Saturday, March 16, 2019

রাজনীতিতে মিমি-নুসরাত

March 16, 2019
ছবি: সংগৃহীত 
রাজনীতির সাথে শোবিজের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। এবার ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে শোবিজ তারকাদের সরব উপস্থিতি। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখালেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী!

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এমন ৪২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের পার্টির নেত্রী মমতা। সেখানে প্রার্থী হিসেবে নাম আছে টলিউডের এই মুহূর্তে জনপ্রিয় দুই নায়িকা নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তী।

টলিগঞ্জের এই দুই গ্ল্যামার কন্যা এবার লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিবেন। আসন্ন লোকসভা নিবার্চনে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল। আর তাতেই ঠাঁই পেয়েছেন এই দুই নায়িকা। যাদবপুর থেকে তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন মিমি চক্রবর্তী। অন্যদিকে বসিরহাট থেকে প্রার্থী হচ্ছেন নুসরাত জাহান।

এর আগে বশিরহাট থেকে নির্বাচণ করেছে ইদ্রিশ আলি। সেখানে এবার তার জনপ্রিয়তা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেকারণেই সেখানে তারকা চমক দিতে নুসরাত জাহানকে প্রার্থী করেছে দলটি। এছাড়াও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম জিতেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে গতবারের প্রার্থী ছিলেন সুগত বসু। পেশাগত ব্যস্ততার কারণেই তিনি এবার দাঁড়াতে পারছেন না বলে সেখানে প্রার্থী হলেন মিমি।

এ বছরও ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে থাকছেন গতবারের প্রার্থী অভিনেতা দেব। কেন্দ্র বদল হয়েছে মুনমুন সেনের। বাঁকুড়ার পরিবর্তে এবার তিনি আসানসোল কেন্দ্র থেকে লড়বেন। এছাড়াও ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে এ বছর উমা সোরেনের পরবর্তে প্রার্থী হলেন জনপ্রিয় আদিবাসী নায়িকা বীর বাহা সোরেন।

মমতার চমক মিমি-নুসরাত, বাদ সন্ধ্যা-তাপস : লোকসভার প্রার্থী তালিকায় কমবে তারকা, বাড়বে রাজনৈতিক মুখের সংখ্যা— তৃণমূল সূত্রে ইঙ্গিত মিলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। সে পূর্বাভাস খানিকটা মিলল। তৃণমূলের যে প্রার্থী তালিকা মঙ্গলবার ঘোষিত হল, তা থেকে স্পষ্ট যে, অন্তত দুই তারকা সাংসদের উপরে এ বার আর ভরসা রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক তারকাকে জেতা আসন থেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন হারা কেন্দ্রে। তবে তারকা-তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরাত জাহান।

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। বসিরহাটের বিদায়ী সাংসদ ইদ্রিস আলিকে টিকিট দেওয়া হয়নি। বসিরহাট মূলত গ্রামীণ এলাকা। সংখ্যালঘু প্রধানও। গ্রামীণ এলাকায় সেলিব্রিটি প্রার্থীদের ঘিরে উন্মাদনা তৈরি হয় অপেক্ষাকৃত বেশি। তার পাশাপাশি নুসরাত সংখ্যালঘু মুখও। ফলে বসিরহাটে নুসরাতের আশু সাফল্য নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

তবে নুসরাত জাহানের চেয়েও বড় চমক মিমি চক্রবর্তী। নুসরাত যে প্রার্থী হতে পারেন, সে জল্পনা রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে বেশ কিছু দিন ধরেই চলছিল। কিন্তু মিমি চক্রবর্তীর নাম সে ভাবে আলোচনায় আসেনি। যাদবপুরের মতো আসনে সেই মিমিকে প্রার্থী করে বেশ চমকে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের গুরুত্ব ঐতিহাসিক ভাবেই বেশি তৃণমূলের কাছে। ১৯৮৪ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম বার সাংসদ হয়েছিলেন এই যাদবপুর থেকেই। তখন অবশ্য তিনি কংগ্রেসে। কিন্তু তৃণমূল তৈরি হওয়ার পরে প্রথম লোকসভা নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালেই যাদবপুর তৃণমূলের কৃষ্ণা বসুর দখলে গিয়েছিল। ১৯৯৯ সালেও তাই। ২০০৪ সালে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীর কাছে হারেন কৃষ্ণা। তবে ২০০৯ সালে ফের তৃণমূলের কবীর সুমন এবং ২০১৪ সালে তৃণমূলেরই সুগত বসু যাদবপুর থেকে জিতে সংসদে গিয়েছেন। মিমির মতো তরুণ এবং প্রায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কোনও মুখ সেই যাদবপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হবেন, এমনটা অনেকেই ভাবতে পারেননি।

মেদিনীপুরের সাংসদ সন্ধ্যা রায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ তাপস পাল যে বাদ পড়বেন, সে জল্পনা আগে থেকেই ছিল। এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ধ্যা রায়কে পাশে নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, তাঁকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না এবং দল তাঁকে অন্য রকম কাজে লাগাবে। আর তাপস পাল শারীরিক কারণে টিকিট পেলেন না বলে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে।

মুনমুন সেনের উপরে কি ভরসা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এ প্রশ্ন নিয়ে নানা মত তৃণমূলের অন্দরেই। বাঁকুড়ার বিদায়ী সাংসদ মুনমুন সেন এ বার আর টিকিট পাচ্ছেন না বলে জল্পনা বেশ কিছু দিন ধরেই ছিল। নিজের কেন্দ্রে গত পাঁচ বছরে মুনমুন সেন ঠিক কতটা সময় দিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কোনো কোনো মহলের। শেষ পর্যন্ত বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হল রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নাম। তবে মুনমুন প্রার্থী তালিকা থেকে বাদও পড়লেন না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে টক্কর নেওয়ার জন্য মুনমুনকে পাঠিয়ে দেওয়া হল আসানসোলে।

ঘাটাল, হাওড়া, বীরভূম এবং বালুরঘাট কেন্দ্রের সেলিব্রিটি সাংসদরা অবশ্য নেত্রীর আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন। ঘাটালে দেব, হাওড়ায় প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমে শতাব্দী রায় এবং বালুরঘাটে অর্পিতা ঘোষ এ বারও টিকিট পেলেন।

সব মিলিয়ে তৃণমূলের এ বারের প্রার্থী তালিকায় তারকা বা সেলিব্রিটি মুখের সংখ্যা ৭। গত বার কিন্তু সংখ্যাটা অন্তত ১০ ছিল। সে বার বহরমপুরে প্রার্থী করা হয়েছিল গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে, উত্তর মালদহে প্রার্থী করা হয়েছিল আর এক গায়ক সৌমিত্র রায়কে। আর দার্জিলিঙে প্রার্থী ছিলেন ফুটবলার ভাইচুং ভুটিয়া। এ বার ওই সব আসনে রাজনৈতিক মুখের উপরেই ভরসা রেখেছে তৃণমূল। বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে এককালে অধীরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অনুচর হিসেবে পরিচিত অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডকে। কান্দি থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়া বিধায়ক ডেভিড এখন রয়েছেন তৃণমূলে। উত্তর মালদহে বিদায়ী সাংসদ মৌসম নূর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আগেই। সেখানে মৌসমই তৃণমূলের প্রার্থী হলেন। আর দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী করা হল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার টিকিটে দার্জিলিং শহরের সংসদ সদস্য হওয়া অমর সিংহ রাইকে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কে এ হামলাকারী কেন এই হামলা

