Tuesday, January 22, 2019

মুসলিম বিবাহ আইন

January 22, 2019
ছবি: সংগৃহীত

ভারতবর্ষে মুসলিম আইন সৃষ্টি হয়েছে মূলতঃ কোরআন থেকে। তবে নির্দেশ গুলি সংশোধিত হয়েছে বিধানসভা ও লোকসভায় গৃহীত বিল এবং কোর্টের বিভিন্ন রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে।

মুসলিম আইন (শরিয়ত) অনুসারে বিবাহ বা নিকা হল পরস্পরের উপভোগের জন্য এবং বৈধ সন্তান উত্পাদনের জন্য স্বেচ্ছায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া।

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
মুসলিম বিবাহ হতে গেলে এক পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসতে হবে এবং অন্য পক্ষকে তাতে সন্মতি জানাতে হবে। সন্মতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে না এবং এই সন্মতি কোনও শর্ত-সাপেক্ষ হওয়া চলবে না। উপরোন্তু এই সন্মতি আদায় করার জন্য কোনও রকম চাপ সৃষ্টি, মিথ্যার প্রশ্রয় নেওয়া বা কোনোরূপ প্রভাব খাটানো চলবে না। একই বৈঠকে প্রস্তাব ও সন্মতিদান সম্পন্ন করতে হবে এবং এগুলি করতে হবে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে। সাক্ষী থাকবে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন নারী (সুন্নি আইন অনুসারে)। নারীসাক্ষীদের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের হতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমনা ও মুসলিম। শিয়া আইনে বিবাহের সময় সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা নেই।

মুসলিম বিবাহ আইনে নাবালক ও অসুস্থমনা ব্যক্তিদের বিবাহ হওয়া সম্ভব, কিন্তু সেই ক্ষেত্রে অভিভাবক বা কোনও প্রতিনিধি কর্তৃক এই বিবাহ-চুক্তি সম্পাদিত হবে। নাবালকরা প্রাপ্ত-বয়স্ক হবার পর চাইলে এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
এই বিবাহের অধিকার ও দায়ের মধ্যে রয়েছে বিবাহের আগে, বিবাহের সময়ে অথবা বিবাহের পরে উভয়পক্ষের মধ্যে যে বোঝাপড়া হবে, তা যদি মুসলিম আইন বা সাধারণ নীতির পরিপন্থী না হয়, তাহলে সেই শর্ত বাধ্যতামূলক হবে।

মুসলিম বিবাহ আইনে দেনমোহরের ব্যবস্থা আছে। দেনমোহরে একটি অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট করা হয়, যেই পরিমান অর্থ স্ত্রীকে দিতে স্বামী বাধ্য থাকবে। বিবাহের সময়ে বা পূর্বে এই দেনমোহর স্থির হয়। অবশ্য পরেও করা যেতে পারে। দেনমোহরকে বিবাহ-চুক্তির মূল্য বা শর্ত বলা চলে না (মুসলিম বিবাহে কোনও শর্ত থাকে না)। লাহোর ও এলাহাবাদ হাইকোর্ট দেনমোহরকে স্ত্রীর মর্যাদাস্বরূপ বলে বিচার করেছেন - অর্থাৎ এটি হল আইনগত স্ত্রীর প্রাপ্য মার্যাদা। বিবাহ-চুক্তিতে যদি লেখাও থাকে দেনমোহর দিতে হবে না - সেক্ষেত্রেও দেনমোহর স্ত্রীর প্রাপ্য। অন্যপক্ষে কলকাতা হাইকোর্টের মতে, দেনমোহর হল সম্পত্তির মূল্য।

মুসলিম বিবাহ আইনে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ। সেই আত্মীয়তা রক্ত-সম্পর্কিত হতে পারে (যেমন, পুরুষের ক্ষেত্রে তার মাতা, মাতামহী, কন্যা, পৌত্রী, ইত্যাদি), কিংবা অন্য কোন নিকট আত্মীয় হতে পারে (যেমন, পুরুষের ক্ষেত্রে শাশুড়ি, স্ত্রীর পূর্ববিবাহজাত কন্যা, বিমাতা, ইত্যাদি)।

এই আইন অনুসারে পুরুষরা একসঙ্গে চারটি বিবাহ করতে পারে। কিন্তু নারীদের পক্ষে একই সঙ্গে একাধিক স্বামী থাকা নিষিদ্ধ।
মুসলিম বিবাহ আইনে অনেক অবৈধ বিবাহ বৈধ হয়ে যায় যখন অবৈধতার কারণ লুপ্ত হয়। যেমন, চারটি স্ত্রী বর্তমান থাকলেও কেউ যদি আবার বিবাহ করে, তাহলে সেই বিবাহ অবৈধ। কিন্তু সে যদি একজন স্ত্রীকে তালাক দেয় (বা পরিত্যাগ করে), তাহলে তার অবৈধ বিবাহটি বৈধ হয়ে যায়। কোনও নারীর ইজ্জতের সময়কালে তাকে বিবাহ করলে সেই বিবাহ অবৈধ, আবার ইজ্জতের সময়ে পার হয়ে গেলেই সেটি বৈধ বলে গণ্য হবে।

(ইজ্জত: স্বামীর মৃত্যুর পর বা বিবাহ-বিচ্ছেদের পর মুসলিম নারী যে-সময়ের জন্য [মোটামুটিভাবে তিনমাস বা তার অধিক] একা থাকে)।
সুন্নি পুরুষ যদি কোনও মুসলিম নারী বা কিতাবিয়াকে (অর্থাৎ , যে-ধর্মে ঈশ্বর-প্রদত্ত বাণী পুস্তকাকারে [বাইবেল, কোরান, ইত্যাদি] আছে - সেই ধর্মাবলম্বীকে) বিবাহ করে - তাহলে সুন্নি আইন অনুসারে সেটি বৈধ হবে। কিন্তু যে ধর্মে পৌত্তলিকতা আছে (যেমন, হিন্দু ধর্ম) - সেই ধর্মাবলম্বী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। করলে, সেটিকে নিয়ম-বহির্ভূত বা অনিয়মিত বলে গণ্য করা হবে। শিয়া আইনে এটি শুধু অনিয়মিত নয়, এটি হবে অবৈধ। সুন্নি ও শিয়া - কোন আইনেই মুসলিম নারী কোনও অমুসলিম পুরুষকে (সে কিতাবিয়া হলেও) বৈধভাবে বিবাহ করতে পারে না। সুন্নি আইন অনুসারে সেটি হবে নিয়ম-বহির্ভূত বিবাহ। শিয়া আইন অনুসারে সেটি হবে অবৈধ।

যদিও কোরআন ও হাদীছে এ-বিষয়ে সমর্থন নেই, তবুও অন্যান্য চুক্তির মত বিবাহ-চুক্তিও যাতে ভঙ্গ করা যায় - তার ব্যবস্থা ভারতবর্ষের মুসলিম আইনে রয়েছে।  ১৯৩৯ সাল অনুসারে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে নারীর পক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে যাবার কয়েকটি শর্ত আছে:
১) চার বছর ধরে স্বামী নিখোঁজ।
২) দুই বছর ধরে স্বামী তাকে অবহেলা করছে বা ভরণপোষণ দেয়নি।
৩) স্বামী সাত বছর বা তার অধিক কালের জন্য কারাদণ্ড পেয়েছে।
৪) তিন বছর ধরে কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দাম্পত্য কর্তব্য করেনি।
৫)দুই বছর ধরে স্বামীর মাথা খারাপ কিংবা কুষ্ঠরোগগ্রস্থ বা বাজে যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত।
৬) বিবাহের সময় স্বামী অক্ষম ছিল এবং এখনও আছে।
৭) ১৫ বছর বয়স হবার আগে যে বিবাহ হয়েছিল, ১৮ বছর বয়সের আগেই সে বিবাহকে স্বামী অস্বীকার করেছে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক ঘটেনি।
৮) স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করছে, যেমন, তাকে প্রহার করছে বা মানসিক ভাবে পীড়ন করছে, অসৎ রমণীর সঙ্গে সংসর্গ করছে, স্ত্রীকে জোর করে অসামাজিক অবৈধ জীবনযাপন করতে বাধ্য করছে, ধর্মীয় আচরণে হস্তক্ষেপ করছে, স্ত্রীর আইনসঙ্গত অধিকারে বাধা দিচ্ছে, কোরআন এর  অনুশাসন অনুযায়ী সকল স্ত্রীদের সঙ্গে সম-আচরণ করছে না, ইত্যাদি।

পুরুষদের ক্ষেত্রে বিবাহ-বিচ্ছেদের একক ইচ্ছার আইন আছে। যে কোনও পুরুষ তিনবার তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারে। যার উদ্দেশ্যে তালাক দেওয়া হল, সে সেখানে না থাকলেও এই বিচ্ছেদ স্বীকৃতি পাবে। তবে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে সেই পুরুষ আবার বিবাহ করতে পারবে না। তালাক-প্রাপ্তা সেই মুসলিম নারী যদি অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করে এবং সেই বিবাহ ভেঙ্গে যায়, তখনই আবার তাকে বিবাহ করা যাবে।

