Tuesday, January 22, 2019

মুসলিম বিবাহ আইন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতবর্ষে মুসলিম আইন সৃষ্টি হয়েছে মূলতঃ কোরআন থেকে। তবে নির্দেশ গুলি সংশোধিত হয়েছে বিধানসভা ও লোকসভায় গৃহীত বিল এবং কোর্টের বিভিন্ন রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে।

মুসলিম আইন (শরিয়ত) অনুসারে বিবাহ বা নিকা হল পরস্পরের উপভোগের জন্য এবং বৈধ সন্তান উত্পাদনের জন্য স্বেচ্ছায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া।

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
মুসলিম বিবাহ হতে গেলে এক পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসতে হবে এবং অন্য পক্ষকে তাতে সন্মতি জানাতে হবে। সন্মতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে না এবং এই সন্মতি কোনও শর্ত-সাপেক্ষ হওয়া চলবে না। উপরোন্তু এই সন্মতি আদায় করার জন্য কোনও রকম চাপ সৃষ্টি, মিথ্যার প্রশ্রয় নেওয়া বা কোনোরূপ প্রভাব খাটানো চলবে না। একই বৈঠকে প্রস্তাব ও সন্মতিদান সম্পন্ন করতে হবে এবং এগুলি করতে হবে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে। সাক্ষী থাকবে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন নারী (সুন্নি আইন অনুসারে)। নারীসাক্ষীদের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের হতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমনা ও মুসলিম। শিয়া আইনে বিবাহের সময় সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা নেই।

মুসলিম বিবাহ আইনে নাবালক ও অসুস্থমনা ব্যক্তিদের বিবাহ হওয়া সম্ভব, কিন্তু সেই ক্ষেত্রে অভিভাবক বা কোনও প্রতিনিধি কর্তৃক এই বিবাহ-চুক্তি সম্পাদিত হবে। নাবালকরা প্রাপ্ত-বয়স্ক হবার পর চাইলে এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
এই বিবাহের অধিকার ও দায়ের মধ্যে রয়েছে বিবাহের আগে, বিবাহের সময়ে অথবা বিবাহের পরে উভয়পক্ষের মধ্যে যে বোঝাপড়া হবে, তা যদি মুসলিম আইন বা সাধারণ নীতির পরিপন্থী না হয়, তাহলে সেই শর্ত বাধ্যতামূলক হবে।

মুসলিম বিবাহ আইনে দেনমোহরের ব্যবস্থা আছে। দেনমোহরে একটি অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট করা হয়, যেই পরিমান অর্থ স্ত্রীকে দিতে স্বামী বাধ্য থাকবে। বিবাহের সময়ে বা পূর্বে এই দেনমোহর স্থির হয়। অবশ্য পরেও করা যেতে পারে। দেনমোহরকে বিবাহ-চুক্তির মূল্য বা শর্ত বলা চলে না (মুসলিম বিবাহে কোনও শর্ত থাকে না)। লাহোর ও এলাহাবাদ হাইকোর্ট দেনমোহরকে স্ত্রীর মর্যাদাস্বরূপ বলে বিচার করেছেন - অর্থাৎ এটি হল আইনগত স্ত্রীর প্রাপ্য মার্যাদা। বিবাহ-চুক্তিতে যদি লেখাও থাকে দেনমোহর দিতে হবে না - সেক্ষেত্রেও দেনমোহর স্ত্রীর প্রাপ্য। অন্যপক্ষে কলকাতা হাইকোর্টের মতে, দেনমোহর হল সম্পত্তির মূল্য।

মুসলিম বিবাহ আইনে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ। সেই আত্মীয়তা রক্ত-সম্পর্কিত হতে পারে (যেমন, পুরুষের ক্ষেত্রে তার মাতা, মাতামহী, কন্যা, পৌত্রী, ইত্যাদি), কিংবা অন্য কোন নিকট আত্মীয় হতে পারে (যেমন, পুরুষের ক্ষেত্রে শাশুড়ি, স্ত্রীর পূর্ববিবাহজাত কন্যা, বিমাতা, ইত্যাদি)।