March 16, 2019
ছবি: সংগৃহীত: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী শেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেনটন টেরেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী একজন কট্টর শেতাঙ্গ বর্ণবাদী। তার নাম ব্রেনটন টেরেন্ট। ২৮ বছর বয়সী এ সন্ত্রাসী মুসলমান ও অভিবাসী বিদ্বেষী। তার মতে, মুসলমানরা ইউরোপের দেশগুলো দখল করে নিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করতে এবং ইউরোপে ইসলামপন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে সে এ হামলা চালিয়েছে।


শুক্রবার হামলার আগে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার কথিত মেনিফেস্টো (ঘটনার কারণ) প্রকাশ করে ব্রেনটন। এতে সে মুসলমানদের দাস, সন্ত্রাসী ও দখলদার হিসেবে উল্লেখ করে।

অভিবাসী ও মুসলমানদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করে সে বলে, ইউরোপ থেকে অভিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করে ‘মাতৃভূমি’ পুনরুদ্ধার করা তার লক্ষ্য। অন্য ধর্ম থেকে মুসলমানে পরিণত হওয়াকে সে রক্তের সঙ্গে বেইমানি বলে উল্লেখ করে।

ব্রেনটন লিখেছে, আমাদের ভূখণ্ড কখনোই অনুপ্রবেশকারীদের ভূখণ্ড হবে না। আমাদের মাতৃভূমি আমাদের এবং যতদিন পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গরা জীবিত থাকবে, ততদিন তারা আমাদের ভূখণ্ড দখল করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের লোকদের জায়গা দখল করতে পারবে না।

সে বলে, সংজ্ঞায়িত করলে এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি একটি পক্ষপাতমূলক হামলা বলেই আমি মনে করি।

হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী মৌলবাদী, কট্টর ডানপন্থী ও সহিংস সন্ত্রাসী ছিল। সে অস্ট্রেলিয়ায় হাজতবাসেও ছিল। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধসংক্রান্ত পুরনো রেকর্ড আছে। তার বাড়ি গ্রাফটন শহরে।

এ ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য ২ বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল জানিয়ে ব্রেনটন আরও বলে, ৩ মাস আগেই সে ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্রেনটন টেরেন্ট তার কথিত মেনিফেস্টোতে নিজেকে একজন ‘সাধারণ শ্বেতাঙ্গ’ বলে উল্লেখ করে। সে লিখেছে, ২০১৭ সালে সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলায় ১১ বছর বয়সী শিশু এব্বা অকারলান্ডের নিহত হওয়ার ঘটনার শোধ নিতে এ হামলাটি চালানো হয়েছে।

তার ভাষ্য, ‘স্টকহোমের ওই ঘটনাটিই আমাকে প্রথম এ ধরনের হামলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, বিশেষ করে ওই ১১ বছর বয়সী মেয়েটির মৃত্যু। এব্বার মৃত্যু হয়েছে ‘দখলদার’দের হাতে... আমি এ ধরনের হামলা এড়িয়ে যেতে পারি না।’

সে আরও লেখে, এটি ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের ভূমিতে বিদেশি ‘দখলদার’দের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাল্টা প্রতিশোধ।

মেনিফেস্টোতে ব্রেনটন টেরেন্ট আরও বলে, ২০১১ সালে নরওয়ের অসলোতে ৭৭ জনকে হত্যাকারী আন্ডারস ব্রেইভিকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সে এ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া সে নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক বলেও দাবি করে। এ হামলার ঘটনায় সে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থক ক্যানডিস ওউনসের কাছ থেকেও অনুপ্রাণিত হয়েছে।

ব্রেনটন তার টুইটার অ্যাকাউন্টের হেডার ফটো হিসেবে যে ছবি দিয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিসে শহরে বাস্তিল ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজনের ছবি দেখা যায়। সেদিন জনতার ওপর ট্রাক চালিয়ে দেয়ার ঘটনায় ৮৪ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

নিউজিল্যান্ডে মাত্র ১ শতাংশ মুসলমান। তারপরও কেন এ দেশটিকে হামলার জন্য বেছে নেয় ব্রেনটন- এর কারণ হিসেবে সে লিখেছে, দেশটি ইউরোপের অন্য দেশের চেয়ে তুলনামূলক দুর্গম। তারপরও এখানে দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। হামলার মাধ্যমে এ বিষয়ে সে সবাইকে সতর্ক করতে চেয়েছিল। নিজের পারিবারিক অবস্থা ও শৈশবের বেদনা উল্লেখ করে সে লিখেছে, আমি নিুবিত্ত পরিবারে জন্মেছি, বাবা-মা স্কটিশ আইরিশ এবং ইংলিশ ছিল, আমার কোনো নিয়মিত শৈশব ছিল না।

ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে যখন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেনটন তখন লোক গান ও সামরিক সঙ্গীত শুনছিল। এরপর একটি সরু গলিতে গাড়িটি পার্ক করে রেখে অস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যায় সে।

তার গাড়ি থেকে অন্তত ৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যে অস্ত্র-সরঞ্জাম নিয়ে ব্রেনটন টেরেন্ট ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে সেখানে মুসলিমদের ওপর বিগত সাম্প্রদায়িক হামলার তথ্য তুলে ধরে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহমূলক বিভিন্ন শব্দ-বাক্য দেখা যায়। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে আটক করলেও ব্রেনটনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র : যুগান্তর

অজ্ঞাত নারীর সতর্কবার্তায় বেঁচে গেলেন তামিম-মিরাজরা

March 16, 2019
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু'টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৪৯ জন। এ হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছে সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজরে সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই মসজিদেই জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামরা। জানা যায়, অজ্ঞাত এক নারীর কল্যাণে এ হামলা থেকে বেঁচে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা।
সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশি এক সাংবাদিকের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে ঢোকার আগমুহূর্তে অজ্ঞাত এক নারী এসে তামিমদের সতর্ক করে জানান, মসজিদের ভেতরে গোলাগুলি হচ্ছে, এখন ভেতরে যাওয়া ঠিক হবে না। ওই নারীর সতর্কবার্তা শুনে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা তড়িঘড়ি করে টিম বাসের মধ্যে ঢুকে যায় এবং বাসের মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপদ হবে না ভেবে তামিম-মিরাজরা বাস থেকে বেরিয়ে হাগলি পার্ক দিয়ে চলে যান ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে।

হামলার পর পরই তামিম ইকবাল লিখেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

হামলার বিষয়ে টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, মসজিদ থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিলাম। আমরা খুবই লাকি যে আর ৩-৪ মিনিট আগে গেলেই একটা বড় ধরনের মর্মান্তিক (ম্যাসিভ) ঘটনা ঘটে যেত।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ও শেষ টেস্টকে সামনে রেখে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ দল অনুশীলন করছিলেন। অনুশীলন শেষে তারা ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান।

সূত্র : বিডি-প্রতিদিন

Friday, March 15, 2019

অপচয় করা হারাম

March 15, 2019
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামের মূল সৌন্দর্যই হলো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। ইসলাম যেভাবে অপচয়কে নিষেধ করেছে তেমনি কৃপণতাকেও নিষেধ করে। এ জন্য কুরআন সুন্নাহ মুসলিমদের পানাহার, পরিচ্ছদ, বাসস্থান, সৌর্ন্দয, যোগাযোগের মাধ্যম, বিবাহ-শাদীতে সব কিছুতেই চিহ্নিত করে দিয়েছে। 