শরিয়ত আইনে স্ত্রীকে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার দেওয়া হয়েছে দুইটি ক্ষেত্রে। এক হল জিহার, অর্থাৎ স্বামী যদি নিষিদ্ধ সম্পর্কের কোনও স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয় এবং তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি না হয়। সেক্ষেত্রে স্ত্রী আবেদন করলে আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের আদেশ দেবে।

স্ত্রী স্বামীকে মুক্তিমূল্য (স্বামীর শর্ত অনুযায়ী খুলা) দিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ করিয়ে নিতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের সন্মতিতেই বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়, একে বলা হয় মুবারাত।

মুহাম্মদ আহমেদ খান ও শাহবানো বেগমের মামলায় সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, বিবাহ বিচ্ছেদের পরে যদি মুসলিম নারী নিজের ভরণপোষণ চালাতে পারে, তাহলে পুরুষের দায়িত্ব ইজ্জতের পরেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই নারী যদি নিজের ভরণপোষণ চালাতে সক্ষম না হয়, তাহলে ক্রিমিনাল কোডের ১২৫ ধারা অনুযায়ী তার ভরণপোষণের দায়িত্ব থাকবে প্রাক্তন স্বামীর। এর পর মুসলিম স্বামীদের প্রাক্তন স্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নানান বাদ-প্রতিবাদ শুরু হয়। মুসলিম নারী (বিবাহবিচ্ছেদের পর অধিকার রক্ষা আইন), ১৯৮৬ পাশ করানো হয় সুপ্রীম কোর্টের এই রায়ের প্রযোজ্যতা সীমিত করার জন্য। সাধারণভাবে ফৌজদারী আইনের ১২৫ ধারা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদি না সেই নারী ও তার প্রাক্তন স্বামী যৌথভাবে বা আলাদা ভাবে কোর্টে ঘোষণা করে বা স্বীকৃতি দেয় যে তারা ফৌজদারী আইনের ১২৫ থেকে ১২৮ ধারা মেনে চলবে।

এই আইনে স্বামীর দায়িত্ব থাকলো:
(১) শুধু ইজ্জত কাল পর্যন্ত। ইজ্জত কাল হলো বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনটি ঋতুকালের পর্যন্ত আর যদি ঋতুর অবস্থা না থাকে তাহলে তিনটি চান্দ্রমাস পর্যন্ত। যদি সন্তান সম্ভবা অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে সন্তানের জন্ম বা গর্ভপাতের সময়ের মধ্যে স্বামীর কাছ থেকে ন্যায্য ও উপযুক্ত ব্যবস্থা ও খোরপোষ পাবে।
(২) যদি বিবাহ বিচ্ছেদের আগে বা পরে জাত সন্তানের ভরণপোষণ সে নিজেই বহন করে, তাহলে তার প্রাক্তন স্বামী সন্তান জন্মের দুবছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেবে।
(৩) দেন মোহরের সমান অর্থ দেবে।
(৪) বিয়ের সময় আগে বা পরে স্বামী, আত্মীয় বা বন্ধুদের দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি স্বামী দিয়ে দেবে।

উল্লেখিত সমস্ত  সম্পত্তি না দিলে বিবাহ বিচ্ছিন্না স্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানাবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট একমাসের মধ্যে তার রায় দেবে।
এই আইন অনুসারে ইজ্জত কালের  অর্থের পর যে স্ত্রী নিজের ভরণপোষণ চালাতে না পারে, তার আত্মীয়স্বজন (যারা তার সম্পত্তির অধিকারী) তারা দায়িত্ব নেবে। তারাও যদি অক্ষম হয়, তাহলে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।

বাংলাদেশের কিংবন্দি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র সেই প্রিয় ডানা মেলা গাড়ি এখন কোথায়

January 22, 2019
ছবি: সংগৃহীত

অকাল প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে বর্তমান নায়কদের আইকন হিসেবে মানেন এই যুগের তরুণরা।

শুধু পোশাক বা সাজসজ্জা নয়, গাড়ির প্রতিও বিশেষ আকর্ষণ ছিল সালমান শাহ’র। তেমন একটি গাড়ি দেখা যায় সালমান অভিনীত ‘প্রিয়জন’ সিনেমার গানে। ডানা মেলা সাদা রং এর সেই গাড়িটি নিয়ে সে সময় বেশ আলোচনাও হয়েছে।

সালমান শাহ’র মৃত্যুর দুই দশক পর পেরিয়ে গেলেও তার মতো ভক্তদের মন থেকে হারিয়ে যায়নি তার গাড়িটিও। তাদের প্রশ্ন এখন কোথায় তাদের প্রিয় নায়কের সেই গাড়িটি?

সালমানের রহস্যময় মৃত্যুর দুই দশক পর গাড়িটি সম্প্রতি আবারো খবরের শিরোনাম হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে গাড়িটিতে চড়ে ঢাকাতে একটি ‘বিয়ে মেলা’ উদ্বোধন করতে আসেন তারকা দম্পতি নাঈম-নাদিয়া।

বর্তমানে গাড়িটি ব্যবসায়ী রুকনুজ্জামানের মালিকানায় রয়েছে। গাড়িটিতে আগের সাদা রঙ পাল্টিয়ে লাল রঙ করা হয়েছে। ছবিটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হতেই সালমান ভক্তদের নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করেছেন। জুড়ে দিয়েছেন তাদের নিজেদের আক্ষেপের সুর।

জুলফিকার রাসেল নামে একজন লিখেছেন- খুব খারাপ লাগলো! দেশের মহানায়কের গাড়িটি যেখানে স্মৃতি হিসাবে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা উচিত ছিল। আর সেখানে এই গাড়িটি সালমান শাহ’র পরিবার বিক্রি করে ফেলছে। সালমান শাহ’র গাড়ির যোগ্য মালিক একমাত্র সালমান শাহ্ নিজেই।

তিনি আরো লিখেন- সংরক্ষণ করা হলে গাড়িটি ভক্তরাও দেখতে পারতো। এই গাড়িটি হয়তো একসময় নষ্ট হয়ে যাবে এবং চিরতরে সালমান শাহ্’র স্মৃতিচিহ্নটি মুছে যাবে।

অবশ্য গাড়িটি সংরক্ষণ না করায় সালমান ভক্তদের ক্ষোভ অনেকদিনের। ২০১৫ সালের অক্টোবরে সালমান ভক্ত মাসুদ রানা নকীব ফেসবুকে লিখেছিলেন, সালমানের অনেক পছন্দের এই গাড়িটি এখন আর নেই। গাড়িটির মালিকানা বদল হয়েছে সালমানের অকাল মৃত্যুর পরই। এখন এই গাড়ির মালিক সিলেট শহরের অন্য আরেকজন!

সালমানের কয়েকটা গাড়ি ও বাইকসহ তার ব্যবহার করা অনেক কিছুই তার মা বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার অবহেলায় অযত্মে নষ্ট হয়েছে অনেক কিছুই!

লেখার পরবর্তী অংশে তিনি সালমানের স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর না করায় স্বজনদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন- সালমান শাহ্ গাড়িটি এখন কার কাছে রয়েছে তার জানা নেই। তবে সালমান শাহ্ পরিবার থেকে যার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল তিনি এখন দেশের বাইরে রয়েছেন।

তিনি মনে করেন সালমান শাহ্ স্মৃতি সংরক্ষণে গাড়িটিও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

চুল বিক্রি করে কোটিপতি পাকিস্তান

January 22, 2019
ছবি: সংগৃহীত

চীনে চুল বেচে এক কোটি রুপির বেশি আয় করেছে পাকিস্তান। গত পাঁচ বছরে চীনের বাজারে পাকিস্তান এক লাখ কেজি চুল বিক্রি করেছে।

পাকিস্তান এর সংবাদ পত্র ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার পাকিস্তানের সংসদে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানে চুল বিক্রির অর্থ থেকে আয়ের হিসাব দিয়েছে বাণিজ্য ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়। হিসাবে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে চীনে মোট এক লক্ষ পাঁচ হাজার চার শত একষট্টি কেজি চুল রপ্তানি করা হয়েছে। এর জন্য মিলেছে এক লক্ষ বত্রিশ হাজার ডলার। ডলার থেকে রুপি করলে এর মূল্যমান হবে এক কোটি চুরাশি লক্ষ ষাট হাজার দুইশত পাকিস্তানি রুপি। বিভিন্ন পারলার থেকে চুল কিনে পাকিস্তান সেগুলো চীনে বিক্রি করেছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিরাশি হাজার নয়শত এক কেজি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তেরো হাজার একশত পাঁচ কেজি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক  হাজার চারশত কেজি মানুষের চুল চীনে রপ্তানি করেছে পাকিস্তান।

