Saturday, January 26, 2019
নাক ডাকা বন্ধ করার কিছু সহজ ও ঘরোয়া উপায়
January 26, 2019
| ছবি: সংগৃহীত |
নাক ডাকা অন্যের অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যের শান্তির ঘুমে যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আপার রেসপিরেটারি ট্র্যাকে এয়ার ভাইব্রেশনের ফলে নাক ডাকে মানুষ। জীবন যাপন পদ্ধতিতে কিছু বদল এনে এই অভ্যেসের পরিবর্তন সম্ভব। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, যাঁরা নাক ডাকেন বেশিরভাগই স্লিপ অ্যাপনিয়া কন্ডিশনে আক্রান্ত।
‘‘আপনার সঙ্গীকে খেয়াল করতে বলুন যদি এমন হয় আপনি খানিকটা নাক ডাকার পরে পজ নেন তা হলে এটা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ। সকালে উঠে যদি মাথা ধরে, মুখ শুকনো লাগে, রাতে বেশি প্রস্রাব পায় এগুলো সব স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ।''
কি কি উপায় অবলম্বন করে এটা কমাবেন
1. ঘুমনোর দিক পরিবর্তন করুন
চিৎ হয়ে শোবেন না, তাহলে জিভের পিছন দিক টাগরায় লেগে বেশি নাক ডাকে। যে কোনও পাশে কাত হয়ে ঘুমোন।
2. খোলা নাসারন্ধ্র
নাক বন্ধ থাকলে বেশি নাক ডাকে মানুষ। তাই ঘুমনোর আগে গরম জলে স্নান করুন। নাক ভাল করে ঝেড়ে পরিষ্কার করে শুইতে যান। প্রয়োজনে নাসাল স্ট্রিপ নিন।
3. অ্যালকোহল বন্ধ করুন
গলার পিছনের দিকের মাংসের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দেয়। ঘুমনোর ঘন্টা চার পাঁচ আগে একেবারই অ্যালকোহল খাবেন না।
4. পানির ভারসাম্য বজায় রাখুন
সারা দিনে শরীরে জল ঠিকমতো পৌঁছলে নাকও হাইড্রেটেড থাকে। ফলে নাক কম ডাকে মানুষ।
5. মাথা একটু তুলে শোবেন
একটি অতিরিক্ত বালিশ নিয়ে মাথা একটু তুলে শোবেন। এতে নাক ডাকার থেকে রেহাই মিলবে।
6. ওজন কমান
মোটাদের নাক ডাকার প্রবণতা বেশি থাকে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
7. ভাল ঘুমের অভ্যেস করুন
যাঁদের ঘুম ভাল করে হয় না তারা বেশি নাক ডাকেন। তা ছাড়া কম ঘুম থেকে শরীরে আরও নানা রোগ বাসা বাঁধে। দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুম তাই জরুরি।
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করবে কলা
January 26, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমাদের দেশে হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আর সব থেকে ভয়ের বিষয় হলো উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগরই বয়স ৪৫-এর নিচে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ফলটিতে উপস্থিত প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশের পর সোডিয়ামের প্রভাবকে কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক শারীরিক সমস্যার ও উপকার আছে এই কলাতে।
প্রতিদিন একটা করে কলা খেলে ব্লাড প্রেসার ছাড়াও যেসব রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে জেনে নিন...