এ জন্যই একজন মুসলিম খরচ করার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধানাবলী পালন করা আবশ্যক : অর্থনৈতিক দিক যেন মুমিনদের গ্রাস করে না ফেলে, বরং মুমিন ব্যক্তি তার আকিদা ও মুমিনের চরিত্র অনুযায়ী তার অর্থনীতি পরিচালনা করবে। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে সম্পদ ব্যয় করা; অহঙ্কার বর্জন করা; হারাম থেকে দূরে থাকা; নিয়মতান্ত্রিকতা মেনে সম্পদ ব্যয় করা; সচ্ছলতার সময় অসচ্ছল সময়ের জন্য সম্পদ জমা করে রাখা। 

একজন মুসলমান শরিয়াহ্ প্রণীত সীমারেখার মধ্যেই তার সম্পদ ব্যয় করবে। আর এটি ওঠা-নামা করবে বৈধ ও হারামের মধ্যে। এটি হলো বৈধতার পর্যায়ে। যা অপচয় ও কৃপণতার মাঝামাঝি অবস্থান করা। সৌর্ন্দয ও একেবারেই পরহেজগারিতার মধ্যবর্তী অবস্থান কিন্তু বেশির ভাগ লোক এই নীতি গ্রহণ করে না। তারা সৌর্ন্দযের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এ ক্ষেত্রে অনেকে অপচয়ও করে ফেলে। অথচ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাও আল্লাহর বান্দাদের একটি গুণ। আল্লাহ বলেন, এবং তারা যখন ব্যয় করে তখন অযথা ব্যয় করে না, কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। নবী সা: বলেন, তোমরা খাও, পান করো, দান-সদকা করো, তবে অহঙ্কার ও অপচয় ব্যতীত। 

সৌর্ন্দয অবলম্বন করা অবশ্যই বৈধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং আপনার পালনকর্তার নিয়ামতের কথা প্রকাশ করুন। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, হে বনি আদম, তোমরা সাজসজ্জা করে নাও প্রত্যেক নামাজের সময়, আর খাও পান করো অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না। নবী সা: বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাঁর দেয়া নিয়ামতের প্রভাব দেখতে ভালোবাসেন। হাদিসটির সনদ হাসান সহিহ্। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষণীয় যে, সৌর্ন্দয যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়। যেন অপচয়ের পর্যায়ে না পড়ে। 

দুনিয়া বিমুখতা : এটি একটি প্রশংসনীয় গুণ। খুব কম মানুষই এ গুণে গুণাম্বিত। এই গুণে গুণাম্বিত ছিলেন নবী রাসূলগণ আ:, অতঃপর পূর্বেকার অনেক আলেম আর পরবর্তী যুগের খুব কমসংখ্যক লোক। এই কাজে অবশ্যই নিজের চাহিদা ত্যাগ করতে হয়, নিজের উপরে অন্যকে প্রাধান্য দিতে হয়। আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে তা অনেক কল্যাণকর। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা মুহাজিরদের আগমনের আগে মদিনায় বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে, মুহাজিরদের যা দেয়া হয়েছে তজ্জন্য তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদের অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত তারাই সফলকাম। কৃপণতা করা হারাম। কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহর শত্রু এমনকি তার নিজেরও শত্রু এবং প্রত্যেক ওই জিনিসের শত্রু যা মানুষের উপকার করে। এভাবে যে সে নিজের প্রয়োজনও পূরণ করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা কৃপণতা করছে তারা নিজেদেরই প্রতি কৃপণতা করছে। নবী সা: বলেন, তোমরা কৃপণতা থেকে দূরে থাকো, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনেকেই কৃপণতার জন্য ধ্বংস হয়েছে। (শয়তান) তাদের কৃপণতার আদেশ দিত আর তারা কৃপণতা করত, সে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার আদেশ দিলে তারা তা ছিন্ন করত এবং সে তাদের পাপাচারে লিপ্ত হতে নির্দেশ দিলে তারা তাতে লিপ্ত হতো। 

জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রেই অপচয় ও অপব্যয় করা হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। নবী সা: বলেন, আমার উন্মাতের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি, যারা বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার খায় এবং বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিধান করে আর লম্বা লম্বা কথা বলে বেড়ায়। এ জন্য সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম সুনির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। যেমন : বিলাসবহুল জীবনযাপন না করা। অর্থাৎ দুনিয়ার চাকচিক্য ও বিলাসিতাতে গা ভাসিয়ে না দেয়া। এ ধরনের বিলাসিতাকে ইসলাম সমর্থন করে না বরং নিন্দা করে। আর বিলাসিতার কারণেই আল্লাহর আজাব-গজব নেমে আসে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন অবস্থাপন্ন লোকের উদ্বুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে ওঠে। তখন সে জনগোষ্ঠীর ওপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। পরিশেষে আমি তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেই। অপচয় না করা আবার সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় না দেয়া; সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা; হারাম ও ক্ষতিকর পণ্যদ্রব্যাদি বর্জন করা। আল্লাহ তায়ালা ভালো জিনিসকে বৈধ করেছেন আর ক্ষতিকর ও নোংরা জিনিসকে হারাম করেছেন। আর ইসলামী আইনের একটি মৌলনীতি হলো ক্ষতি করবে না ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। 

এ মূলনীতিটি রাসূলুল্লাহ সা:- এর হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত। 