ক্ষমতায় বসেই অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য নানান উদ্যোগ নিয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ এরপর প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া ইমরান৷ ক্ষমতায় ছয় মাসের মাথায় ইমরানের সরকার সংসদে জানাল, পাঁচ বছরে চীনে মাথার চুল রপ্তানি করে বিপুল অর্থ পকেটে পুরেছে ইসলামাবাদ৷ লাভের পরিমাণ প্রায় এক কোটি রুপির কাছাকাছি।

পাকিস্তানের অন্যতম পরীক্ষিত বন্ধু চীন৷ প্রায় সব সময় ইসলামাবাদের পাশে থাকছে বেইজিং৷ গত কয়েক বছরে চীনের প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসা অনেক বড় হয়েছে। মানুষের মধ্য স্টাইল ও ফ্যাশন সম্পর্কেও বেড়েছে সচেতনতা। এর সঙ্গে বেড়েছে ‘উইগ’ বা ‘পরচুলা’র ব্যবহার। উচ্চমানের ওই সব পরচুলা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় সাধারণ মানুষের চুল। নিজের দেশের মানুষের চুল দিয়েও এর জোগান দিতে পারছিল না বেইজিং। তাই চুলের প্রয়োজন মেটাতে দ্বারস্থ হয় পাকিস্তানের।

মোটা অর্থের বিনিময়ে পাকিস্তান থেকে চুল পৌঁছে যাচ্ছে চীনের প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসায়ীদের কাছে। এক হিসাবে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান থেকে প্রায় এক লক্ষ পাঁচ হাজার চার শত একষট্টি কেজি চুল রপ্তানি হয়েছে চীনে৷ এর দাম আনুমানিক এক লক্ষ বত্রিশ হাজার মার্কিন ডলার৷ বিভিন্ন পারলার থেকে পাঁচ ও ছয় হাজার রুপি কেজি দরে চুল কিনে পাকিস্তান। সেই চুল শুধু চীন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানেও রপ্তানি করছে পাকিস্তান।

Monday, January 21, 2019

১০০০ পিস সাদা ইয়াবার চালান আটক

January 21, 2019
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছে সাদা রঙের ইয়াবার একটি চালান।
এযাবত পর্যন্ত ধরা পড়া ইয়াবা ট্যাবলেট গুলো লাল বা গোলাপি রঙের হলেও কিছুদিন আগে ঢাকাতেও সাদা ইয়াবার চালান ধরা পড়েছিল। সাদা ইয়াবাগুলো লাল বা গোলাপি ইয়াবার চেয়ে আকারে কিছুটা বড় ও কম সুগন্ধিযুক্ত।

চট্টগ্রাম নগর ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, “এর আগে চট্টগ্রামে হলুদ রঙের ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও সাদা রঙের ইয়ারা এই প্রথম ধরা পড়েছে।”

নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার ব্রিজ ঘাট এলাকা থেকে রোববার রাতে বালতির ভেতরে করে পাচারের সময় সাদা ইয়াবার চালানটি আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর।

এই ইয়াবার চালানের সঙ্গে মো. ইদ্রিস (২২) নামে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইনছড়ি এলাকার এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি অফিসাররা বলেন, “ইদ্রিস শাহ আমানত ব্রিজ এলাকার দিক থেকে ফিরিঙ্গী বাজারের দিকে আসার সময় তাকে বহনকারী সিএনজি অটো রিকশাটি আটক করা হয়। পরে তার সাথে থাকা বালতির ভেতর থেকে সাদা রঙের এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।”

ইদ্রিস যে বালতি করে ইয়াবাগুলো এনেছিলেন, তাতে অতিরিক্ত তলা লাগানো হয়েছিল। তার ভেতরে ইয়াবা গুলো রাখা হয়েছিল।
গত বছরের অক্টোবরে ঢাকার পশ্চিম রামপুরা উলন রোডের থাই আবাসিক এলাকার এক নম্বর গেইটের সামনে অভিযান চালিয়ে ৮০টি সাদা রঙের ইয়াবাসহ রাজীব মোল্লা (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

তার আগে চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার শুভপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে দশ  হাজার পিস হলুদ রঙের ইয়াবাসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। গোয়েন্দা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বলেন, “সাধারণত লাল রঙের ইয়বাগুলো ‘WY’ লেখা থাকে, আবার কিছু কিছু ইয়াবাতে কিছুই লেখা থাকে না। তবে সাদা রঙের ইয়াবাগুলোতে ‘R’ লেখা আছে।

“লাল রঙের ইয়াবাতে যে ধরনের তীব্র ঘ্রাণ আছে, সাদা রঙের ইয়াবাতে তা নেই। এর গন্ধ লাল রঙের ইয়াবার চেয়ে অনেক কম। দেখতে সাধারণ ওষুধের মতো মনে হয়।”

হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫

January 21, 2019
ছবি: সংগৃহীত

এই হিন্দু বিবাহ আইন জন্মু ও কাশ্মীর ছাড়া ভারতের অন্য সব জায়গাতেই প্রযোজ্য। কোনও হিন্দু যদি এই আইনের আওতায় পরে এমন কোনও স্থানে বসবাস করেন - তাহলে তিনি বাইরে থেকে এলেও এই আইন তাঁর প্রতি প্রযোজ্য হবে। অহিন্দু, অর্থাৎ, ক্রিস্টান, মুসলমান, ইহুদী, পার্শীদের প্রতি এই আইন প্রযোজ্য নয়। হিন্দু ও অহিন্দুর মধ্যে বিবাহ একমাত্র সম্ভবপর "সিভিল ম্যারেজ"-এর সাহায্যে। ১৯৫৪ সালের স্পেশাল বিবাহ আইন অনুযায়ী প্রদেশ সরকারের নিয়োজিত ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররা এই বিবাহ দিতে পারেন।

হিন্দু বিবাহ বিধিতে সামাজিক প্রথা ও নিয়ম অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হলে তাকে বৈধ হিসাবে গণ্য করা হয় এবং সপ্তপদী যে-সব বিবাহের একটি অঙ্গ, অগ্নি-সাক্ষী করে সপ্তপদী হয়ে যাবার পরেই বিবাহ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হয়। হিন্দু আইনে কোথাও বলা হয় নি যে, উভয়পক্ষের সন্মতি না থাকলে বিবাহ অসিদ্ধ হবে। কিন্তু যদি কোনও পক্ষের সন্মতি অসম্মত উপায়ে বা জোর করে নেওয়া হয় - তাহলে সেই বিবাহ অবৈধ ঘোষিত হতে পারে।

হিন্দু বিবাহ আইনের কতগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য:
বৈধ বিবাহের শর্ত:
* হিন্দু হতে হবে।
* ন্যূনতম বয়স: পাত্রের ক্ষেত্রে ১৮ (বর্তমান সীমা ২১) ও পাত্রীর ক্ষেত্রে ১৫ (বর্তমান সীমা ১৮) বছর হতে হবে (এর থেকে কম বয়সে বিবাহ করা দণ্ডনীয় অপরাধ, যদিও তার জন্য বিবাহটি অবৈধ নাও হতে পারে)।
* বিবাহকালে পাত্রীর অন্য স্বামী বা পাত্রের অন্য স্ত্রী জীবিত থাকলে চলবে না।
* পাত্র ও পাত্রী পরস্পরের নিকট আত্মীয় (যা আইনত নিষিদ্ধ) হবেন না। (বিভিন্ন লোকাচার অনুয়াযী এগুলি শিথিলযোগ্য। যেমন দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় মামা তাঁর ভাগ্নীকে বিবাহ করতে পারেন)।
* উভয়ের কেউই সপিণ্ড হবেন না (কারোর সপিণ্ড সম্পর্ক বিচার করতে হলে প্রথমে দেখতে হবে সেই সেই ব্যক্তিকে প্রথম প্রজন্ম হিসেবে ধরে তার মায়ের দিক থেকে তিনটি প্রজন্ম আগে এবং বাবার দিক থেকে পাঁচটি প্রজন্ম আগে কারা ছিলেন। দুজনকে তখনই সপিণ্ড বলা হবে যদি একজনের সপিণ্ড সম্পর্কের কেউ অন্যজনের সপিণ্ড সম্পর্কের হয় অথবা একজন অন্যজনের সপিণ্ড সম্পর্কের কেউ হয়। )।

নিষিদ্ধ সম্পর্কগুলির বিবরণ:
* আপন সন্তান।
* পুত্র-বধূ, জামাতা, পিতার স্ত্রী, মাতার স্বামী।
* ভাই, বোন - আপন, মামাতো, মাসতুতো, পিসতুতো, খুড়তুতো, জ্যাঠতুতো সবাই।
* মেয়েদের মামা, কাকা, ও জ্যাঠা। ছেলেদের মাসি ও পিসি।