১. হাড় শক্তপোক্ত হয়
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কলা খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে অস্টিওআথ্রাইটিস মতো বোন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে বাস্তবে কলার কোনো বিকল্প নাই। কলাতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশের পর চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা কোনো ধরনের চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
৩. সার্বিকভাবে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে
বছরের শেষেও অফিসে এমন কাজের চাপ যে ক্লান্তি ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে বাড়তে মাত্রা ছাড়িয়েছে? তাই চিন্তা না করে এমন পরিস্থিতিতে একটা কলা খেয়ে নিবেন সব সময়। তাহলেই দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগবে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।
৪. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একদিকে যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। আসলে কলার খোসার ভেতরে থাকা একাধিক উপাকারী উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৫. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, কলার ভেতরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে।
৬. স্ট্রেস কমে চোখে পরার মতো
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে রোজের ডায়েটে কলাকে জায়গা করে দিলে শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের মাত্রাও কমতে সময় লাগে না।
৭. পুষ্টি ঘাটতি দূর হয়
শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে শরীরের। আর এইসব উপাদানের যোগান শরীর পায় খাবার থেকে। সমস্যাটা হলো আজকের প্রজন্ম এতটাই ব্যস্ত যে তাদের হাতে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করার সময় নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাধে শরীরে। এমন পরিস্থিতি কলা কিন্তু দারুণ কাজে আসতে পারে।
৮. টক্সিক উপাদানেরা সব বেরিয়ে যেতে শুরু করে
শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের ইতি-উতি উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে দেহের প্রতিটি অঙ্গকে চাঙ্গা রাখতে কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কলাতে উপস্থিত প্রেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরের প্রবেশ করামাত্র ক্ষতিকর উপাদানদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে। ফলে রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।
৯.অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়
কলায় বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণ আয়রন শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রন ট্যাবলেটের পাশাপাশি যদি নিয়ম করে কলা খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুণ উপকার মিলতে পারে।
১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে
কলার শরীরে পটাশিয়াম ছাড়াও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর কম খেলে যে ওজনও কমে, সে কথা কার না জানা।
১১.ডায়াবেটিসের মতো মরণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না
কলা খাওয়া মাত্র শরীরে কম-বেশি ৩ গ্রামের মতো ডায়াটারি ফাইবারের প্রবেশ ঘটে। এর প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না। এই কারণেই টাইপ ১ এবং ২-দুই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদেরই এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
Friday, January 25, 2019
পুরুষের প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ কী কী
January 25, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
পুরুষের প্রস্টেট ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ। তবে প্রথমে ধরা পড়লে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু, সচেতনতার অভাবে অনেকেই বুঝতে পারে না যে, এই মারণরোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে। সুতরাং সময় থাকতে থাকতে কীভাবে সচেতন হবেন, জানাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. সোরোস রাইস বাহরামি।