অহঙ্কার করো না। যেহেতু ইসলাম ততটুকুই বৈধতা দিয়েছে যতটুকুর মধ্যে ব্যক্তি সমাজ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। অহঙ্কার প্রদর্শনের জন্য সম্পদ ব্যয়কে ইসলাম অনুমোদন করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদাররা, তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মতো, যে নিজের ধন সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মৃসণ পাথরের মতো, যার ওপর কিছু মাঠি পড়েছিল। অতঃপর এর ওপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অন্তর তাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিলো। তারা ওই বস্তুর কোনো সওয়াব পায় না, যা তারা উপার্জন করেছে। আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না। নবী সা: বলেন, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত তার কাপড়কে ঝুলিয়ে টেনে টেনে পরে, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির প্রতি (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। ক্ষুধার মাধ্যমে মানবীয় চাহিদাকে বহির্ভূত করা। মানুষ যখন পানাহারে পরিতৃপ্ত হয় তার মধ্যে কুপ্রবৃদ্ধি জেগে ওঠে। আর ক্ষুধার্ত থাকলে শান্ত থাকে। আলেম ও ফকিহদের কাছ থেকে ক্ষুধার বিভিন্ন উপকার বর্ণিত হয়েছে। যেমন : অন্তর পরিষ্কার থাকে ও অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়; অহমিকা খারাবি দূরীভূত হয়; আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপদ আপদের কথা স্মরণ হয়; কুপ্রবৃত্তিকে দমিয়ে রাখা যায়; ইবাদতে অধ্যবসায় বাড়ে; দান সদকা করতে মন চায়। ভালোভাবে অর্থনীতি বোঝা যায়। অর্থাৎ আয়ের উৎস ও ব্যয়ের ক্ষেত্র সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা রাখা। এ ক্ষেত্রে আমরা নবীজীবনের কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারি। যা নবী সা: তাঁর সাহাবিদের জন্য পেশ করেছিলেন। 
ক. এই শিক্ষা গ্রহণ করো যে, অন্তরের অমুখাপেক্ষিতাই প্রকৃত অমুখাপেক্ষিতা। আবু যার রা: বলেন, নবী সা: আমাকে বললেন, তুমি কি মনে করো যে, সম্পদ বেশি থাকাই ধনী হওয়া? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি সা: বললেন, তুমি কি মনে করো যে, সম্পদ কম থাকাই দরিদ্রতা? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন নবী সা: বললেন, প্রকৃত ধনাঢ্যতা হচ্ছে অন্তরের ধনাঢ্যতা, প্রকৃত দরিদ্রতা হচ্ছে অন্তরের দরিদ্রতা। এর অর্থ হলো আয়ের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা, ব্যয়ের সময় হিসাব করে ব্যয় করা।
খ. জীবিকা উপার্জনের ক্ষেত্রে ভালোভাবে বুঝেশুনে করা। আবু সাইদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত, কিছু আনসারি সাহাবি রাসূলুল্লাহ সা:-এর কাছে কিছু চাইলেন। তিনি তাদের দিলেন, পুনরায় তারা চাইলেন তিনি তাদের দিলেন। এমনকি তার কাছে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, আমার নিকট যে মাল থাকে তা তোমাদের না দিয়ে আমার নিকট জমা রাখি না। তবে যে যাচনা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নিয়ামত কাউকে দেয়া হয়নি। সুতরাং মনের দিক থেকে অল্পে তুষ্ট থাকা, হাত না পাতা, ধৈর্য ধারণ করা কাম্য। আর শারীরিক দিক থেকে কাম্য হলো কাজ করে জীবিকা উপার্জন করা। নবী সা: বলেন, তোমাদের কেউ তার রশি নিয়ে জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে বাজারে যায়, তারপরে সেখানে বিক্রি করে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করবেন, এটা মানুষের কাছে তার হাতপাতার চেয়ে উত্তম; কারণ মানুষ তাকে কিছু দিতে পারে। এ জন্য মক্কার লোকেরা ব্যবসায় করত, আর মদিনার লোকেরা চাষাবাদ করত। 
গ. নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে ব্যয় সীমাবদ্ধ করার শিক্ষা গ্রহণ করা। নবী সা: বলেন, একটি বিছানা স্বামীর জন্য. আরেকটি স্ত্রীর জন্য, তৃতীয়টি মেহমানের জন্য আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য। এর উদ্দেশ্য হলো খরচ কম করা, যাতে করে ঋণ করতে অন্যের দ্বারস্থ হতে না হয় নিজের সম্পদ দ্বারাই যেন যথেষ্ট হয়। 
ঘ. দানের অভ্যাস করা। নবী সা: বলেন, নিচের হাত থেকে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত হচ্ছে দাতা আর নিচের হাত হচ্ছে গ্রহীতা। হাদিসের উদ্দেশ্য হলো, সামাজিক বৈষ্যম দূর করা, যাতে দানকারীর সংখ্যা বেশি হয় এবং গ্রহণকারীর সংখ্যা কম হয়। এভাবেই নবী সা: তাঁর প্রিয় সাহাবিদের শিক্ষা দিয়েছেন। তারাও সেই শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে বাস্তবায়ন করেছিলেন। দাওয়াতের ময়দানে এর বিশাল প্রভাব লক্ষ করা গিয়েছিল। সুতরাং আমাদের উচিত হলো, উক্ত চরিত্রগুলো নিজেদের মধ্যে সন্নিবেশ ঘটানো, মুসলিমদের ওই চরিত্র থেকে দূরে থাকা উচিত, যা ওই সুন্দর সুন্দর বিষয়গুলোকে ধ্বংস করে। আর এটা জানা উচিত যে, যে ব্যয় অহঙ্কার প্রদর্শনের জন্য হয়ে থাকে তার মাধ্যমে শুধু সমাজে দরিদ্রতাই বৃদ্ধি পায়। এ জন্য মুসলিমদের উচিত সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। এর অর্থ এই নয় যে, নিজের আয় থেকে উপকৃত হওয়া যাবে না বা আল্লাহর নিয়ামতের সদ্ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ইসলাম চায় মানুষ তার ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুক, ইসলাম ধোঁকাবাজিকে অপছন্দ করে আর অন্যের অনুসরণ করতে গিয়ে অপচয় করাকেও নিষেধ করে। অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পানাহারের আয়োজন করা, বিশেষ করে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানাদিতে এগুলোর মাধ্যমে সম্পদ নষ্ট ও ভবিষ্যতের বিপদ ডেকে আনা হয়। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের ক্ষেত্রেই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিত।
লেখক : প্রবন্ধকার

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা

March 15, 2019
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা। লিটন দাস ও নাঈম হাসান ছাড়া বাংলাদেশ দলের সবাই মাঠে অনুশীলনে ছিলেন। অনুশীলন শেষে তাঁরা ওই মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে যান। মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তে স্থানীয় একজন তাঁদের মসজিদে ঢুকতে নিষেধ করেন। বলেন এখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। খেলোয়াড়েরা তখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দৌড়ে হ্যাগলি ওভালে ফেরত আসেন। খেলোয়াড়দের সবাইকে মাঠের ভেতর থাকতে বলা হয়েছে।
ড্রেসিং রুমে উদ্বিগ্ন ক্রিকেটাররা। ছবি: উৎপল শুভ্র
হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই বেশ কয়েকজন নিহতের আশঙ্কা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নিউজিল্যান্ডের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্টাফ ডট কো জানিয়েছে স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে নামাজ শুরুর ঠিক দশ মিনিট পর একজন বন্দুকধারী সেজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়। এরপর জানালার কাচ ভেঙে হামলাকারী পালিয়ে যায়। হামলাকারীর হাতে অটোমেটিক রাইফেল ছিল।

প্রসঙ্গত ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে আগামীকাল বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো

অস্ত্রোপচার করাতে যাওয়ার আগে ছেলেকে রুবেলের আবেগঘন বার্তা

March 15, 2019
ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্রোপচার করাতে আজ (বৃহস্পতিবার) সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল। দেশ ছাড়ার আগে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। দোয়া প্রার্থনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন রুবেল। একই পোস্টে ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন কথাবার্তা বলেছেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত এই পারফরমার ছেলের সঙ্গে তোলা দুটি ছবি তার ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন। ছবির ক্যাপশনে রুবেল লিখেছেন, ‘বাবা তোমায় মিস করবে।’ একই পোস্টে রুবেল আরও লিখেছেন, ‘সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। ইনশা আল্লাহ সুস্থ হয়ে ফিরে আসব সবার মাঝে। ভালোবাসি সবাইকে।’ রুবেলের ব্রেন টিউমারের খবরে ক্রিকেট অঙ্গনের অনেকেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর্থিক ও মানসিকভাবে শক্তি যুগিয়েছেন রুবেলকে।

দুঃসময়ে সতীর্থ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনেককে পাশে ফেসবুকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা দেখা গেছে ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে। ওই পোস্টে সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহসহ আরও অনেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ডের অনেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রুবেল।গত সপ্তাহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে রুবেল জানতে পারেন, তার ব্রেইনে টিউমার হয়েছে। গ্লিওমা নামক টিউমার হয়েছে তার ব্রেইনে। এই ধরনের টিউমার সাধারণত মস্তিষ্কের কোষ অথবা মেরুদন্ড থেকে জন্ম নেয়।

রুবেলের ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেশ লম্বা। সেই ২০০০-০১ থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আসছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় দলে তার অভিষেক হয় ২০০৮ সালে। একটু দেরিতেই স্বপ্নের দরজায় পা পড়েছিল বাংলাদেশের হয়ে ৫টি ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটারের। সর্বশেষ বিপিএলে একটি ম্যাচ খেলা রুবেল ১১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। এ ছাড়া লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন ১০৪টি।

সূত্র : বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

Thursday, March 14, 2019

মাত্র ৩০ সেকেন্ডে মশা থেকে মুক্তি!