হিন্দু বিবাহ বিধিতে অসিদ্ধ এবং অসিদ্ধ-সম্ভব  বিবাহের কথা বলা হয়েছে।
বিবাহ অসিদ্ধ হবে যদি প্রাক-বিবাহ বাধা সত্বেও বিবাহ সংঘটিত হয়। এই বাধাগুলিকে আবার দুটো ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:

* নিরঙ্কুশ বাধা: এই বাধা সত্বেও কেউ বিবাহ করলে সেটি প্রথম থেকেই অবৈধ। যে কোনও পক্ষ আবেদন জানালে এটি অসিদ্ধ বলে জারি করা হবে।
* আপেক্ষিক বাধা: এক্ষেত্রে বিবাহ অসিদ্ধ বলে ঘোষিত হতে পারে যদি কোনও পক্ষ তার জন্য আবেদন করে।

নিরঙ্কুশ বাধাগুলি হল:
* বিবাহকালে পাত্রের অন্য স্ত্রী বা পাত্রীর অন্য স্বামী জীবিত থাকলে চলবে না।
* পাত্র-পাত্রী সপিণ্ড হলে
* পাত্র-পাত্রী সম্পর্ক নিষিদ্ধ সম্পর্কের মধ্যে পড়বে না
* এছাড়াও অন্য কারণে বিবাহ অসিদ্ধ হতে পারে, যেমন, বিবাহ-অনুষ্ঠানের আবশ্যকীয় অংশগুলি পালন না করা।

অসিদ্ধ বিবাহের সঙ্গে অসিদ্ধ-সম্ভব বিবাহের পার্থক্য হল অসিদ্ধ-সম্ভব বিবাহ বৈধ বলে ধরা হবে যদি না কোনও এক পক্ষ এটি অসিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য আবেদন জানায় এবং সেই আবেদন গৃহীত হয়ে বিবাহ বাতিল করা হয়। সেক্ষেত্রে বিবাহের দিন থেকেই এই বিবাহ অসিদ্ধ বলে ধরা হবে। অসিদ্ধ-সম্ভব বিবাহের মূলে চারটি কারণ থাকতে পারে:

* স্বামী পুরুষত্বহীন হয়।
* বিবাহের সময়ে কোনও পক্ষ পাগল বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়।
* বিবাহে সম্মতি আদায় করেছে শঠতার আশ্রয় নিয়ে বা জোর করে (এক্ষেত্রে: (১) শঠতা ধরা পরার বা বলপ্রয়োগের (যা শারীরিক মানসিক দুই হতে পারে) এক বছরের মধ্যে আবেদন জানাতে হবে); এবং (২) বলপ্রয়োগের বা শঠতা আবিষ্কৃত হবার পর আবেদনকারী স্বেচ্ছায় অন্যপক্ষের সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হন নি)
* বিবাহের পূর্বে পাত্রী যদি অন্য পুরুষের দ্বারা গর্ভবতী হয়ে থাকে। (এক্ষেত্রে, (১) বিবাহের সময়ে পাত্রীকে গর্ভবতী থাকতে হবে, (২) গর্ভধারণ ঘটেছে স্বামী ছাড়া অন্য কোনও পুরুষের দ্বারা; (৩) আবেদনকারী বিবাহের সময়ে এই গর্ভধারণের কথা জানতেন না; (৪) স্ত্রী গর্ভবতী জানার পর স্বামী স্বেচ্ছায়ে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হন নি); (৫) গর্ভবতী জানতে পারার এক বছরের মধ্যে স্বামীকে আবেদন করতে হবে।

হিন্দু বিবাহ বিধিতে বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করা চলতে পারে এবং উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে আদালত তা মঞ্জুর করতে পারে। কিন্তু বিবাহ হবার পর থেকে তিন বছরের মধ্যে এই আবেদন করা চলবে না। নিম্নলিখিত কারণগুলি উপযুক্ত কারণ হিসেবে গণ্য করা হবে:

* স্বামী বা স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত হলে।
* ধর্মান্তর গ্রহণ করে আর হিন্দু না থাকলে।
* আবেদনের প্রাক্কালীন তিন বছর ধরে স্বামী বা স্ত্রী কেউ যদি মস্তিষ্ক বিকৃতিতে বা আরোগ্যের অতীত কুষ্ঠ ব্যধিতে, কিংবা সংক্রামক যৌনব্যাধিতে ভুগলে।
* স্বামী বা স্ত্রী সংসার ত্যাগ করলে বা কোনও ধর্ম-সম্প্রদায়ে যোগ দিলে।
* স্বামী বা স্ত্রীর কেউ সাত বছর নিরুদ্দিষ্ট থাকলে।
* আদালত কর্তৃক আলাদা হয়ে থাকার হুকুমনামার (জুডিশিয়াল সেপারেশন) পর উভয়পক্ষ আর স্বামী-স্ত্রী রূপে সহবাস না করলে।
* আদালত দাম্পত্য-জীবন পূর্ণপ্রতিষ্টার  (রেস্টিট্যুশন অফ কনজুগাল রাইটস) হুকুম দেওয়া সত্বেও, হুকুম অমান্য করে দুই বছর আলাদা হয়ে বাস করলে।
* স্বামী যৌন-অত্যাচার করলে।
* স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্বেও অন্য কাউকে বিবাহ করলে। (যদিও সেই দ্বিতীয় বিবাহ অসিদ্ধ, কিন্তু এটিও বিবাহ-বিচ্ছদে আবেদনের একটি উপযুক্ত কারণ)।
* দুজনের সম্মিলিত ইচ্ছা।

আদালতে যদি বিবাহ-বিচ্ছেদের নির্দেশ দেয় (এবং তার বিরুদ্ধে কোনও আপীল না করা হয়), তাহলে এক বছর অপেক্ষা করার উভয়পক্ষই আবার বিবাহ করতে পারে। প্রসঙ্গতঃ বিবাহ-বিচ্ছেদের নির্দেশ পাবার আগে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হন, তাহলে সেই সন্তান স্বামীর বৈধ সন্তান বলে গণ্য হবে|

বিশ্বের এই প্রথম ভাঁজ করা স্মার্টফোন

January 21, 2019
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে ফোল্ডিং স্মার্টফোন নিয়ে এসেছে মার্কিন সংস্থা ‘রোয়োল ফ্লেক্সপাই’। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে এক প্রযুক্তি মেলাতে স্মার্টফোনটি নিয়ে আসা হয়েছে। গত ২০১৮ ইং সালের অক্টোবর মাসে চীনে এই ফোনটি লঞ্চ হয়েছিল।

‘রোয়োল ফ্লেক্সপাই’ ফোনটিতে রয়েছে ফোল্ডেবেল ডিসপ্লে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে মোট ২ লাখ বার ফোনটিকে ভাঁজ করা যাবে। এটির ডিসপ্লে বেশ উজ্জ্বল ও রঙিন। বৈচিত্র্য রয়েছে ফোনটির ফিচারেও৷

ফ্লেক্সপাইতে রয়েছে একটি ২৪ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা। সঙ্গে থাকছে উইএসবি টাইপ সি পোর্ট, ডুয়েল সিম স্লট, পাওয়ার বাটন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সার। ফোল্ডেবেল স্মার্টফোনে থাকছে স্নাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেট। ৬ ও ৮ জিবি র‌্যাম। ১২৮ থেকে ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। থাকছে ফার্স্ট চার্জিং সার্পোট।

কোম্পানিটি দাবি করেছে, মাত্র ৩০ মিনিটেই একেবারে ০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাবে ফোনটি। এটি চলবে Android 9.0 Pie অপারেটিং সিস্টেম এর দ্বারা। ইতিমধ্যেই চীনে প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘রোয়োল ফ্লেক্সপাই’ এই ফোল্ডিং মোবাইল এর দাম হতে চলেছে ১,৬০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯শত ৩৯ টাকার মত।

বাংলাদেশে ও ভারতে এই স্মার্টফোনটি কবে আসছে তা এখনো ঠিক করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে ফোনটি ডিস্ট্রিবিউশন করার জন্য এখনো পার্টনার পায়নি তারা। তবে যত তাড়াতারি সম্ভব এটি বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত কোম্পানিটি।

এবি ডি ভিলিয়ার্স এর স্ত্ৰী ড্যানিয়েল 'পাগলের মতো' মিস করছেন স্বামীকে

January 21, 2019
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগএ খেলতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ১৭ই জানুয়ারী ২০১৯ইং সকালে ঢাকায় পৌঁছান এই দক্ষিণ আফ্রিকান বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যান। এরপর ১৯ই জানুয়ারী ২০১৯ইং  সিলেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন বিপিএল এ তার প্রথম ম্যাচ। তবে এরই মধ্যে স্বামীকে খুব মিস করতে শুরু করেছেন তার স্ত্রী ড্যানিয়েল ডি ভিলিয়ার্স।