এই আইন অনুসারে পুরুষরা একসঙ্গে চারটি বিবাহ করতে পারে। কিন্তু নারীদের পক্ষে একই সঙ্গে একাধিক স্বামী থাকা নিষিদ্ধ।
মুসলিম বিবাহ আইনে অনেক অবৈধ বিবাহ বৈধ হয়ে যায় যখন অবৈধতার কারণ লুপ্ত হয়। যেমন, চারটি স্ত্রী বর্তমান থাকলেও কেউ যদি আবার বিবাহ করে, তাহলে সেই বিবাহ অবৈধ। কিন্তু সে যদি একজন স্ত্রীকে তালাক দেয় (বা পরিত্যাগ করে), তাহলে তার অবৈধ বিবাহটি বৈধ হয়ে যায়। কোনও নারীর ইজ্জতের সময়কালে তাকে বিবাহ করলে সেই বিবাহ অবৈধ, আবার ইজ্জতের সময়ে পার হয়ে গেলেই সেটি বৈধ বলে গণ্য হবে।

(ইজ্জত: স্বামীর মৃত্যুর পর বা বিবাহ-বিচ্ছেদের পর মুসলিম নারী যে-সময়ের জন্য [মোটামুটিভাবে তিনমাস বা তার অধিক] একা থাকে)।
সুন্নি পুরুষ যদি কোনও মুসলিম নারী বা কিতাবিয়াকে (অর্থাৎ , যে-ধর্মে ঈশ্বর-প্রদত্ত বাণী পুস্তকাকারে [বাইবেল, কোরান, ইত্যাদি] আছে - সেই ধর্মাবলম্বীকে) বিবাহ করে - তাহলে সুন্নি আইন অনুসারে সেটি বৈধ হবে। কিন্তু যে ধর্মে পৌত্তলিকতা আছে (যেমন, হিন্দু ধর্ম) - সেই ধর্মাবলম্বী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। করলে, সেটিকে নিয়ম-বহির্ভূত বা অনিয়মিত বলে গণ্য করা হবে। শিয়া আইনে এটি শুধু অনিয়মিত নয়, এটি হবে অবৈধ। সুন্নি ও শিয়া - কোন আইনেই মুসলিম নারী কোনও অমুসলিম পুরুষকে (সে কিতাবিয়া হলেও) বৈধভাবে বিবাহ করতে পারে না। সুন্নি আইন অনুসারে সেটি হবে নিয়ম-বহির্ভূত বিবাহ। শিয়া আইন অনুসারে সেটি হবে অবৈধ।

যদিও কোরআন ও হাদীছে এ-বিষয়ে সমর্থন নেই, তবুও অন্যান্য চুক্তির মত বিবাহ-চুক্তিও যাতে ভঙ্গ করা যায় - তার ব্যবস্থা ভারতবর্ষের মুসলিম আইনে রয়েছে।  ১৯৩৯ সাল অনুসারে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে নারীর পক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে যাবার কয়েকটি শর্ত আছে:
১) চার বছর ধরে স্বামী নিখোঁজ।
২) দুই বছর ধরে স্বামী তাকে অবহেলা করছে বা ভরণপোষণ দেয়নি।
৩) স্বামী সাত বছর বা তার অধিক কালের জন্য কারাদণ্ড পেয়েছে।
৪) তিন বছর ধরে কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দাম্পত্য কর্তব্য করেনি।
৫)দুই বছর ধরে স্বামীর মাথা খারাপ কিংবা কুষ্ঠরোগগ্রস্থ বা বাজে যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত।
৬) বিবাহের সময় স্বামী অক্ষম ছিল এবং এখনও আছে।
৭) ১৫ বছর বয়স হবার আগে যে বিবাহ হয়েছিল, ১৮ বছর বয়সের আগেই সে বিবাহকে স্বামী অস্বীকার করেছে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক ঘটেনি।
৮) স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করছে, যেমন, তাকে প্রহার করছে বা মানসিক ভাবে পীড়ন করছে, অসৎ রমণীর সঙ্গে সংসর্গ করছে, স্ত্রীকে জোর করে অসামাজিক অবৈধ জীবনযাপন করতে বাধ্য করছে, ধর্মীয় আচরণে হস্তক্ষেপ করছে, স্ত্রীর আইনসঙ্গত অধিকারে বাধা দিচ্ছে, কোরআন এর  অনুশাসন অনুযায়ী সকল স্ত্রীদের সঙ্গে সম-আচরণ করছে না, ইত্যাদি।