March 14, 2019
ছবি: সংগৃহীত
একটি ছোট্ট প্রাণী মশা। এই মশার কবল থেকে রক্ষা পেতে আমরা কত কৌশলই না অবলম্বন করি। কিন্ত শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়না অনেক সময়। মশা তাড়ানোর জন্য আমরা কয়েল বা স্প্রে সাধারণত ব্যবহার করে থাকি। যা প্রতিটিই তৈরি হয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান দিয়ে। এই সব রাসায়নিক উপাদান আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আপনি চাইলেই ঘরেই তৈরি করতে পারেন মশা তাড়াবার জন্য কার্যকরী উপাদান, তাও মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে। আর এতে আপনার কাজে আসবে নারিকেল তেল বা ভ্যানিলা এসেন্সের মত সাধারণ উপাদান!

প্রথম ধাপ: এই পদ্ধতিতে আমাদের লাগবে খুবই সাধারণ দুটি উপাদান। নারিকেল তেল ও এসেনশিয়াল অয়েল। নারিকেল তেল সবার ঘরেই মজুদ থাকে, সাথে বেছে নিন আপনার পছন্দের যেকোনো এসেনশিয়াল অয়েল। ল্যাভেনডার, মিনট, লবঙ্গ, বেসিল, লেমনগ্রাস বা রোজমেরি-এই ফ্লেভারগুলো থেকে বেছে নিন যেকোন একটি বা দুটি এসেনশিয়াল অয়েল।

২য় ধাপ: এরপর ৮ আউন্স নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে নিন ২ চা চামচ এসেনশিয়াল অয়েল। ব্যাস, তৈরি আপনার জন্য মশা তাড়াবার প্রাকৃতিক তেল! এই তেল আপনি শরীরের যেকোনো অংশে মাখতে পারেন। মশা তো দূর হবেই, সাথে ত্বকও ভালো থাকবে। আর মশা থাকবে আপনার কাছ থেকে অনেক অনেক দূরে। কেবল মশা নয়, পিঁপড়াসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র পোকামাকড়ও আর কাছে ভিড়বে না।

এই উপায়টিতে আপনার কাজে লাগবে কেবল ভালো মানের ভ্যানিলা এসেন্স। যে ভ্যানিলা এসেন্স আমরা খাবার তৈরিতে ব্যবহার করি, সেটাই।
ভ্যানিলা এসেন্সের সাথে সমান সমান পরিমাণ পানি মিশিয়ে নিন। তারপর সেই মিশ্রণ ব্যবহার করুন নিজের ত্বকে। চাইলে এই মিশ্রণের সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে নিজের ঘরে বা বাগানেও স্প্রে করতে পারেন।

মিয়া খলিফার পর্নস্টার হয়ে ওঠার গল্প

March 14, 2019
ছবি: সংগৃহীত

কেউ যদি বলেন মিয়া খলিফা নামটির সঙ্গে তিনি পরিচিত নন, তাহলে হয় তিনি মিথ্যা বলছেন, নতুবা তিনি ইচ্ছে করেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। একটি ওয়েবসাইট বলছে, মাত্র চার বছর আগেই এক নম্বর আকর্ষণীয় ব্যক্তির তালিকায় মিয়া খলিফার নাম উঠেছিল।

মিয়া খলিফা লেবাননের বৈরুতে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। তাঁর আসল নাম মিয়া কালিস্তা, পরে তিনি এ নাম পরিবর্তন করেন। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন তাঁর সঙ্গে কথাও বলেননি। মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মিয়া, কিন্তু পরে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে মা-বাবা ও নিজ দেশের মানুষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন।

মিয়া জানান, ২০১৫ সালের প্রথম দিকে একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করেই সবার চেনা হয়ে যান তিনি। মার্কিন পর্নস্টার মিয়া খলিফার বয়স তখন সবে ২১। মন দিয়ে স্নাতক পড়ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন ক্যাম্পাস জীবনে। হঠাৎ একদিন তার মনে হলো আত্ম-সম্মান বোধের ঘাটতি রয়েছে তার। পাচ্ছেন না আত্মবিশ্বাস। সমাধানে ব্যায়াম করা শুরু করলেন মিয়া খলিফা। কমালেন ৫০ পাউন্ড ওজন। তাতেও মন ভরেনি। সার্জারি করিয়ে বড় করলে স্তনের আকার। তবু মনে হচ্ছিলো কোনো উন্নতি হয়নি।

একদিন একটি স্থানীয় ফাস্ট ফুড রেঁস্তোরায় কাজ করার সময় একজন ভোক্তার সান্নিধ্যে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, তিনি পর্নোচলচ্চিত্রে কাজ করতে আগ্রহী কি না। এরপর ২০১৫ সালের হিসেবে ১.৫ মিলিয়নেরও অধিক দর্শকসংখ্যার পাশাপাশি, ২২ বছর বয়সী খলিফা প্রাপ্তবয়স্ক ভিডিও শেয়ারিং পর্নহাবের সর্বাধিক অনুসন্ধানকৃত মডেল হিসেবে উন্নীত হন। সে বছর ২৮ ডিসেম্বরে পর্নহাব তাদের ওয়েবসাইটে নাম্বার ১ স্থানে খলিফার নাম প্রকাশ করে বহুদর্শী লিসা অ্যানের পরিবর্তে।

সম্প্রতি তার এ খ্যাতি মধ্য প্রাচ্যের জনমনে কঠিন সমালোচনার অবতারণা করে, যেখানে লজ্জাকর হিসেবে তার পেশাজীবন কলঙ্কময় বলে মনে করা হয় এবং যে কারণে নিজ দেশেও খলিফার সম্মানহানি ঘটে। মিয়া খলিফা বলেন, প্রথমদিন পর্ন অভিনয় করার পর একই সঙ্গে লজ্জা ও অপরাধবোধ কাজ করছিল। একই সঙ্গে মনে হচ্ছিলো আমি ঠিক করেছি। তখন আমি আসলে ২১ বছর বয়সী একটা গাধা ছিলাম।

ইউটিউবে জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘ফরওয়ার্ড’ এর উপস্থাপক ল্যান্স আর্মস্ট্রংকে এসব কথা জানিয়েছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন পর্নস্টার মিয়া খলিফা। তিনি জানান, প্রথম দিন অভিনয়ের পর খুব বেশি বিচলিত হননি। ভেবেছিলেন কোম্পানির বাইরে কেউ তার পর্নগুলো খুঁজে পাবে না। কিন্তু পরে হঠাৎ চারদিক থেকে সাড়া হয়ে ভটকে যান। মিয়া খলিফা জানান, তিনি এমনটা ভেবেছিলেন কারণ সে সময় পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্টই ছিল না তার।

পর্নহাবে শীর্ষস্থান অধিকারের পরপর অনলাইন মৃত্যু হুমকি পান মিয়া, যার মধ্যে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্টের একটি হস্তনির্মিত ছবিতে তাকে শিরচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এমন দেখানো হয় এবং একটি সতর্কবার্তায় তাকে নরকে যেতে হবে বলেও দাবি জানানো হয়, যার জবাব তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি একটু চিন্তিত।’ লেবানিজ সংবাদপত্র খলিফার সমালোচনামূলক নিবন্ধ লিখেছে, যা তিনি সে অঞ্চলের অন্যান্য ঘটনাগুলির কারণে তুচ্ছ বলে মনে করেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে, খলিফা বলেন বিতর্কিত দৃশ্যটি ছিল বিদ্রুপাত্মক এবং এটি সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত, এবং হলিউড চলচ্চিত্রে যে কোনো পর্নগ্রাফির তুলনায় অনেক বেশি নেতিবাচক ভাবে ইসলামকে চিত্রিত করা হয়ে থাকে বলে দাবি করেন। যারা সর্বজনীনভাবে তার প্রাপ্তবয়স্ক কর্মী হয়ে উঠার সিদ্ধান্তে সমর্থন জানানোর জন্য মুখ খোলেন তাদের মধ্যে ছিলের ব্রিটিশ-লেবানিজ লেখক নাসরি আতাল্লাহ, যারা বিবৃত দেন, ‘এই নৈতিক আবেগ… দুটি কারণের জন্য ভুল। প্রথম এবং সর্বাধিক, একজন নারী হিসেবে, তিনি তার শরীরের সঙ্গে যে কোনো কিছুর করার অধিকার রাখেন।’ খলিফা তার বিতর্ক সম্পর্ক তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