বাংলাদেশের আসার মাত্র চার দিনের মাথায় স্বামীকে তার খুব মনে পড়ছে এবং স্বামীকে ছাড়া নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ড্যানিয়েল ডি ভিলিয়ার্সের একটি স্ট্যাটাস। একই সময়ে ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে এবি ডি ভিলিয়ার্স এর স্ত্রী ড্যানিয়েল লেখেন, 'দীর্ঘদিন পর এটি তোমার প্রথমবারের মতো এত লম্বা ট্যুর। তুমি হয়তো ভাবতে পারো, আমি এর সঙ্গে অভ্যস্ত। কিন্তু ছোট দুই বাচ্চাকে নিয়ে জীবনটা এখন অন্যরকম তোমাকে ছাড়া। তারা প্রত্যেক সকালে ঘুম থেকে উঠে দুটি শব্দ করে- বাবা কোথায়? আমরা তিনজন ধীরে ধীরে আমাদের নতুন রুটিনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি'।

স্ট্যাটাসের শেষের দিকে তিনি লেখেন, 'তোমাকে পাগলের মতো মিস করছি। তুমি আমাদের জন্য যা করেছ, তার জন্য আমরা খুবই কৃতজ্ঞ'। তুমি  যেখানেই থাকো ভালো থেকো।

Sunday, January 20, 2019

ওয়ানডেতে বিরাট কোহলিই বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান

January 20, 2019
ছবি: সংগৃহীত

বিরাট কোহলি ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের একজন হতে যাচ্ছেন- এমন কথা সব সময়ই অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মুখে শুনা যায়। তবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের বিশ্বাস, ইতোমধ্যেই কোহলি 'সর্বকালের সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে কোহলির আগ্রাসী নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনার কিছুই দেখেন না মাইকেল ক্লার্ক।

অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপ জয়ী এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, 'এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটারদের মাঝে কোহলিকেই আমার কাছে সেরা ব্যাটসম্যান মনে হয়। সে ভারতের হয়ে যা যা অর্জন করেছে, সেটা দেখে এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।'

৩০ বছর বয়সী এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ইতিমধ্যেই ৫৯.৬৮ গড়ে ৩৯টি সেঞ্চুরিসহ ২১৯ ওয়ানডেতে ১০ হাজার ৩৮৫ রানের মালিক হয়েছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান কোহলির নেতৃত্বে সদ্যই ভারতীয় দল অস্টেলিয়ায় ঐতিহাসিক সফর শেষ করেছে।  প্রথমবারের মতো জিতে নিয়েছে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ। শুধু তাই নয়  অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ী এশিয়ার প্রথম অধিনায়কও তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোহলি একের পর এক সেঞ্চুরি করেই যাচ্ছেন। শচীন টেন্ডুলকারের ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলতে পারেন। এই কোহলিকে নিয়ে  ক্লার্ক আরও বলেন, 'নিজ দেশের জন্য ম্যাচ জয়ে কোহলির আবেগের প্রতি আপনাকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। হ্যাঁ সে একটু আগ্রাসী। তবে তার অঙ্গীকার নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। ওয়ানডে ক্রিকেটে সে সর্বকালের সেরা।'

বুধবার থেকে শুরু হতে চলা নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে শুরু হবে কোহলির পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট। নিউজিল্যান্ড সফরে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে ও ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারতীয় দল। বুধবার নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড।

ভারত বর্ষের বর্তমান আইন ও আদালত

January 20, 2019
ছবি: সংগৃহীত

ভারত বর্ষের সর্বোচ্চ আদালত হল সুপ্রীম কোর্ট, আর রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে সুপ্রীম কোর্টে করতে হয়। যে-সব ট্রাইব্যুনালগুলি সুপ্রীম কোর্টের এক্তিয়ারে রয়েছে তাদের আপীল গুলিও সুপ্রীম কোর্টে আসে। রাজ্য ও রাষ্ট্রের মধ্যে বা দুইটি রাজ্যের মধ্যে বিবাদ ঘটলে - তা সুপ্রীম কোর্টেই ফয়সলা হয়। এছাড়া নাগরিকদের মৌল-অধিকার রক্ষা করার জন্য সুপ্রীম কোর্ট নানা আদেশ জারি করতে পারে। রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের প্রধান ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। তার আগে কোনও অপরাধের জন্য তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করাতে হলে লোকসভা ও রাজ্যসভা - দুই সভারই  অনুমোদন লাগে।

রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত হাই কোর্টের নিচে থাকে নিম্ন আদালতগুলি। হাইকোর্টের কাজ হল নিম্ন আদালতের আপীল গুলি শুনে তার সমাধান করা। হাইকোর্টের এক্তিয়ারে যে-সব ট্রাইব্যুনাল থাকে তাদের আপীল শোনাও হাই কোর্টের কাজ। হাইকোর্টের বিচারপতিদেরও নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। এই নিয়োগের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। হাই কোর্টের সব বিচারপতিকেই ৬২ বছর বয়সে অবসর নিতে হয়। হাই কোর্টেরও কোন বিচারপতিকে পদ থেকে অপসারণ করতে হলে লোকসভা ও রাজ্যসভার অনুমোদন দরকার হয়।

রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলি দুটি বিভাগে বিভক্ত: একটি ফৌজদারি আদালত বা ক্রিমিন্যাল কোর্ট, অন্যটি দেওয়ানি আদালত বা সিভিল কোর্ট।
ক্রিমিন্যাল বা ফৌজদারী আদালতের সর্বনিম্নে হল ম্যাজিস্ট্রেটের (প্রথম শ্রেণী বা দ্বিতীয় শ্রেণীর) আদালত। তার ওপরের আদালত হল সেশান জজের আদালত। ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের আপীলগুলি যায় সেশান জজের কোর্টে। আর সেশান জজের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে হাইকোর্টে যেতে হয়।

সিভিল কোর্টের নিম্নতম আদালত হল মুন্সেফ-এর আদালত। মুন্সেফ-এর আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে সাব-জজের আদালতে যেতে হয়। সাব-জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে যেতে হয় জেলা আদালত বা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে। জেলা আদালতের আপীল যায় হাই কোর্টে, হাইকোর্টের আপীল যায় সুপ্রীম কোর্টে। সাধারণত যেকোনো কোনও মামলায় দুইবার আপীল করা যায়। প্রথমবার আইন ও বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে, দ্বিতীয়বার শুধু আইনের ভিত্তিতে।


সিভিল আর ক্রিমিন্যাল কেস-এর পার্থক্য:
সিভিল কেস বা দেওয়ানি মামলা যে কোন ব্যক্তি বা সংস্থা অন্য কারোর বিরুদ্ধে আনতে পারে। যে মামলা আনে তাকে বলা হয় বাদী। অন্যপক্ষে ফৌজদারী মামলায় অভিযোক্তা হয় সরকার, অর্থাৎ শুধু সরকার বা গভর্নমেণ্টই ফৌজদারী মামলা আনতে পারে। সিভিল আর ক্রিমিন্যাল আইনের আরেকটা বড় পার্থক্য হচ্ছে শাস্তি-সংক্রান্ত। ক্রিমিন্যাল কেস-এ দোষীর শাস্তি হল সশ্রম (বা বিনাশ্রম) কারাবাস বা অর্থদণ্ড অথবা দুটোই। অর্থদণ্ডের টাকা সরকারের তহবিলে যায়। কোন কোন বিশেষ অপরাধের ক্ষেত্রে দোষীর মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। সিভিল মামলায় হেরে গেলে প্রতিবাদী বা অপরাধীকে কখনোই কারাবাস করতে হয় না। এই মামলায় অপরাধীদের শাস্তি হল বাদীর ন্যায্য দাবী মেনে নেওয়া এবং অপরাধের জন্য বাদীর যে-অর্থ নষ্ট হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে অনেক সময় এই ক্ষতিপূরণ শুধু বাদীর আর্থিক ক্ষতির (সাধারণ অর্থে) পূরণ নয় - অপরাধের জন্য বাদীর সন্মানহানী বা অন্য কোনও সম্মানহানী ঘটে থাকলে, তার জন্য একটি আর্থিক ক্ষতিপূরণও কোর্ট ধার্য করতে পারে।

ক্রিমিন্যাল বা ফৌজদারি মামলায় অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব সব সময়ে সরকারের। অভিযুক্তকে ধরে নেওয়া হবে নিরপরাধ বলে। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে, সে অপরাধী। এর দুই একটি ব্যতিক্রম আছে। যেমন, অভিযুক্ত যদি দাবী করে যে, সে আত্মরক্ষার্থে অপরাধ করেছে, অথবা সে সুস্থমস্তিষ্ক নয় বলে দোষী নয়, ইত্যাদি - সেক্ষেত্রে এই দাবীগুলির সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে অভিযুক্তের ওপর। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত তখনই দোষী বলে সাব্যস্ত হবে - যদি সংশয়াতীত ভাবে প্রমাণিত হয় যে, সেই দোষী।

দেওয়ানি মামলায় অভিযোগকারীকেই তার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য সংশয়াতীত প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। মোটামুটি ভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণই যথেষ্ঠ।

দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী সালমা!