পুরুষদের ক্ষেত্রে বিবাহ-বিচ্ছেদের একক ইচ্ছার আইন আছে। যে কোনও পুরুষ তিনবার তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারে। যার উদ্দেশ্যে তালাক দেওয়া হল, সে সেখানে না থাকলেও এই বিচ্ছেদ স্বীকৃতি পাবে। তবে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে সেই পুরুষ আবার বিবাহ করতে পারবে না। তালাক-প্রাপ্তা সেই মুসলিম নারী যদি অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করে এবং সেই বিবাহ ভেঙ্গে যায়, তখনই আবার তাকে বিবাহ করা যাবে।

শরিয়ত আইনে স্ত্রীকে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার দেওয়া হয়েছে দুইটি ক্ষেত্রে। এক হল জিহার, অর্থাৎ স্বামী যদি নিষিদ্ধ সম্পর্কের কোনও স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয় এবং তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি না হয়। সেক্ষেত্রে স্ত্রী আবেদন করলে আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের আদেশ দেবে।

স্ত্রী স্বামীকে মুক্তিমূল্য (স্বামীর শর্ত অনুযায়ী খুলা) দিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ করিয়ে নিতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের সন্মতিতেই বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়, একে বলা হয় মুবারাত।

মুহাম্মদ আহমেদ খান ও শাহবানো বেগমের মামলায় সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, বিবাহ বিচ্ছেদের পরে যদি মুসলিম নারী নিজের ভরণপোষণ চালাতে পারে, তাহলে পুরুষের দায়িত্ব ইজ্জতের পরেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই নারী যদি নিজের ভরণপোষণ চালাতে সক্ষম না হয়, তাহলে ক্রিমিনাল কোডের ১২৫ ধারা অনুযায়ী তার ভরণপোষণের দায়িত্ব থাকবে প্রাক্তন স্বামীর। এর পর মুসলিম স্বামীদের প্রাক্তন স্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নানান বাদ-প্রতিবাদ শুরু হয়। মুসলিম নারী (বিবাহবিচ্ছেদের পর অধিকার রক্ষা আইন), ১৯৮৬ পাশ করানো হয় সুপ্রীম কোর্টের এই রায়ের প্রযোজ্যতা সীমিত করার জন্য। সাধারণভাবে ফৌজদারী আইনের ১২৫ ধারা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদি না সেই নারী ও তার প্রাক্তন স্বামী যৌথভাবে বা আলাদা ভাবে কোর্টে ঘোষণা করে বা স্বীকৃতি দেয় যে তারা ফৌজদারী আইনের ১২৫ থেকে ১২৮ ধারা মেনে চলবে।

এই আইনে স্বামীর দায়িত্ব থাকলো:
(১) শুধু ইজ্জত কাল পর্যন্ত। ইজ্জত কাল হলো বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনটি ঋতুকালের পর্যন্ত আর যদি ঋতুর অবস্থা না থাকে তাহলে তিনটি চান্দ্রমাস পর্যন্ত। যদি সন্তান সম্ভবা অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে সন্তানের জন্ম বা গর্ভপাতের সময়ের মধ্যে স্বামীর কাছ থেকে ন্যায্য ও উপযুক্ত ব্যবস্থা ও খোরপোষ পাবে।
(২) যদি বিবাহ বিচ্ছেদের আগে বা পরে জাত সন্তানের ভরণপোষণ সে নিজেই বহন করে, তাহলে তার প্রাক্তন স্বামী সন্তান জন্মের দুবছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেবে।
(৩) দেন মোহরের সমান অর্থ দেবে।
(৪) বিয়ের সময় আগে বা পরে স্বামী, আত্মীয় বা বন্ধুদের দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি স্বামী দিয়ে দেবে।