কথায় আছে, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’। অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করাই শ্রেয়। ৫০ বছর বয়সের পর পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। সুতরাং, ৫০ বছর পার হলেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি আপনার পরিবারে প্রস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তা হলে তো অতিরিক্ত সতর্ক হতেই হবে! ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর নিয়ম করে প্রস্টেট পরীক্ষা করান। তা ছাড়া, রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। দেখতে হবে রক্তে পিএসএ (প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) কতটা আছে। পিএসএ-র মাত্রাই বলে দেবে আপনার ক্যান্সারের আশঙ্কা। সেই সঙ্গে করাতে হবে ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা। প্রস্টেটে কোনও রকম স্ফীতি দেখা গেলে দেরি না করে বায়োপ্সি করাতে হবে। এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। ফলে, ভবিষ্যতে ক্যান্সার হতে পারে বোঝা গেলে বা একদম গোড়ায় ধরা পড়লে ভয় থাকে না।
একদম শুরুর দিকে প্রস্টেট ক্যান্সারের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। যখন রোগটি অ্যাডভান্সড স্টেজে চলে যায়, তখন একে একে লক্ষণ প্রকট হতে শুরু করে। তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা, প্রস্রাব কিংবা বীর্যের সঙ্গে রক্ত, মূত্রনালিতে কিছু আটকে আছে বোধ হওয়া ইত্যাদি প্রস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ। অ্যাডভান্সড স্টেজে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যন্ত্রণা তলপেট থেকে গোটা কোমরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা হল চিরাচরিত কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপি। এ ছাড়াও আজকাল ক্রায়োসার্জারির মতো উন্নত চিকিৎসা বেরিয়েছে। এই পদ্ধতিতে খুব কম তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ক্যান্সারের কোষগুলিকে ঠান্ডায় জমিয়ে দিয়ে মেরে ফেলা হয়। এ ছাড়া রয়েছে হরমোন থেরাপি এবং আলট্রাসাউন্ড থেরাপি। এই দুই পদ্ধতিতে যথাক্রমে হরমোন এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় শব্দতরঙ্গ প্রয়োগে ক্যান্সারের কোষগুলিকে ধ্বংস করা হয়। এই সব চিকিৎসা পদ্ধতিতে কাজ না হলে অস্ত্রোপচার করাই একমাত্র পথ।
ক্রেডিট কার্ড নেয়ার পর যে কাজগুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
January 25, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
অনলাইন ও অফলাইনে কেনাকাটা করার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে । ক্রেডিট কার্ড “প্লাস্টিক মানি” হিসেবেও পরিচিত। ক্রেডিট কার্ড হলো পোস্ট পেইড- আগে ব্যবহার, পরে টাকা জমা। নতুন ক্রেডিট কার্ড তুলে কীভাবে ব্যবহার শুরু করবেন সে ব্যাপারে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন। আপনি যাতে এরকম কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেজন্যই এই টিপস।
নতুন ক্রেডিট কার্ড নেয়ার পর যা যা অবশ্যই করবেন তা এখানে দেখুন।
১. কার্ডটি এক্টিভেট করুন
ক্রেডিট কার্ড যাই হোক না কেন, হাতে পাওয়ার পর পরই এটি ব্যবহারের উপযুক্ত হয়না। কার্ড ইস্যু করার পর এটি সিস্টেমে চালু হতে ১ থেকে ৩ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। কার্ড একটিভ হলে আপনি মোবাইলে এসএমএস কিংবা ইমেইল পেতে পারেন।
তবে সবচেয়ে ভাল হয়, যদি আপনি ক্রেডিট কার্ড সেবাদাতার হেল্প লাইনে ফোন করে এক্টিভেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেন। মোট কথা, কার্ডটি শুরুতেই এক্টিভেট করে নিতে হবে।
২. পিন নাম্বার সংগ্রহ করুন
এটিএম বুথ এবং দোকানে POS (পয়েন্ট অব সেল) এর মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য ক্রেডিট কার্ডের পিন নাম্বার দরকার হবে। এটা সাধারণত চার সংখ্যার হয়ে থাকে। এই পিন নাম্বার গোপনীয়, যা কারো সাথে কখনোই শেয়ার করা ঠিক হবে না।
কার্ডের প্যাকেটের মধ্যে ভাঁজ করা কাগজে পিন নাম্বার প্রিন্ট করা থাকতে পারে। যদি না থাকে, তাহলে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর দেয়া থাকবে যেখানে ফোন করে পিন নাম্বার সংগ্ৰহ করতে হবে।
৩. খরচ ও শর্তসমূহ জানুন
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ওপর বিভিন্ন শর্ত ও চার্জ প্রযোজ্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার কার্ডটি যদি “মাস্টারকার্ড” নেটওয়ার্কের হয়ে থাকে, তাহলে “মাস্টারকার্ড” চিহ্নিত এটিএম বুথ কিংবা POS অথবা ওয়েবসাইটে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। যদি “ভিসা” নেটওয়ার্কের হয়, তাহলে ভিসা চিহ্নিত বুথ/পস ও সাইটে এটি ব্যবহার করা যাবে। তাই এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