January 20, 2019
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। বিয়ের বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। এসময় তিনি বলেন , ২০১৮ইং  সালের ৩১ই  ডিসেম্বর তিনি বিয়ে করেছেন। তার বরের নাম সানাউল্লাহ সাগর। তিনি পেশায় এ্যাডভোকেট। বর্তমানে তার স্বামী লন্ডনে আছেন। তার বার অ্যাট-ল শেষ করতে ৪ মাস বাকি।

সালমা আরো জানান, কোনো কোনো সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে আমি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যারিস্টারি পড়তে যাচ্ছি। আসলে যুক্তরাষ্ট্রে না আমি পড়তে গেলে ব্রিটেনে যাবো। বর্তমানে ঢাকায় বিপিবি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ছে সালমা। সেকেন্ড ইয়ার শেষ হয়েছে। ফলাফল প্রকাশ হলে সিদ্ধান্ত নিব দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে থার্ড ইয়ার ও ফাইনাল ইয়ার ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে কিংবা ওখানকার অন্য কোনো ইউনিভার্টিতেও করতে পারি। কোন ভার্সিটিতে পড়বো এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নাই।

সালমা আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে সেখানেই বার অ্যাট-ল করবো। ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরবো। পড়ালেখা চলছে। নির্বাচনের পরেই বাইরে যাওয়ার প্রসেসিং শুরু করবো। এরই মধ্যে আমার কয়েকজন বন্ধু পড়তে চলেও গিয়েছে।’

এর আগে ২০১১ইং  সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন সালমা। শিবলী সঙ্গীত পরিবারের ছেলে হলেও পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১২ সালে ১ জানুয়ারি তাদের সংসারে কন্যা সন্তান স্নেহার জন্ম হয়। সাংসারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ইং সালের ২০ নভেম্বর স্বামী শিবলী সাদিকের সাথে রাজধানীর ধানমণ্ডি একটি হোটেলে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিচ্ছেদের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

Saturday, January 19, 2019

প্রাচীন যুগের আইন ও আদালত

January 19, 2019
ছবি: সংগৃহীত

অন্যায়ের জন্য শাস্তি দেওয়ার প্রচলন এই পৃথিবীতে বহু বছর আগে থেকেই ছিল এবং সেই প্রচলন এখনো আছে। সমাজের প্রধানরা তাঁদের ধর্মীয় বিদ্যাবুদ্ধি ও নৈতিক চিন্তাধারা ব্যবহার করে দোষীর শাস্তি বিধান করতেন প্রাচীন যুগে। কালের পরিবর্তনে তাঁদের এই চিন্তাধারা লিখিত রূপ পেয়ে আইন হিসাবে পরিণত হয়। তবে সে-যুগে সব দেশেই কিন্তু আইনের সঙ্গে ধর্মের যোগ ছিল না। যেমন প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার আইনসূত্র, যেগুলি 'কোড অফ হাম্মুরাবি' বলে পরিচিত - সেগুলি ছিল মোটামুটি ভাবে ধর্ম-নিরপেক্ষ - ধর্ম ও তত্সংলগ্ন নীতিবোধের প্রভাব তার ওপর বিশেষ ছিল না। হাম্মুরাবি ছিলেন ব্যাবিলোনের রাজা। ১৭৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। তাঁর রাজত্বকালে বড় বড় পাথরের ওপর এই আইনগুলি লিপিবদ্ধ করা হতো। ২৮২ টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত এই আইনসমূহে বাণিজ্য, বিবাহ, দাসত্ব, কর্জ - সব কিছুই স্থান পেয়েছিল। শাস্তির যে-সব বিধান এখানে ছিল - আজকের যুগে সেগুলি বর্বর মনে হবে। চুরির অপরাধে আঙুল কেটে নেওয়া, বিবাহিত নারীকে কোনও পরপুরুষ চুম্বন করলে তাঁর ঠোঁট কেটে ফেলা, অপবাদ প্রচারের শাস্তি হল জিভ কেটে নেওয়া, বাড়ি ভেঙে পড়ে বাড়ির মালিকের পুত্রের মৃত্যু হলে, গৃহনির্মাতার পুত্রকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

অনুমান করা হয় যে, তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত মিশর ও চীন দেশেও ধর্ম-নিরপেক্ষ আইনের প্রচলন কিছুটা ছিল। অন্যপক্ষে পুরনো যুগে হিন্দু, ইহুদী, খিরিস্টান ও মুসলিম সমাজের আইনের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ বেদ-উপনিষদ, বাইবেল ও কোরাণের প্রভাব লক্ষ করা যায়। ১৩০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাইবেলের 'টেন কমাণ্ডমেণ্ট'-এর সঙ্গে যে-সব আইনের কথা লেখা হয়েছিল - সেগুলিতে শাস্তির বহরও অনেকটা হাম্মুরাবির বিধানের মতই কঠোর জাতীয় চিন্তাধারা-প্রসূত।

আমাদের দেশে মনুর ধর্মশাস্ত্রের আইনে (আনুমানিক ১২৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৮৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ধর্ম, বিশেষকরে ব্রাহ্মণত্বের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। হিন্দুদের মধ্যে জাতিভেদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও বিভিন্ন ধরণের আইনের সঙ্গে সেই জাতিভেদকে জড়িত করা হয়েছে এই আইন-পুস্তকে। তবে মনু শাস্তির বিধান দিয়েছেন অল্প ক্ষেত্রেই। অঙ্গচ্ছেদনের উল্লেখ শাস্তি হিসেবে থাকলেও, সাধারণভাবে শাস্তিগুলি অত ভয়াবহ নয়। কোটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও (আনুমানিক ২৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) বেশ কিছু আইনের উল্লেখ আছে। সেখানেও ধর্মের প্রচ্ছন্ন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কৌটিল্যের কিছুকাল আগে সম্রাট অশোক (আনুমানিক ২৬৫-২৩৮ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে, মতান্তরে ২৭৪-২৩২ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) বিভিন্ন প্রস্তর-স্তম্ভে আইন বিষয়ক বিভিন্ন রাজাজ্ঞা বা নির্দেশ জারি করেছিলেন। এই রাজাজ্ঞার বেশ কয়েকটিতে অশোকের উদার ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর সপ্তম প্রস্তর-স্তম্ভ রাজাজ্ঞার এক জায়গায় তিনি লিখেছিলেন:

আবেদন শোনার ও তার বিচারের ভার রজ্জুকদের ওপর ন্যাস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের কর্তব্য নির্ভয়ে অবিচলিত চিত্তে বিশ্বস্তভাবে পালন করতে পারে। আমার ইচ্ছা যে আইন এবং সাজা যেন সব সময়ে একই ভাবে প্রযোজ্য হয় এমন কি আমি এতদূর পর্যন্ত গিয়েছি যে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামী যারা এখন কারাগারে আছে, তাদের ওপর দণ্ডাদেশ পালন করা তিন দিনের জন্য স্থগিত রেখেছি। এই সময়ের মধ্যে তাদের আত্মীয়রা আপীল জানাতে পারে - মৃত্যুদণ্ড মকুবের জন্য। যদি কেউ আপীল না করে, তাহলে আসামীরা দান-ধ্যান বা উপবাস করে পর-জীবনের জন্য পূণ্য অর্জন করতে পারে। বলাবাহুল্য আমার ইচ্ছা এই যে, যদিও আসামীদের স্বল্প সময়, কিন্তু তার মধ্যেও তারা পরজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে এবং সাধারণের ধর্মাচরণ, আত্ম-সংযম ও বদান্যতা বৃদ্ধি পায়।

ধর্মের প্রভাব সে-যুগের বিচার ব্যবস্থার ওপর থাকলেও, বিচারের ভার সাধারণত রাজা বা গোষ্ঠিপ্রধানেরই হাতে ছিল। বড় বড় রাজাদের পক্ষে একা এই কাজ করা সম্ভবপর ছিল না, তাই নিজেদের আত্মীয় বা আমত্যদের ওপর ভার দিতেন বিচারকের কাজ করার জন্য। তবে অনেক সময়েই রাজারা স্বাধীনভাবে তাঁদের ন্যায়পালন বা বিচার করার ক্ষমতা হারিয়েছেন, যখন তাঁদের রাজ্যে ধর্মের জোয়ার এসেছে। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে ধর্মপ্রধানেরা (যাজকগোষ্ঠী, মোল্লাসমাজ, প্রভৃতি) বিচারকের আসনে বসেছেন কিংবা না বসলেও বিচারকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। চীন দেশ ও বহু মুসলিম দেশে বিংশ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত এই অবস্থা বিদ্যমান ছিল।