তাছাড়াও তিনি বলেন, তার পেশা নির্বাচনের কারণে তার বাবা তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। পর্ণহাব থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী, ৩-৪ জানুয়ারি, ২০১৫ সালে, মিয়া খলিফার অনুসন্ধানকারী পাঁচ দফা উন্নীত হয়। যার এক চতুর্থাংশ অনুসন্ধানকারী ছিলেন লেবানন থেকে, মূল অনুসন্ধানকারী ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া এবং জর্দানের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে। হিজাব সম্পর্কিত বিতর্কের কারণে, জুলাই ২০১৬ সালে, তিনি ব্রিটিশ পুরুষ ম্যগাজিন লোডেড কর্তৃক তাদের ‘দ্য ওয়ার্ল্ড’স টেন মোস্ট নটোরিয়াস পর্ন স্টার্স’ তালিকায় পঞ্চম স্থানে অবস্থান নেন।

জুলাই ২০১৬ সালে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে এক সাক্ষাৎকারে, খলিফা জানায় যে তিনি কেবল তিন মাসের জন্য পর্নোগ্রাফিতে অভিনয় করেছিলেন এবং এক বছরের আগেই পর্নশিল্প ছেড়ে দিয়েছিলেন, ‘আরও স্বাভাবিক কাজে’ যুক্ত হতে। তিনি বলেন, ‘আমি এটা আমার বিদ্রোহী পর্যায় ছিল বলে মনে করি। এটা সত্যিই আমার জন্য ছিল না। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে এর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করি।’

খলিফা বলেন, এককালে লেবানীজ জাতি নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের সর্বাধুনিক বলে গর্ব করত, তারা পাশ্চাত্য রীতিনীতি এতটাই অনুকরণ করত যে তারা নিজেদের নিয়ে গর্বিত ছিল, আজ তারা আদিম রীতিতে বিশ্বাসিত হয়ে শোষিত হয়ে গেছে। তারা ভুলে গেছে নারী অধিকার!

সূত্র : বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

শিক্ষিকার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্রীদের শারীরিক সম্পর্ক

March 14, 2019
ছবি: সংগৃহীত
নির্মলা দেবী একটি কলেজের অধ্যাপক। কলেজ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি তার ছাত্রীদের শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে দেওয়ার কাজ করতেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ১১ মাস আগে নির্মলা দেবীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার ভারতের তামিলনাডুর হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মাধুরাই কামারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্রীদের শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ করে দিতেন নির্মলা দেবী। আর এ কাজ তিনি করতেন পরীক্ষায় ছাত্রীদের ভালো ফল পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে।নির্মলা দেবীর বিরুদ্ধে এমন আভিযোগ আসার পর তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত দেভাঙ্গা আর্টস কলেজের সহযোগী অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি অডিওবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে তার এ কুকর্মের কথা বেরিয়ে আসে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নির্মলা দেবীর বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের এপ্রিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ১১ মাস পর মঙ্গলবার মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন।
মাদ্রাজ হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে তদন্ত কাজে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাছাড়া মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

সূত্র : বিডি  অনলাইন নিউজ ২৪

Wednesday, March 13, 2019

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল কেন সেরা

March 13, 2019
ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর উন্নত যেসব হাসপাতালের নাম সুপরিচিত, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ তারমধ্যে অন্যতম। বেশিরভাগ সময় বিশ্বের বিশিষ্ট কোন ব্যক্তির চিকিৎসার সাথে সাথে উঠে আসে এ হাসপাতালের নাম। তাই বিদেশি রোগীর চাপ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেই বেশি। এর কারণ, এখানে শুধু ভালো চিকিৎসকই নয়, সেরা চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করার মতো প্রশিক্ষিত দলও রয়েছে।

পরিচিতি: মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সংক্ষেপে ‘মাউন্ট ই’ নামে পরিচিত। এটি একটি বেসরকারি হাসপাতাল। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ৩৪৫ শয্যার এ হাসপাতাল একটি বেসরকারি কোম্পানি ‘পার্কওয়ে হেলথ কোম্পানি’র মালিকানাধীন এবং ওই কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত। তবে ১৯৯৫ সাল থেকে পার্কওয়ে হোল্ডিংস লিমিটেড হাসপাতালটির মালিকানা লাভ করে।

যাত্রা শুরু: ১৯৭৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া এ হাসপাতাল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৯ সালের ৮ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে। চিকিৎসা: এ হাসপাতাল একই সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি ও স্নায়ুজনিত রোগসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়াও এ হাসপাতাল একাধিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার জন্য প্রসিদ্ধ।

বৈশিষ্ট্য: সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথের অর্কার্ড সড়কে অবস্থিত এ হাসপাতাল জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জয়েন্ট কমিশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক স্বাস্থ্য সংস্থা) দ্বারা স্বীকৃত। সিঙ্গাপুরের প্রথম কোন বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে এখানেই সর্বপ্রথম ওপেন-হার্ট সার্জারি অস্ত্রোপচার করা হয়। এছাড়া আণবিক ওষুধ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি এবং তা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ওষুধের দোকান রয়েছে।

রাজকীয় কক্ষ: ব্রুনাইয়ের রাজপরিবার হাসপাতালটিতে একটি রাজকীয় সুইট প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে অবশ্য এ রাজকীয় কক্ষটি অন্য রোগীদের ব্যবহারের জন্যও খুলে দেওয়া হয়। শয্যা ভাড়া: ২০১৬ সালের হিসাব মতে, হাসপাতালটিতে চার শয্যার ওয়ার্ডে একটি শয্যার জন্য প্রতিরাতে ২৭৬ মার্কিন ডলার গুনতে হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব রুমের জন্য প্রতিরাতে খরচ হয় ৬৪০ মার্কিন ডলার।

মেডিকেল সেন্টার: হাসপাতাল সংলগ্ন মাউন্ট এলিজাবেথ মেডিকেল সেন্টার (এমইএমসি) অবস্থিত। এ ক্লিনিকে শুধু ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর মেডিকেল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চিকিৎসকরাই শুধু এ হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সব মিলিয়ে মোট ৩১টি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এ হাসপাতালে কর্মরত। স্নায়ুরোগ থেকে শুরু করে হৃদরোগ, দন্তচিকিৎসা, পাকান্ত্রবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সেবা দিয়ে থাকেন। রোগীর অবস্থা, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞভেদে চিকিৎসা খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়।

ভাষা দক্ষতা: সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোগী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। হাসপাতালের কর্মীরা ইন্দোনেশীয়, রুশ এবং মাওয় ভাষায় পারদর্শী। বাংলাদেশের যারা সেবা নেন: বাংলাদেশের একাধিক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময় এ হাসপাতালের সেবা নিয়েছেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান!