উল্লেখিত সমস্ত  সম্পত্তি না দিলে বিবাহ বিচ্ছিন্না স্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানাবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট একমাসের মধ্যে তার রায় দেবে।
এই আইন অনুসারে ইজ্জত কালের  অর্থের পর যে স্ত্রী নিজের ভরণপোষণ চালাতে না পারে, তার আত্মীয়স্বজন (যারা তার সম্পত্তির অধিকারী) তারা দায়িত্ব নেবে। তারাও যদি অক্ষম হয়, তাহলে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।

বাংলাদেশের কিংবন্দি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র সেই প্রিয় ডানা মেলা গাড়ি এখন কোথায়

ছবি: সংগৃহীত

অকাল প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে বর্তমান নায়কদের আইকন হিসেবে মানেন এই যুগের তরুণরা।

শুধু পোশাক বা সাজসজ্জা নয়, গাড়ির প্রতিও বিশেষ আকর্ষণ ছিল সালমান শাহ’র। তেমন একটি গাড়ি দেখা যায় সালমান অভিনীত ‘প্রিয়জন’ সিনেমার গানে। ডানা মেলা সাদা রং এর সেই গাড়িটি নিয়ে সে সময় বেশ আলোচনাও হয়েছে।

সালমান শাহ’র মৃত্যুর দুই দশক পর পেরিয়ে গেলেও তার মতো ভক্তদের মন থেকে হারিয়ে যায়নি তার গাড়িটিও। তাদের প্রশ্ন এখন কোথায় তাদের প্রিয় নায়কের সেই গাড়িটি?

সালমানের রহস্যময় মৃত্যুর দুই দশক পর গাড়িটি সম্প্রতি আবারো খবরের শিরোনাম হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে গাড়িটিতে চড়ে ঢাকাতে একটি ‘বিয়ে মেলা’ উদ্বোধন করতে আসেন তারকা দম্পতি নাঈম-নাদিয়া।

বর্তমানে গাড়িটি ব্যবসায়ী রুকনুজ্জামানের মালিকানায় রয়েছে। গাড়িটিতে আগের সাদা রঙ পাল্টিয়ে লাল রঙ করা হয়েছে। ছবিটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হতেই সালমান ভক্তদের নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করেছেন। জুড়ে দিয়েছেন তাদের নিজেদের আক্ষেপের সুর।

জুলফিকার রাসেল নামে একজন লিখেছেন- খুব খারাপ লাগলো! দেশের মহানায়কের গাড়িটি যেখানে স্মৃতি হিসাবে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা উচিত ছিল। আর সেখানে এই গাড়িটি সালমান শাহ’র পরিবার বিক্রি করে ফেলছে। সালমান শাহ’র গাড়ির যোগ্য মালিক একমাত্র সালমান শাহ্ নিজেই।

তিনি আরো লিখেন- সংরক্ষণ করা হলে গাড়িটি ভক্তরাও দেখতে পারতো। এই গাড়িটি হয়তো একসময় নষ্ট হয়ে যাবে এবং চিরতরে সালমান শাহ্’র স্মৃতিচিহ্নটি মুছে যাবে।

অবশ্য গাড়িটি সংরক্ষণ না করায় সালমান ভক্তদের ক্ষোভ অনেকদিনের। ২০১৫ সালের অক্টোবরে সালমান ভক্ত মাসুদ রানা নকীব ফেসবুকে লিখেছিলেন, সালমানের অনেক পছন্দের এই গাড়িটি এখন আর নেই। গাড়িটির মালিকানা বদল হয়েছে সালমানের অকাল মৃত্যুর পরই। এখন এই গাড়ির মালিক সিলেট শহরের অন্য আরেকজন!