বিচার-ব্যবস্থার প্রথম দিকে উকিল শ্রেণী বলে কিছু ছিল না। নিজেদের বক্তব্য নিজেদেরই বিচারককে জানাতে হত। কিন্তু আইন যখন জটিলরূপ নিতে শুরু করল, সাধারণের পক্ষে তা ভালোভাবে জানা আর সম্ভবপর হল না - তখন প্রয়োজন হল বিশেষজ্ঞদের। তথাকথিত উকিল শ্রেণী বা আইনজ্ঞদের আত্মপ্রকাশ সম্ভবত প্রথম হয় গ্রীস ও রোমে - আনুমানিক ২০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। প্রথমে অবশ্য এঁদের সন্মানের চোখে দেখা হত না। রোম সাম্রাজ্যের শেষের দিকে এঁরা সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। শুধু কথায় নয় লিখিত ভাবেও এই সময় থেকে এঁদের অনেক নথিপত্র তৈরী করতে হত। ধীরে ধীরে এটি একটি সন্মানীয় জীবিকা হিসেবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হল।

উকুনের ‘পুরুষাঙ্গ’, নারীদের শরীরে খিদে মেটান সঙ্গমের মাধ্যমে

January 19, 2019
ছবি: সংগৃহীত

বিচিত্র এক দৈহিক মিলন! নারী সঙ্গীর শরীরে জন্ম নিচ্ছে উকুনের ‘পুরুষাঙ্গ’। সে তাই দিয়ে শারীরিক সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে। পুরুষ সঙ্গীর শরীরে রয়েছে যোনির মতো দেখতে অঙ্গ। এমন আশ্চর্য সঙ্গম চলে দিনের পর দিন। প্রাণীবিজ্ঞানে যৌন মিলনের চেনা ছবির একেবারেই উলটো ছবি এই বিশেষ প্রজাতির উকুনদের সংসারে। দেখে বিস্ময়ে হতবাক গবেষকরা।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রজাতির উকুনের দেখা মেলে। এরা গুহাবাসী। ‘বায়োলজি লেটার্স’ নামের এক জীববিদ্যা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে এই উকুনদের শরীরী খেলার সন্ধান মিলেছে। গবেষণাপত্রটির অন্যতম রচয়িতা জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজুনোরি ইওশিজাওয়া জানাচ্ছেন, স্ত্রী-উকুনেরা পুরুষ সঙ্গীদের সঙ্গে বহুক্ষণ সঙ্গম করতে থাকে। দেখা গিয়েছে ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত এরা মিলিত হয়েছে!

কিন্তু কেন এমন উগ্র যৌনতা? এর পিছনের কারণ চমকে দেয়। গবেষকরা জানাচ্ছেন, গুহার ভিতরে খাদ্যের সন্ধান পাওয়া বেশ শক্ত। তাই খিদে মেটাতেই যৌনতার আশ্রয় নেয় স্ত্রী-উকুনেরা। পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় তারা টেনে নেয় সঙ্গীর শরীরের শুক্রাণু। যা রীতিমতো পুষ্টিকর। এভাবেই তারা খিদে মিটিয়ে শরীর রক্ষা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা সামনে কোনও পুরুষ সঙ্গী দেখলেই তার সঙ্গে মিলিত হয়। সঙ্গীর সম্মতি আছে কিনা সে নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা থাকে না।

গবেষকরা এমনও দেখেছেন, পুরুষ সঙ্গীকে ধরে তার শরীর ছিন্ন করে গেলেও তখনও সঙ্গমে লিপ্ত থাকে স্ত্রী-উকুন। তাদের শরীরে উৎপন্ন পুরুষাঙ্গটির এমনতর সংযুক্তি ক্ষমতা দেখে বিস্মিত গবেষকরা। ঠিক কী করে এমন অদ্ভুত পরিবর্তন হল এই প্রজাতির উকুনদের শরীরে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। 

এরশাদ গুরুতর অসুস্থ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাবেন

January 19, 2019
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও নবগঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচএম এরশাদ গুরুতর অসুস্থ। তার শরীর বেশ ভেঙে পড়েছে। প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি।

অনেক দিন ধরে তার উঠতে-বসতে ও হাঁটাচলায় সমস্যা হলেও গত দুইদিন ধরে তার নড়াচড়া করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। পরিমাণমতো খেতেও পারছেন না তিনি। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন এরশাদ এককথায় বিছানায় পড়ে গেছেন। এই অবস্থায় আগামীকাল রবিবার তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে।

এরশাদের ছোট ভাই ও জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের শরীর দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়েছে। হাঁটাচলা তো করতেই পারছেন না, এমনকি বিছানায় নড়াচড়া করতেও তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। চিকিত্সকরা খাবারের পরিমাণ বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন এরশাদ সাহেবকে। কিন্তু তিনি ঠিকমতো খেতেও পারছেন না, আজ (শুক্রবার) একটু খেয়েছেন, তাও পরিমাণে খুব সামান্য। সম্ভবত তার লিভারে খুব সমস্যা হচ্ছে।’

জিএম কাদের জানান, এরশাদ আজ শনিবার সিএমএইচ থেকে বারিধারার বাসায় যাবেন। সেখান থেকে আগামীকাল বেলা ১২টা ২০ মিনিটের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাবেন। সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তিনি চিকিত্সা নেবেন, সেখানে হয়তো কয়েক সপ্তাহ থাকতে হতে পারে। জানা গেছে, এরশাদের সঙ্গে তার এক ছোট ভাই, ব্যক্তিগত সচিব ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার ও একজন ব্যক্তিগত স্টাফ সিঙ্গাপুর যাবেন।

সিএমএইচে এরশাদকে দেখতে যাওয়া জাপার একাধিক নেতা জানান, এরশাদ বর্তমানে একা-একা বাথরুমেও যেতে পারছেন না। ওষুধ খাওয়ার জন্য পানির গ্লাসও নিজ হাতে ধরতে পারছেন না। কথাবার্তাও খুব কম বলছেন। এমনকি দলের ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য কলম ধরতেও তার কষ্ট হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এরশাদ। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময় তাকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে। ১০ই  থেকে ২৬ই  ডিসেম্বর ২০১৮ ইং পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে চিকিত্সা নিলেও তার অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। রংপুর-৩ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও অসুস্থতার কারণে একদিনও প্রচারণায় যেতে পারেননি। গত ৫ই  জানুয়ারি ২০১৯ ইং হুইল চেয়ারে করে সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে এমপি হিসেবে শপথ নেন।

এরশাদের অবর্তমানে বা চিকিত্সাধীন অবস্থায় বিদেশে থাকাকালীন জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে দলীয় বিস্বাস যোগ্য সূত্রে জানা গেছে। গতকাল জাপার পক্ষ থেকে এরশাদ এর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এতথ্য জানানো হয়। অবশ্য ‘সাংগঠনিক নির্দেশনা’ শিরোনামে লেখা এই চিঠিতে এরশাদ স্বাক্ষর করেছেন গত বুধবার। সেটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে গতকাল। জিএম কাদের বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের অবর্তমানে কিংবা চিকিত্সার জন্য বিদেশে থাকাকালে কে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়ে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে, সে কারণেই তিনি বিষয়টা একদম স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অসুস্থ হলেও তার মানসিক অবস্থা ঠিক আছে। সেই কারণে বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি সবকিছু ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।’

এর আগে এরশাদ গত ১লা  জানুয়ারি ২০১৯ইং  এক চিঠিতে তার অবর্তমানে জাপার চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করেছিলেন। ‘অবর্তমান’ শব্দটি স্পষ্ট না হওয়ায় দলের ভেতরে এনিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এই ধোঁয়াশা দূর করতেই নতুন করে এরশাদ নতুন করে নির্দেশনা দিলেন।

Friday, January 18, 2019

এন্ড্রয়েড মোবাইল নিরাপত্তার জন্য কিছু টিপস

January 18, 2019
ছবি: সংগৃহীত

এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনে কম্পিউটারের কাছাকাছি অনেক কাজই করা যায়। কিছু এন্ড্রয়েড ফোনের প্রসেসর ও র‍্যাম অনেক কম্পিউটার এর থেকেও বেশি হয়ে থাকে। এই সবকিছুই এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তৈরি। কিন্তু ব্যবহারকারীরা যদি সঠিকভাবে এন্ড্রয়েড মোবাইল  ব্যাবহার করতে না পারেন, তবে ঘটতে পারে বিপত্তি। এন্ড্রয়েড ফোনকে নিরাপদ রাখতে নিচে কিছু প্রয়জোনীয় টিপস দেওয়া হলো :

