Friday, January 18, 2019

এন্ড্রয়েড মোবাইল নিরাপত্তার জন্য কিছু টিপস

ছবি: সংগৃহীত

এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনে কম্পিউটারের কাছাকাছি অনেক কাজই করা যায়। কিছু এন্ড্রয়েড ফোনের প্রসেসর ও র‍্যাম অনেক কম্পিউটার এর থেকেও বেশি হয়ে থাকে। এই সবকিছুই এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তৈরি। কিন্তু ব্যবহারকারীরা যদি সঠিকভাবে এন্ড্রয়েড মোবাইল  ব্যাবহার করতে না পারেন, তবে ঘটতে পারে বিপত্তি। এন্ড্রয়েড ফোনকে নিরাপদ রাখতে নিচে কিছু প্রয়জোনীয় টিপস দেওয়া হলো :

নিয়মিত আপডেট

অনেকে ডেটা খরচ করার ভয়ে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপস আপডেট করতে চান না। কিন্তু এটা হতে পারে ডিভাইস ও আপনার তথ্যের গোপনীয়তার জন্য মারাত্নক হুমকি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের কোডে ভুলত্রুটি ধরা পড়ে যা সাইবার হামলাকারীরা লুফে নেয়। ডিভাইস নিয়মিত আপডেট করলে এই ভয় থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়া লেটেস্ট আপডেট অনেক নতুন ফিচারও নিয়ে আসে।


মোবাইল লক করে রাখুন

অনেকেই আছেন যারা মোবাইল লক করেননা।  আপনি যদি আপনার ফোন লক না করেন, তাহলে এর বিপদ টের পাবেন তখনই, যখন আপনার ফোনটি চুরি হয়ে যাবে, কিংবা অন্য কোনোভাবে হারিয়ে যাবে। সেই দুর্দিনের অপেক্ষা না করে এখনই ফোন লক করে রাখুন। আনলক করার জন্য এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসিয়াল রিকগনিশনের মত সুবিধাজনক পদ্ধতি উপলভ্য আছে। সুতরাং কেন আপনি অরক্ষিত থাকবেন? আর হ্যাঁ, পাসওয়ার্ড ও পিন কোড সেট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন কিছু দিবেন যা কেউ অনুমান করতে পারবেনা।

শুধুমাত্র অফিসিয়াল সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য অফিসিয়াল ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যাপ ডাউনলোডের স্থান হচ্ছে গুগল প্লে স্টোর। বাইরে থেকে এপিকে ফাইল এনে ফোনে ইনস্টল করলে নিজের অজান্তেই ভাইরাসের কবলে পড়তে পারেন। গুগল প্লে থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সেটির রিভিউ এবং অ্যাপটি কতবার ইনস্টল করা হয়েছে তা দেখলে এর জনপ্রিয়তা ও সঠিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

এনক্রিপশন ব্যবহার করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনাল ও এক্সটেন্ডেড স্টোরেজ পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে রাখুন। তাহলে পাসওয়ার্ড ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই আপনার ফোনের কোনো ডেটা এক্সেস করতে পারবেনা। এনক্রিপ্ট না করলে ফোনের মেমোরি কার্ড অথবা ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা তথ্য সহজেই বের করে আনা সম্ভব। এনক্রিপশন চালু করতে স্মার্টফোনের সেটিংসের সিক্যুরিটি সেকশন দেখুন।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট

অনেকেই ফোনের মধ্যে নোটস অ্যাপে বিভিন্ন অনলাইন সেবার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড লিখে রাখেন।  এভাবে গোপনীয় ডেটা সংরক্ষণ করলে তা হারিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বরং কোনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ ব্যবহার করুন (যেমন লাস্টপাস)। অথবা গুগল ক্রোমেও পাসওয়ার্ড সেভ করা যায়, যা গুগলের সার্ভারে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করুন

যদি এমন হয়, আপনি একটি অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, তাও এটি ফোনে ইনস্টল করা আছে, তাহলে সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি অ্যাপটি রিমুভ করে ফেলেন। কারণ বিভিন্ন অ্যাপ আপনার ডিভাইসের বিভিন্ন পারমিশন চায়। যত কম অ্যাপ ইনস্টল করবেন, ডিভাইস হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও তত কম থাকবে।


অপ্রয়োজনীয় কানেকশন বন্ধ রাখুন

যখন দরকার হচ্ছেনা তখন ফোনের মোবাইল ডেটা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এসব কানেকশন বন্ধ করে রাখুন। এগুলো যেমন আপনার ফোনের ব্যাটারি বাঁচাবে, তেমনি ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই হ্যাকের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করবে।

ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক বিশ্বকে ভাবা যায় না। আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে ইন্টারনেটে ব্যাবহার করছি ও এর সুফল ভোগ করছি।  প্রতিদিন আমরা কত সাইট ভিজিট করি, আমাদের প্রয়জনীয় কনটেন্ট দেখি। আর এই সুযোগে অনলাইন দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চোখে ধূলা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি করছে। এই দুর্বৃত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে ফেলছে, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে, পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে প্রতারণা করছে, আরও অনেক ক্ষতি করছে।  এই ধরণের সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কিছু টিপস নিয়ে আজকের পোস্ট।

কোনো কিছু ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে সাবধান হোন

ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করার সময় আকর্ষিত বিজ্ঞাপনে অনেক কিছুই ডাউনলোডের অফার দেখবেন। এগুলোতে ক্লিক করার আগে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত সাইট ছাড়া অন্য কোনো সাইট থেকে ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। বিভিন্ন সাইটে ক্র্যাক, কিজেন প্রভৃতির কথা বলে ম্যালওয়্যার/ভাইরাস ধরিয়ে দেয়া হয়। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি নির্ভরযোগ্য সাইট ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ডাউনলোড না করেন। আর ডাউনলোডকৃত ফাইল স্ক্যান করার জন্য কোনো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার (যেমন উইন্ডোজ ডিফেন্ডার) ব্যবহার করতে পারেন।

পাসওয়ার্ড নিয়ে সতর্ক 

পাসওয়ার্ড মনে রাখার ভয়ে অনেকেই একাধিক সাইটের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা মোটেই ঠিক না। কারণ, এতে আপনার ঐ পাসওয়ার্ডটি বেহাত হয়ে গেলে আপনার সকল অনলাইন একাউন্ট ঝুঁকিতে পড়বে। নিজে পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ব্রাউজার, যেমন গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, মাইক্রোসফট এজ প্রভৃতিতে বিল্ট-ইন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থাকে। এগুলো অনলাইনে সিঙ্ক্রোনাইজ করে একাধিক ডিভাইসে এক্সেস করা যায়। সুতরাং আপনি চাইলে এসব সেবা ব্যবহার করতে পারেন। এবং অবশ্যই কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন ও প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে লিখে রাখুন। দুটি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপের নাম হচ্ছে লাস্টপাস ও ওয়ানপাসওয়ার্ড।

ব্রাউজারের এড্রেসবার খেয়াল করুন

এমন অনেক আক্রমণকারী আছে, যারা জনপ্রিয় সাইটের মত দেখতে নকল সাইট তৈরি করে সেখানে লোকজনকে নিয়ে লগইন করতে বলে। ভিজিটররা তখন তাতে ইউজারনেম পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করেন। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে অনলাইনে তথ্য দেয়ার আগে ব্রাউজারের এড্রেসবার খেয়াল করুন যে আপনি কোন সাইটে আছেন। এক্ষেত্রেও একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ দারুণ কাজে আসবে। কারণ, একটি সাইটের জন্য আপনার সেইভ করা পাসওয়ার্ড অন্য সাইটে নিজ থেকে সাজেস্ট করেনা। সুতরাং যখন আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করা সাইটের লগইন পেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড না দেখাবে, তখন এড্রেস বার দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি আসলে কোন সাইটে আছেন। এড্রেসের শুরুতে সবুজ রঙে HTTPS থাকাটা খুবই জরুরি। কারণ শুরুতে HTTP (S থাকেনা) লেখা সাইটগুলো ব্রাউজ করার সময় ইন্টারনেট কানেকশন হ্যাক করে তৃতীয়পক্ষ আপনার গোপনীয় তথ্য (পাসওয়ার্ড, ডেবিট কার্ড তথ্য প্রভৃতি) জেনে ফেলতে পারে।

অনলাইন একাউন্টে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন ওয়েবসাইট সেগুলোর ব্যবহারকারীদের ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ছাড়া দ্বিতীয় একটি উপায়ে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এটি ব্যবহার করলে প্রতিবার নতুন ডিভাইস/ব্রাউজারে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেবায় (উদাহরণস্বরূপ জিমেইলে) সাইন ইন করার সময় ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ইনপুট করার পরেও সেখানে আরেকটি পিন কোড দিতে হবে। এই কোডটি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আসে। এগুলোকে সিক্যুরিটি কোডও বলা হয়, যা প্রতিবারই সার্ভার থেকে পাঠানো হয়। ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড নিয়ে নিলেও একই সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটি হ্যাকারের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এভাবেই আপনার একাউন্টটিও হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করুন