এছাড়া প্রতিবার বা প্রতিদিন সর্বোচ্চ কী পরিমাণ ট্র্যানজেকশন করা যাবে তাও জেনে নিন। ক্রেডিট কার্ডের মাসিক ট্রানজকেশন লিমিট খেয়াল রাখুন। অন্যথায় বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে পারেন।
৪. প্রয়োজনে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট করিয়ে নিন
আপনি যদি বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া কার্ড দিয়ে দেশের বাইরের কোনো ওয়েবসাইট কিংবা এটিএম বুথ/POS এ লেনদেন করতে চান, তাহলে আপনার পাসপোর্টে এই কার্ডের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এন্ডোর্স করিয়ে নিতে হবে। এটা রাষ্ট্রীয় নিয়ম।
পাসপোর্ট না থাকলে এই এন্ডোর্সমেন্ট ও এ ধরনের লেনদেন আপনি করতে পারবেন না। আপনার পাসপোর্ট নিয়ে ক্রেডিট কার্ড সেবাদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেখানে এই এন্ডোর্সমেন্ট করাতে পারবেন। সাধারণত ১ বছরের জন্য এন্ডোর্সমেন্ট করানো হয়, তবে এটা অটোরিনিউ করারও সুযোগ আছে। সর্বোচ্চ কত ডলার এন্ডোর্স করানো যাবে, তারও একটা সীমা আছে, যা ব্যাংকে গেলেই জানতে পারবেন।
৫. একাউন্টের তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করুন
ক্রেডিট কার্ড নেয়ার সময় আপনার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেসব তথ্য সরবরাহ করেছেন তার একটি অনুলিপি (কপি) নিজের কাছে নিরাপদে সংরক্ষণ করুন। যদি কোনোদিন কার্ড হারিয়ে যায়, কিংবা অন্য কোনো কারণে কার্ড নতুনভাবে তুলতে হয় (রিপ্লেসমেন্ট) তখন প্রাথমিক তথ্যগুলো আবার দরকার হবে।
৬. অফারগুলো জেনে রাখুন
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পে করলে ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে। এছাড়া অনেক ক্রেডিট কার্ড আছে যেগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রানজেকশন করলে কার্ডের বার্ষিক ফি মওকুফ হয়ে যায়। এসব অফার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিন। কার্ডের হেল্পলাইন এবং সেবাদাতার ওয়েবসাইটে এই তথ্যগুলো পাবেন।
৭. কার্ডের গোপনীয়তা নিশ্চিত করুন
অনলাইন ট্রানজেকশন করার জন্য কার্ডের এটিএম/POS পিন নম্বর দরকার হয়না। কার্ডের গায়ে যেসব তথ্য প্রিন্ট করা থাকে সেগুলোই যথেষ্ট, যেমন- কার্ড নম্বর, মালিকের নাম, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং সিকিউরিটি নম্বর (সিভিসি নম্বর হিসেবেও পরিচিত)। সুতরাং আপনার কার্ড বিশ্বস্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো হাতে দেবেন না।
৮. অনলাইন একাউন্ট
আপনার কার্ড সেবাদাতা যদি অনলাইনে ব্যালেন্স, ট্রানজেকশন ও স্টেটমেন্ট দেখার সুযোগ দেয়, তাহলে তাতে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারেন। এতে করে আপনি যেকোনো সময় আপনার কার্ডের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
৯. প্রথম পেমেন্ট
অনলাইন পেমেন্ট যত সহজ আবার ততই কঠিন। অনেক সাইট আছে যেগুলো হুট করে একটা কার্ড দিলেই নিয়ে নেয়না। যেমন ফেসবুক ও ডিজিটাল ওশানের কথাই ধরুন। তারা অনেক সময় কার্ড মালিকের আরও কিছু তথ্য জানতে চায়। প্রিপেইড কার্ডের ক্ষেত্রে এরকম হতে দেখেছি। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে এ ধরণের ঝামেলা একটু কম।প্রথমবার পেমেন্টের আগে আপনার কার্ডের হেল্পলাইনে কল করে জেনে নিন যে এটি এখন পেমেন্ট করার জন্য উপযোগী কিনা।
বিদেশি সাইট হলে হেল্পলাইনে জিজ্ঞেস করুন যে কার্ডে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট কার্যকর আছে কিনা এবং এভেইলেবল ডলার আপনার একাউন্টে আছে কিনা। সবকিছু ঠিক থাকলে পেমেন্ট পেইজে সকল তথ্য ঠিকভাবে যাচাই করে পে করুন।
বড় বড় সাইট, যেমন ফেসবুক এড এর ক্ষেত্রে একবার কোনো কার্ডের তথ্য ভুল হলে ফেসবুক পরেরবার ওই কার্ডের সঠিক তথ্যও আর বিশ্বাস করতে চায়না। সুতরাং খুব সাবধান!
১০. কার্ড কোথায় ব্যবহার করছেন?
ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে এর তথ্যের নিরাপত্তা। দুর্বৃত্তরা চাইলে আপনার কার্ডের তথ্য চুরি করে পরে আপনার একাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। তাই বিশ্বস্ত সাইট/POS ছাড়া বেনামী কোনো জায়গায় কার্ড দিয়ে পেমেন্ট না করাই ভাল। এ ব্যাপারে সচেতন হোন।
ধন্যবাদ
সড়ক পথে কি ভাবে দার্জিলিং যেতে হবে জেনেনিন