সালমানের কয়েকটা গাড়ি ও বাইকসহ তার ব্যবহার করা অনেক কিছুই তার মা বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার অবহেলায় অযত্মে নষ্ট হয়েছে অনেক কিছুই!

লেখার পরবর্তী অংশে তিনি সালমানের স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর না করায় স্বজনদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন- সালমান শাহ্ গাড়িটি এখন কার কাছে রয়েছে তার জানা নেই। তবে সালমান শাহ্ পরিবার থেকে যার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল তিনি এখন দেশের বাইরে রয়েছেন।

তিনি মনে করেন সালমান শাহ্ স্মৃতি সংরক্ষণে গাড়িটিও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

চুল বিক্রি করে কোটিপতি পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

চীনে চুল বেচে এক কোটি রুপির বেশি আয় করেছে পাকিস্তান। গত পাঁচ বছরে চীনের বাজারে পাকিস্তান এক লাখ কেজি চুল বিক্রি করেছে।

পাকিস্তান এর সংবাদ পত্র ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার পাকিস্তানের সংসদে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানে চুল বিক্রির অর্থ থেকে আয়ের হিসাব দিয়েছে বাণিজ্য ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়। হিসাবে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে চীনে মোট এক লক্ষ পাঁচ হাজার চার শত একষট্টি কেজি চুল রপ্তানি করা হয়েছে। এর জন্য মিলেছে এক লক্ষ বত্রিশ হাজার ডলার। ডলার থেকে রুপি করলে এর মূল্যমান হবে এক কোটি চুরাশি লক্ষ ষাট হাজার দুইশত পাকিস্তানি রুপি। বিভিন্ন পারলার থেকে চুল কিনে পাকিস্তান সেগুলো চীনে বিক্রি করেছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিরাশি হাজার নয়শত এক কেজি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তেরো হাজার একশত পাঁচ কেজি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক  হাজার চারশত কেজি মানুষের চুল চীনে রপ্তানি করেছে পাকিস্তান।

ক্ষমতায় বসেই অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য নানান উদ্যোগ নিয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ এরপর প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া ইমরান৷ ক্ষমতায় ছয় মাসের মাথায় ইমরানের সরকার সংসদে জানাল, পাঁচ বছরে চীনে মাথার চুল রপ্তানি করে বিপুল অর্থ পকেটে পুরেছে ইসলামাবাদ৷ লাভের পরিমাণ প্রায় এক কোটি রুপির কাছাকাছি।

পাকিস্তানের অন্যতম পরীক্ষিত বন্ধু চীন৷ প্রায় সব সময় ইসলামাবাদের পাশে থাকছে বেইজিং৷ গত কয়েক বছরে চীনের প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসা অনেক বড় হয়েছে। মানুষের মধ্য স্টাইল ও ফ্যাশন সম্পর্কেও বেড়েছে সচেতনতা। এর সঙ্গে বেড়েছে ‘উইগ’ বা ‘পরচুলা’র ব্যবহার। উচ্চমানের ওই সব পরচুলা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় সাধারণ মানুষের চুল। নিজের দেশের মানুষের চুল দিয়েও এর জোগান দিতে পারছিল না বেইজিং। তাই চুলের প্রয়োজন মেটাতে দ্বারস্থ হয় পাকিস্তানের।

মোটা অর্থের বিনিময়ে পাকিস্তান থেকে চুল পৌঁছে যাচ্ছে চীনের প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসায়ীদের কাছে। এক হিসাবে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান থেকে প্রায় এক লক্ষ পাঁচ হাজার চার শত একষট্টি কেজি চুল রপ্তানি হয়েছে চীনে৷ এর দাম আনুমানিক এক লক্ষ বত্রিশ হাজার মার্কিন ডলার৷ বিভিন্ন পারলার থেকে পাঁচ ও ছয় হাজার রুপি কেজি দরে চুল কিনে পাকিস্তান। সেই চুল শুধু চীন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানেও রপ্তানি করছে পাকিস্তান।