নিয়মিত আপডেট

অনেকে ডেটা খরচ করার ভয়ে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপস আপডেট করতে চান না। কিন্তু এটা হতে পারে ডিভাইস ও আপনার তথ্যের গোপনীয়তার জন্য মারাত্নক হুমকি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের কোডে ভুলত্রুটি ধরা পড়ে যা সাইবার হামলাকারীরা লুফে নেয়। ডিভাইস নিয়মিত আপডেট করলে এই ভয় থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়া লেটেস্ট আপডেট অনেক নতুন ফিচারও নিয়ে আসে।


মোবাইল লক করে রাখুন

অনেকেই আছেন যারা মোবাইল লক করেননা।  আপনি যদি আপনার ফোন লক না করেন, তাহলে এর বিপদ টের পাবেন তখনই, যখন আপনার ফোনটি চুরি হয়ে যাবে, কিংবা অন্য কোনোভাবে হারিয়ে যাবে। সেই দুর্দিনের অপেক্ষা না করে এখনই ফোন লক করে রাখুন। আনলক করার জন্য এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসিয়াল রিকগনিশনের মত সুবিধাজনক পদ্ধতি উপলভ্য আছে। সুতরাং কেন আপনি অরক্ষিত থাকবেন? আর হ্যাঁ, পাসওয়ার্ড ও পিন কোড সেট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন কিছু দিবেন যা কেউ অনুমান করতে পারবেনা।

শুধুমাত্র অফিসিয়াল সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য অফিসিয়াল ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যাপ ডাউনলোডের স্থান হচ্ছে গুগল প্লে স্টোর। বাইরে থেকে এপিকে ফাইল এনে ফোনে ইনস্টল করলে নিজের অজান্তেই ভাইরাসের কবলে পড়তে পারেন। গুগল প্লে থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সেটির রিভিউ এবং অ্যাপটি কতবার ইনস্টল করা হয়েছে তা দেখলে এর জনপ্রিয়তা ও সঠিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

এনক্রিপশন ব্যবহার করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনাল ও এক্সটেন্ডেড স্টোরেজ পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে রাখুন। তাহলে পাসওয়ার্ড ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই আপনার ফোনের কোনো ডেটা এক্সেস করতে পারবেনা। এনক্রিপ্ট না করলে ফোনের মেমোরি কার্ড অথবা ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা তথ্য সহজেই বের করে আনা সম্ভব। এনক্রিপশন চালু করতে স্মার্টফোনের সেটিংসের সিক্যুরিটি সেকশন দেখুন।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট

অনেকেই ফোনের মধ্যে নোটস অ্যাপে বিভিন্ন অনলাইন সেবার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড লিখে রাখেন।  এভাবে গোপনীয় ডেটা সংরক্ষণ করলে তা হারিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বরং কোনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ ব্যবহার করুন (যেমন লাস্টপাস)। অথবা গুগল ক্রোমেও পাসওয়ার্ড সেভ করা যায়, যা গুগলের সার্ভারে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করুন

যদি এমন হয়, আপনি একটি অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, তাও এটি ফোনে ইনস্টল করা আছে, তাহলে সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি অ্যাপটি রিমুভ করে ফেলেন। কারণ বিভিন্ন অ্যাপ আপনার ডিভাইসের বিভিন্ন পারমিশন চায়। যত কম অ্যাপ ইনস্টল করবেন, ডিভাইস হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও তত কম থাকবে।


অপ্রয়োজনীয় কানেকশন বন্ধ রাখুন

যখন দরকার হচ্ছেনা তখন ফোনের মোবাইল ডেটা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এসব কানেকশন বন্ধ করে রাখুন। এগুলো যেমন আপনার ফোনের ব্যাটারি বাঁচাবে, তেমনি ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই হ্যাকের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করবে।

ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

January 18, 2019
ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক বিশ্বকে ভাবা যায় না। আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে ইন্টারনেটে ব্যাবহার করছি ও এর সুফল ভোগ করছি।  প্রতিদিন আমরা কত সাইট ভিজিট করি, আমাদের প্রয়জনীয় কনটেন্ট দেখি। আর এই সুযোগে অনলাইন দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চোখে ধূলা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি করছে। এই দুর্বৃত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে ফেলছে, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে, পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে প্রতারণা করছে, আরও অনেক ক্ষতি করছে।  এই ধরণের সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কিছু টিপস নিয়ে আজকের পোস্ট।

কোনো কিছু ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে সাবধান হোন

ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করার সময় আকর্ষিত বিজ্ঞাপনে অনেক কিছুই ডাউনলোডের অফার দেখবেন। এগুলোতে ক্লিক করার আগে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত সাইট ছাড়া অন্য কোনো সাইট থেকে ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। বিভিন্ন সাইটে ক্র্যাক, কিজেন প্রভৃতির কথা বলে ম্যালওয়্যার/ভাইরাস ধরিয়ে দেয়া হয়। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি নির্ভরযোগ্য সাইট ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ডাউনলোড না করেন। আর ডাউনলোডকৃত ফাইল স্ক্যান করার জন্য কোনো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার (যেমন উইন্ডোজ ডিফেন্ডার) ব্যবহার করতে পারেন।

পাসওয়ার্ড নিয়ে সতর্ক 

পাসওয়ার্ড মনে রাখার ভয়ে অনেকেই একাধিক সাইটের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা মোটেই ঠিক না। কারণ, এতে আপনার ঐ পাসওয়ার্ডটি বেহাত হয়ে গেলে আপনার সকল অনলাইন একাউন্ট ঝুঁকিতে পড়বে। নিজে পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ব্রাউজার, যেমন গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, মাইক্রোসফট এজ প্রভৃতিতে বিল্ট-ইন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থাকে। এগুলো অনলাইনে সিঙ্ক্রোনাইজ করে একাধিক ডিভাইসে এক্সেস করা যায়। সুতরাং আপনি চাইলে এসব সেবা ব্যবহার করতে পারেন। এবং অবশ্যই কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন ও প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে লিখে রাখুন। দুটি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপের নাম হচ্ছে লাস্টপাস ও ওয়ানপাসওয়ার্ড।

ব্রাউজারের এড্রেসবার খেয়াল করুন

এমন অনেক আক্রমণকারী আছে, যারা জনপ্রিয় সাইটের মত দেখতে নকল সাইট তৈরি করে সেখানে লোকজনকে নিয়ে লগইন করতে বলে। ভিজিটররা তখন তাতে ইউজারনেম পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করেন। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে অনলাইনে তথ্য দেয়ার আগে ব্রাউজারের এড্রেসবার খেয়াল করুন যে আপনি কোন সাইটে আছেন। এক্ষেত্রেও একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ দারুণ কাজে আসবে। কারণ, একটি সাইটের জন্য আপনার সেইভ করা পাসওয়ার্ড অন্য সাইটে নিজ থেকে সাজেস্ট করেনা। সুতরাং যখন আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করা সাইটের লগইন পেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড না দেখাবে, তখন এড্রেস বার দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি আসলে কোন সাইটে আছেন। এড্রেসের শুরুতে সবুজ রঙে HTTPS থাকাটা খুবই জরুরি। কারণ শুরুতে HTTP (S থাকেনা) লেখা সাইটগুলো ব্রাউজ করার সময় ইন্টারনেট কানেকশন হ্যাক করে তৃতীয়পক্ষ আপনার গোপনীয় তথ্য (পাসওয়ার্ড, ডেবিট কার্ড তথ্য প্রভৃতি) জেনে ফেলতে পারে।

অনলাইন একাউন্টে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন ওয়েবসাইট সেগুলোর ব্যবহারকারীদের ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ছাড়া দ্বিতীয় একটি উপায়ে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এটি ব্যবহার করলে প্রতিবার নতুন ডিভাইস/ব্রাউজারে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেবায় (উদাহরণস্বরূপ জিমেইলে) সাইন ইন করার সময় ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ইনপুট করার পরেও সেখানে আরেকটি পিন কোড দিতে হবে। এই কোডটি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আসে। এগুলোকে সিক্যুরিটি কোডও বলা হয়, যা প্রতিবারই সার্ভার থেকে পাঠানো হয়। ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড নিয়ে নিলেও একই সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটি হ্যাকারের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এভাবেই আপনার একাউন্টটিও হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করুন

বর্তমানে বিশ্বস্ত ইন্টারনেট ব্রাউজার বলতে গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, মজিলা ফায়ারফক্সকে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা যায়। অপেরা ব্রাউজারও ভাল। তবে ইউসি ব্রাউজারের বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইউসি ব্রাউজারের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ এসেছে। এমনকি গুগল প্লে স্টোর থেকে ইউসি ব্রাউজার একবার মুছেও দেয়া হয়েছিল।

ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন

আজকাল বিভিন্ন স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া যায়। এসব ওয়াইফাই হটস্পট ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।