বর্তমানে বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার বলতে গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, মজিলা ফায়ারফক্সকে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা যায়। অপেরা ব্রাউজারও ভাল। তবে ইউসি ব্রাউজারের বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইউসি ব্রাউজারের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ এসেছে। এমনকি গুগল প্লে স্টোর থেকে ইউসি ব্রাউজার একবার মুছেও দেয়া হয়েছিল।

ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন

আজকাল বিভিন্ন স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া যায়। এসব ওয়াইফাই হটস্পট ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়

ছবি: সংগৃহীত

‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট’ হলো এ বছর বিশ্ব হার্ট দিবসের স্লোগান। এর অন্তর্নিহিত বিষয় হলো সব মানুষকে একীভূত করা ও হার্টের সুস্থতা বিষয়ে একতাবদ্ধ হওয়া। সারা বিশ্বব্যাপী হৃদ্‌রোগ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য এ দিবস পালন করা হয়।

এক সমীক্ষা দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিজনিত রোগের কারণে। হৃৎপিণ্ডে রক্তনালির ও মস্তিষ্কের স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যানসার, এইচআইভি-এইডস ও ম্যালেরিয়া থেকে অনেক বেশি। বর্তমানে ৩১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ধরা হয় এই হার্ট স্টোক  ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে এবং অল্প বয়সে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণও এ হার্ট স্টোক কে দায়ী করা হয়।
স্টোক এর  প্রাথমিক লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দন হওয়া ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। কারও করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে। কখনো কখনো এনজাইনা থেকে হার্ট অ্যাটাক হয়। আবার করোনারি ধমনি যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়, তখনই হার্ট স্টোক হয়। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে। আমাদের এ দেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের এটি হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের দেশের লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫-৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা।

এ ছাড়া এ অঞ্চলে দুর্বল হার্ট বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি একটি পরিচিত হৃদ্‌রোগ, যেখানে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা। সাধারণত ছোটবেলায় বাতজ্বর থেকে পরবর্তী সময়ে বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ হয়ে থাকে। বাতজ্বরজনিত রোগে সাধারণত হার্টের বাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে কিছু রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। আর কিছু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যদি সময়মতো চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে শল্যচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে।

হৃদ্‌রোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণের মধ্যে যদি কারও পরিবারে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শিশুর জন্মগত হৃদ্‌রোগ থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের কিছুই করার থাকে না।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এড়াতে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এ বছর বিশ্ব হার্ট দিবস পালনের উদ্দেশ্য আমাদের হার্টের যত্ন নেওয়ার জন্য কয়েকটা বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। সেগুলো হলো আপনার হার্টকে জানুন, হার্টকে শক্তিশালী করুন ও হার্টকে ভালোবাসুন। যখন আপনার হার্টের অসুখ থাকবে, তখন সবকিছুতে নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে। আপনি ক্রমাগত বৃদ্ধ হতে থাকবেন। আপনি হয়ে যাবেন অনুভূতিহীন।

এই দিবস পালনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে হৃদ্‌রোগ-সম্পর্কিত জ্ঞান দেওয়া হয়, যাতে তারা সময়মতো হার্ট পরীক্ষা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমে নিজেদের নিয়োজিত রাখা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া ও অ্যালকোহল পান থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে নিজেদের হার্টকে সুস্থ ও সচল রাখতে পারে। তাই সাধারণ জনগণকে তাদের অভ্যাস পরিবর্তনে উৎসাহ প্রদান করা ও হৃদ্‌রোগ-সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদান করাই বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

মেসি ভিন্ন গ্রহের মানুষ কেবল স্প্যানিশ লিগেই ৪০০ গোল

ছবি: সংগৃহীত

গোল তো আর কম হলো না মেসির ক্যারিয়ারে। এই তো সেদিন লা লিগার ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪০০ গোলের মাইলফলকও ছুঁলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে প্রায় ১৫ বছরের এই ক্যারিয়ারে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৫৭৫ গোল হয়ে গেছে মেসির । সঙ্গে যদি আর্জেন্টিনার জার্সিতে করা আরও ৬৫টি গোল যোগ করেন, তাহলে মেসির ক্যারিয়ারে গোল হয় ৬৪০টি। কিন্তু এত গোল করেও যে গোলের খিদে মিটছে না আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের। লা লিগায় ৪০০তম গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রতিক্রিয়ায় মেসির গোলক্ষুধাটা বোঝা গেছে, ‘খুবই গর্বিত বোধ করছি লিগে ৪০০ গোল করতে পেরে। আশা করছি আরও কিছু গোল করতে পারব।’