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে মারা যান। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এ হাসপাতালে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরণকে এ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে এখনো সুস্থ আছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

সূত্র :বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

২০ বছরের নীচে মেয়েকে বিয়ে করার কি সুবিধা জানেন ? জানলে আজই বিয়ে করতে চাইবেন…

March 13, 2019
ছবি: সংগৃহীত
আমাদের দেশে বহু প্রাচীন কাল থেকেই অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেবার প্রথা প্রচলিত আছে। এমনকি অতিতে ১০-১২ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়েও দিয়ে দেওয়া হতো। এই নিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সহ বহু মনীষী অনেক লড়াই করেছেন।

আজ স্বাধীনতার বহু বছর পরেও যে এই প্রথার খুব একটা উন্নতি হয়েছে তা নয়। এখনও আমাদের দেশের বহু জায়গায় দেখা যায় পুরুষরা অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে করতেই বেশী পছন্দ করে। তার বিশেষ কিছু কারণও রয়েছে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই কারণগুলি:

১. আধিপত্ত: সমাজবিজ্ঞানীদের মতে পুরুষেরা সর্বত্র আধিপত্ত বিস্তারে অভ্যস্ত, আর তাদের এই আধিপত্ত বিস্তারের যে চর্চা তা থেকে তাদের পরিবার এবং পরিবারের বাইরের সদস্যরাও বাদ যায় না। আর আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে স্ত্রীর উপর স্বামীদের আধিপত্ত বিস্তার অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তাই অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে বিবাহবন্ধনে আগত হতে তারা বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে।

২. অস্বস্তিবোধ:পুরুষেরা তাদের সমবয়সী মেয়েদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অস্বস্তিবোধ করে। পুরুষের সমযোগ্যতা সম্পন্ন নারীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এই ধারনাই পুরুষকে তার চেয়ে কম বয়সী নারীকে বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করে।

৩. ২০ তেই বুড়ি:আমাদের দেশে পুরুষদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা লাভ করতে বয়স প্রায় ৩০ এর কোঠায় গিয়ে পৌঁছায়। আর আমাদের সমাজের প্রচলিত ধারণা যে মেয়েরা ২০ তেই বুড়ি হয়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই স্বামী ও স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান আমাদের সমাজে অনেক বেশি।

৪. ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা:পুরুষদের একটি বর্ধনীয় ধারণা যে তারা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাবে তখন তাদের পরিচর্চা করবার মতন কেউ থাকবে না। এমনকি সন্তানেরাও তাদের পরিচর্চা করতে নাও পারে। তাই কমবয়সী স্ত্রী এই সমস্যার সমাধান। তাদের ধারণা স্ত্রীরা তাদের যথাযত পরিচর্চা করতে কখনোই অস্বীকৃতি জানাবে না।

৫. দীর্ঘ ও সুখের যৌন জীবন:সাধারণত ৪০ এর পরে অধিকাংশ নারীদের যৌন আবেদন ধীরে ধীরে স্থিমিত হতে থাকে। কিন্তু পুরুষদের যৌনকাঙ্ক্ষা আরও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। তাই সমবয়সী নারীদের বিবাহে অনেক পুরুষদেরই অনিহা রয়েছে। তাদের ধারণা অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে করলে তারা দীর্ঘ ও সুখের যৌন জীবন লাভ করতে পারে।

সূত্র :বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

বাহুবলীর মা এবার পর্নো তারকা!

March 13, 2019
ছবি: সংগৃহীত
বাহুবলীর মা শিবগামী দেবীর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন রামাইয়া কৃষ্ণাণ। ‘বাহুবলী’ মুক্তির পর অভিনেতা প্রভাস, অনুশকা শেট্টি, তামান্না ভাটিয়াদের সঙ্গে বারবার উচ্চারিত হয়েছে রামাইয়া কৃষ্ণাণের নামটিও। তবে এবার তামিল ছবি ‘সুপার ডিলাক্স’-এ পর্নো তারকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রামাইয়া কৃষ্ণাণ।

ছবিটির ট্রেলারটি কয়েক দিন আগে অবমুক্ত হয়েছে। থিয়াগারাজান কুমারারাজা পরিচালিত সেই ছবির ট্রেলারটি দারুণ পছন্দ করেছেন দর্শক। রামাইয়া জানিয়েছেন, ‘সুপার ডিল্যাক্স’ ছবিতে অভিনয় করা তাঁর জন্য ছিল একটি অন্য রকম চ্যালেঞ্জ। মজার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে গিয়ে রামাইয়া জানান, একটি বিশেষ দৃশ্যের জন্য নাকি পরিচালক দুই দিন ধরে প্রায় ৩৭ বার শট নিয়েছিলেন। ছবিটি মুক্তি পাবে ২৯ মার্চ।

পরিচালক থিয়াগারাজান ছবি প্রসঙ্গে জানান, রামাইয়া ‘সুপার ডিলাক্স’ ছবির এ চরিত্রটির জন্য যথাযথ নন। শুরুতে এ চরিত্রের জন্য চিন্তা করা হয়েছিল নাদিয়া মোইদুর কথা। পরে নাদিয়াকে বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয় রামাইয়াকেই। নিজের সুবিধার জায়গা থেকে বের হয়ে সানন্দেই তিনি চরিত্রটিতে কাজ করতে রাজি হয়ে যান।

এক সাক্ষাৎকারে ছবির বিষয়ে রামাইয়া বলেন, ‘আমি ছবিটিতে এমন চরিত্রে কাজ করছি শুনে আমার ব্যক্তিগত সহকারী ভীষণ অবাক হয়েছিল। আমি মনে করি, অভিনয়শিল্পীরা কিছু চরিত্রে কাজ করে টাকার জন্য, কিছু চরিত্রে জনপ্রিয়তার জন্য আবার কিছু চরিত্রে কাজ করে আবেগে পড়ে। ‘সুপার ডিল্যাক্স’ ছবির চরিত্রটি আমি করেছি আবেগের কারণে।’

প্রসঙ্গত, অমিতাভ বচ্চন, বিনোদ খান্না, শাহরুখ খান, গোবিন্দদের মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে রামাইয়া কৃষ্ণাণকে। একই সঙ্গে বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে সমান প্রতাপের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

সূত্র :বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

Tuesday, March 12, 2019

১৯ বছরের মধ্যে তামিম-সাদমান প্রথম এই নজির গড়লেন

March 12, 2019
ছবি: সংগৃহীত
ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দুই দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর তৃতীয় দিনে শুরু হয় খেলা। ওপেনিংয়ে তামিম-সাদমান পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি গড়লেও প্রথম ইনিংসে ২১১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—দিনটি কেমন যাবে, তা সকাল দেখলে বোঝা যায়। অর্থাৎ সকালটা ভালো হলে দিনটা ভালো যাবে বলেই ধরে নেওয়া হয়। ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ দলের জন্য কথাটি খাটছে না। দুই ওপেনার কী দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন! কিন্তু ১১৯ থেকে ১৩৪—এই ১৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানোয় দুর্দান্ত শুরু করেও খুব একটা লাভ হয়নি। অবশ্য তামিম-সাদমান যখন ব্যাট করছিলেন, তখন কে জানত, মিডল অর্ডারে ছোটখাটো মড়ক লাগবে! দুই ওপেনারের ব্যাটিং দেখে মনে হতেই পারে নিউজিল্যান্ড সফর তাঁদের দুজনেরই বিশেষ পছন্দের।

বৃষ্টিতে ভেসে গেছে টেস্টের প্রথম দুই দিন। পাঁচ দিনের টেস্ট তাই পরিণত হয়েছে তিন দিনের ম্যাচে। টানা দুই দিন ঢেকে রাখায় উইকেট একটু নরম হয়ে পড়াই স্বাভাবিক। বাউন্সও অসমান হওয়ার কথা। যার মানে, ব্যাটিং করা সহজ হবে না। আজ তৃতীয় দিনে নিউজিল্যান্ড টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে পড়তে তাই দেরি করেনি। লক্ষ্য পরিষ্কার। প্রতিপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব গুটিয়ে দাও। কিন্তু তামিম-সাদমান যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, তাঁদের কিছুটা হলেও হতাশ হতে হয়েছে। বেশি না, ৭৫ রানের জুটি গড়েছেন দুই ওপেনার। তাতে ছিল ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি। এবার নিউজিল্যান্ড সফরে এ নিয়ে টানা তিন ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি গড়লেন তামিম-সাদমান।

