ের আগে তিন বছর চুটিয়ে প্রেম করেন শেবাগ-আরতি। সাবেক ভারত ওপেনারের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন আরতি। তাদের পরিচয়টা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। শেবাগের কাজিন আরতির খালাকে বিয়ে করেন।

ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন সাত বছর বয়সী শেবাগ ও পাঁচ বছর বয়সী আরতি। আত্মীয়তার শুরুর সেই অনুষ্ঠানে শেবাগ-আরতির মাঝে বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের ১৪ বছর পর আরতিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন শেবাগ। রাজি হয়ে যান আরতি। তিন বছর প্রেমের পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

সূত্র : বিডি নিউজ ওয়েব