সেটা না পারার কোনো কারণ নেই। আগামী জুনে ৩২-এ পড়বেন মেসি। এই বয়সেও লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতাদের দৌড়ে তিনিই এগিয়ে আছেন। এই মৌসুমে ইতিমধ্যে ১৭ গোল হয়ে গেছে লিগে, সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ২২ ম্যাচে ২৩ গোল। এমন ফর্মে থাকলে আরও কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যেতে পারবেন চোখ বুজে। আর খেললে তো গোলসংখ্যা হু হু করেই বাড়বে। তাতে নতুন নতুন মাইলফলক ছোঁবেন, নতুন নতুন রেকর্ডও হবে। তবে ক্যারিয়ারে এত কীর্তি আর এত রেকর্ড গড়েছেন যে এগুলো নিয়ে এখন আর খুব বেশি ভাবেন না আর্জেন্টাইন এই তারকা। তাঁর ভাষায়, ‘আমি এখন আর রেকর্ড, পরিসংখ্যানের দিকে খুব একটা মনোযোগ দেই না। আমি প্রতিদিনের খেলাটার কথাই বেশি ভাবি। গোল করার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ আমার কাছে দলকে জিততে সাহায্য করা। দলের জয়ই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’

এই যে ৪০০ গোল করেছেন লিগে, সেটার জন্যও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ মেসি, ‘আমার সতীর্থদের সাহায্য ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো না।’ তো এই ৪০০ গোলের মধ্যে কোনটা তাঁর কাছে বিশেষ? নিজের গোলের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট করে কোনো একটা বা দুটিকে বেছে নিতে মেসি আগে কখনো রাজি হননি। তবে এবার একটা বিশেষ গোলের কথা ঠিকই বললেন। সেটা ২০০৫ইং সালে আলবাসেতের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে লিগের তাঁর প্রথম গোলটা। প্রথম বলেই এর সঙ্গে অনেক আবেগ জড়িত মেসির, রোনালদিনহো পাস থেকে ওই গোলটা করেছিলাম। ওটা আমি কখনো ভুলব না।’
সত্যিই তো, প্রথম সবকিছুই তো মানুষ আঁকড়ে ধরে রাখে সারাজীবন।

ইনস্টাগ্রামে লাইকের বিশ্ব রেকর্ড গড়লো একটি ডিম

একটি ডিমের ছবি, আর কিছু নেই; কিন্তু সেই ছবিটিই গড়েছে বিশ্বরেকর্ড। ইনস্টাগ্রামে সবচেয়ে বেশি লাইক পড়েছে ছবিটিতে। লাইকের সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়ে গেছে ইতোমধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত

এর আগে এই রেকর্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টিভি তারকা কাইলি জেনারের। কাইলি তার সদ্য জন্ম নেয়া কন্যা স্ট্রোমির ছবি পোস্ট করে পেয়েছিলেন এক কোটি ৮০ লাখ লাইক। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি পোস্ট করেছিলেন কাইলি। এতদিন সেটিই ছিল সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া ছবি। কিন্তু এবার এই তারকাকে ছাড়িয়ে গেছে সাধারণ একটি ডিম এর ছবি।

‘ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এগ’ নামের একটি একাউন্ট থেকে গত ৪ জানুয়ারি ২০১৯ইং  ডিমের ছবিটি পোস্ট করা হয়। তার সাথে লিখে দেওয়া হয় - ‘আসুন আমরা সবাই মিলে ডিমটিকে নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ি’। এর মাধ্যমে সকলে অনুরোধ করা হয় ছবিটি লাইক ও শেয়ার করতে। সবাই যে দারুণভাবে সাড়া দিয়েছে এই অনুরোধে তা তো বুজাই যাচ্ছে লাইক এর সংখ্যা থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাজফিড জানিয়েছে, গত ১৩ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় ছবিটি কাইলি জেনারের ছবির লাইক সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। ছবিটিতে প্রতি ঘণ্টায় লাইক পড়েছে এক লাখ। তাই দ্রুতই ছবিটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেছে ডিম এর ছবিটি।

যে অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি আপলোড করা হয়েছে তার ব্যবহারকারীর পরিচয় হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ব্রিটেনের মফস্বল এলাকার একটি মুরগি’। ওই অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, ডিমটির নাম ‘ইউজিন’। আরো বলা হয়েছে, ‘ডিমের ক্ষমতা অনেক’ তাই ডিমটি বিশ্বরেকর্ড গড়তে পেরেছে।

এদিকে বিশ্ব রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন টিভি তারকা কাইলি জেনার। তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন কি না তা জানা না গেলেও একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে তাতে দেখা যাচ্ছে জেনার রাস্তার ওপর একটি ডিম ভেঙে ফেলছেন।