নিউজিল্যান্ড এমনিতেই প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য বেশ কঠিন জায়গা। এক দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া আর কোনো দলেরই ব্যাটিং গড় পঁয়ত্রিশের ওপাশে যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ডে। আর ওপেনারদের ক্ষেত্রে অসুবিধা তো আরও বেশি। শীতল বাতাস আর মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে নতুন বলের গতি আর সুইং সামলানোর পরীক্ষা দিতে হয়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারত, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোর ওপেনিং জুটির ব্যাটিং গড় চৌত্রিশের নিচে। তামিম-সাদমান সে তুলনায় ভালোই করেছেন। তাতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গত ১৯ বছরের মধ্যে সফরকারি দলগুলোর ওপেনারদের মধ্যে তাঁরা একটি জায়গায় ছাপিয়ে গেছেন সবাইকে!

২০০০ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সফরকারি দলের কোনো ওপেনিং জুটিই টানা তিন ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান তুলতে পারেনি। তামিম-সাদমান গত ১৯ বছরের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে সফরকারি দলের প্রথম ওপেনিং জুটি হিসেবে এই নজির গড়লেন। হ্যামিল্টন টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫৭ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৮ রানের জুটি গড়েছিলেন দুজন। তাঁদের আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা তিন ইনিংসে সফরকারি দলের হয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি গড়েছিলেন হার্শেল গিবস ও গ্যারি কারস্টেন।

টেস্টে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির কাছ থেকে টানা তিন ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি সবশেষ দেখা গেছে ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার মিলে ১১৮, ৬৭ ও ৯৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। আজ ওয়েলিংটনে তামিম-সাদমান ভালো শুরুর পরও কিন্তু বাংলাদেশের শেষটা ভালো হয়নি। প্রথম ইনিংসে ২১১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

সূত্র : বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

সালমান খানের শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ!

March 12, 2019
ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের সুলতান নামে খ্যাত সালমান খানের এক ভয়ংকর রোগ হয়েছে। তিনি নিজেই তার এই রোগের কথা স্বীকার করেছেন। এর জন্য রীতিমত টেনশনেও রয়েছেন তিনি। সালমান বলেছেন যে, যন্ত্রণায় মাঝে মাঝে আমার নিজেরই পাগল পাগল লাগে, একটা সময়ে এমন অবস্থা হয়েছিল তখন আমারও আত্মহত্যা করার ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু সেই চিন্তা মন থেকে সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলে আমি আরও পরিশ্রম বাড়িয়ে দিই।

২০০১ সালে প্রথম এই রোগের কথা বলেন সালমান। তিনি বলেছেন, তার কণ্ঠস্বরে একটা ফ্যাঁসফ্যাঁসে ভাব রয়েছে। তিনি যে নেশা করেন বলে এটা হয় তাও কিন্তু নয়, যখন রমজান চলে তখন কিন্তু তিনি নেশা করেন না। একমাত্র অসুখের কারণেই আমার গলার স্বর ওরকম হয়ে যায়।

রোগটি আসলে কী জানেন? রোগটির অন্য নাম হল সুইসাইড ডিজিজ। কারণ অনেকে এই রোগ হওয়ার ফলে আত্মহত্যার দিকে ঝোঁকেন। এই রোগে আক্রান্তদের আত্মহত্যার হার সবথেকে বেশি বলেও জানিয়েছেন সালমান খান।

এই রোগটির আসল নাম হল ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া। এটি আসলে স্নায়ুঘটিত একটি রোগ। ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হল এমন একটি অসুখ যার ফলে মুখে ব্যাথা হয়। এই মুখের ব্যথা অনেক সময়েই প্রায় অসহ্য রকমের আকার নেয়।

খাবার খাওয়া, এমনকি কথা বলা বা দাঁত ব্রাশ করলেও এই মুখের ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই রোগের ফলেই মাঝেমধ্যে মুখে অসহ্য ব্যাথা অনুভব করেন সলমন খান। হঠাৎ হঠাৎই তার মনে হয় তার মুখে কেউ ছুঁচ ফোটাচ্ছে। তিনি বলেছেন কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট এই ব্যাথা থাকে।
সূত্র : বিডি অনলাইন নিউজ ২৪

আবারও রিয়ালের কোচ জিদান

March 12, 2019
ছবি: সংগৃহীত
জিদেদিন জিদান আবারও রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়াল মাদ্রিদের অফিশিয়াল টুইটার পেজে বলা হয়েছে, রিয়ালের কোচ হচ্ছেন জিদান। কোপা দেল রে, লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ-তিনটি প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে যাওয়া রিয়াল আবারও নিজেদের শীর্ষে দেখতে চায় বলেই জিদানকেই ফিরিয়ে আনল।

নয় মাস। মাত্র নয় মাসেই এত কিছু বদলে যায়! এই তো গত ৩১ মে সবাইকে চমকে দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলেন জিনেদিন জিদান। এরপর গুনে গুনে নয় মাস কেটে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সপ্তাহ ও মৌসুম দেখে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে সেই জিদানেরই শরণাপন্ন হলো রিয়াল। এমন ভয়ংকর বিপদে যে দলকে উদ্ধার করার জন্য তাঁর চেয়ে যোগ্য কেউ আর নেই।

কোপা দেল রে, লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ—তিনটি প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে পড়েছে রিয়াল। সেটাও মার্চের প্রথম সপ্তাহেই। এরপরই সান্তিয়াগো সোলারির চাকরি হারানোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সোলারির অধীনে গতকাল রিয়াল ভায়াদোলিদের মাঠে গিয়ে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল। ম্যাচের পর জোড়া গোল করা করিম বেনজেমা সোলারিকেই কোচ হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। আর সোলারি নিজেই এ মৌসুমে রিয়ালের দ্বিতীয় কোচ হওয়াতে মনে হয়েছিল, এ যাত্রা বেঁচে যাচ্ছেন এ আর্জেন্টাইন। একই মৌসুমে হুলেন লোপেতেগি ও সোলারি দুজন কোচকে বরখাস্ত করার মতো কাণ্ড হয়তো করবে না রিয়াল—অনেকে এমনটাই ভেবেছিলেন।

স্প্যানিশ টিভি অনুষ্ঠান হুগোনেস জানিয়েছে আজ আলোচনায় বসে রিয়ালের বোর্ড। ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করা উচিত আলোচনা হয় সেটা নিয়েই। সে মিটিংয়েই জিনেদিন জিদানকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ড পরিচালকেরা সোলারির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহেই আয়াক্সের কাছে হারের পর জিদানের নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু জিদান নাকি মৌসুমের শেষে দায়িত্ব নিতে রাজি কিন্তু মৌসুমের বাকি অংশের জন্য আর ঝামেলা বাড়াতে চাননি। তবে হুগোনেস আগেই দাবি করে বসে, আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় জিদানকে নতুন কোচ বানানোর ঘোষণা দেবে রিয়াল। আসলে হলো তাই। নয় মাস আগে এমন কিছুর কথা কেউ ভাবতে পেরেছিল। এক সপ্তাহ আগেই-বা কে ভাবতে পেরেছিল। এবার হয়তো রিয়ালকে আবারও সেই রুপে দেখা যাবে।

সূত্র : প্রথম আলো