January 25, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ব্যস্ত জীবনে ছুটি কাটাতে যদি দার্জিলিং যেতে চান তাহলে আপনার উচিত হবে আগে থেকেই ভ্রমণের প্ররিকল্পনা করে নেয়া উচিত। কারণ আগে থেকে পরিকল্পনা না করা থাকলে ওখানে যেয়ে আপনার সময়, টাকা, পরিশ্রম সবই নষ্ট হতে পারে। তাই আসুন জেনে নেই দার্জিলিং বেড়াতে গেলে কোথায় কোথায় যাবেন। কোথায় থাকবেন। কোন পথে যাবেন। আজ আমরা জানাবো সড়ক পথে দার্জিলিং যেতে চাইলে কোন নিয়ম মেনে চললে আপনার জন্য বেশি সুবিধা জনক হবে।
রাতে ঢাকা থেকে শ্যামলী বাসে যাত্রা করে ভোরে বুড়িমারি সীমান্তে। নাস্তা আর ইমিগ্রেশনের সহ সব প্রক্রিয়া শেষ করতে ১০/১১টা বেজে যাবে। ওপারে চ্যাংড়াবান্দায় ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা সেরে শ্যামলীর বাসে শিলিগুড়ি। টাকা বা ডলার সরকার অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে রুপিতে পরিবর্তন করুন। অন্যথায় পরবর্তীতে ভাঙাতে সমস্যা হতে পারে।
চ্যাংড়াবান্দা থেকে ময়নাগুড়ির বাসে দেড় ঘণ্টার মত লাগবে শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে যেতে। সেখান থেকে দার্জিলিংগামী টাটা সুমো বা কমান্ডার জিপের টিকিট সংগ্রহ করে আড়াই ঘণ্টার মত লাগবে দার্জিলিং যেতে। কলকাতা শিয়ালদহ রেল স্টেশন থেকে সন্ধ্যায় ৭টা ১৫ মিনিটে দার্জিলিং মেল। টিকিট নেবেন বিদেশী ট্যুরিস্টদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টার কলকাতার ফেয়ারলি প্যালেস থেকে। পরদিন সকাল ১০টায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। এখান থেকে রিক্সায় শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে যাবেন। কলকাতা থেকে বিকাল ৪টা বা সন্ধ্যা ৬/৭ টায় দিকে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন ছেড়ে, সকালে পৌঁছায়। সেখান থেকে দার্জিলিংয়ে।
দার্জিলিংয়ে কোথায় থাকবেন:
দার্জিলিং শহরে সব মানের হোটেল আছে। কোন ধরণের জামেলায় পড়তে না চাইলে দালাল এড়িয়ে নিজেই হোটেল ঠিক করুন। তবে ঠিক করার আগে জেনে নিন গরম পানি আর রুম হিটারের ব্যবস্থা আর বেড়ানোর জন্য জিপসহ তাৎক্ষণিক সেবা সম্পর্কে।
দার্জিলিংয়ে খাবার-দাবার:
হোটেলে বাঙালি খাবারসহ সব ধরনের খাবারের ব্যবস্থা আছে এখানে। এছাড়া ভোরবেলায় চা এবং রাতের খাবারের আগে দার্জিলিং এর চা এর
ব্যবস্থা থাকে।
কোথায় বেড়াবেন:
. পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু রেলওয়ে স্টেশন ঘুম।
. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে অপূর্ব সূর্যোদয় দেখা যায়।
. খুব ভোরে ৮ হাজার ৩ শত ফুট উঁচু টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় চূড়ায় সূর্যোদয়ের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।
. পৃথিবীর বিখ্যাত প্রার্থনা স্থান ঘুম মোনাস্ট্রি।
. ছবির মতো সুন্দর স্মৃতিসৌধ বাতাসিয়া লুপ।
. বিলুপ্ত হওয়া প্রাণী পাহাড়ি বাঘ স্নো লিউপার্ড খ্যাত দার্জিলিং চিড়িয়াখানা।
. পাহাড়ে অভিযান শিক্ষাকেন্দ্র হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট। সর্বপ্রথম এভারেস্ট বিজয়ী তেনজিং-রক- এর স্মৃতিস্তম্ব আছে এই ইনস্টিটিউটে।
. কেবল কারে চড়ে ১৬ কিলোমিটার এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ভ্রমণ।
. হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেনে পৃথিবী খ্যাত ব্ল্যাক টি পানের অপূর্ব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে এখানে।
. যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থী কেন্দ্র তিব্বতিয়ান সেলফ হেলপ সেন্টার।
. প্রায় ৮’শ ফুট উঁচুতে দার্জিলিং গোরখা স্টেডিয়াম।
. নেপালি জাতির স্বাক্ষর বহনকারী দার্জিলিং মিউজিয়াম।
. পৃথিবীর বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার জাপানিজ টেম্পল আছে এখানে, ব্রিটিশ আমলের সরকারি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কাউন্সিল হাউস লাল কুঠির অসাধারণ শৈল্পিক নিদর্শন খ্যাত আভা আর্ট গ্যালারিও আছে দার্জিলিং এ।
. শতবর্ষের প্রাচীন মন্দির দিরদাহাম টেম্পল।
. পাথর কেটে তৈরি রক গার্ডেন এবং গঙ্গামায়া পার্ক সৌন্দর্য বিমোহিত করে পর্যটকদের।
হিমালয় কন্যা কাঞ্চন-জংঘা, পানির অবিরাম ঝরনাধারা ভিক্টোরিয়া ফলস্ এবং সুসভ্য জাতির সংস্কৃতি।
দার্জিলিংয়ে কেনাকাটা: দার্জিলিং শহরের লাডেন-লা রোডের মার্কেটে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে শীতের পোশাক, হাতমোজা, কানটুপি, মাফলার, সোয়েটারসহ লেদার জ্যাকেট, নেপালি শাল এবং শাড়ি, অ্যান্টিক্স ও গিফট আইটেম, লেদার সু, সানগ্লাস। প্রতারিত হওয়ার শংকা নেই। তবে ভ্রাম্যমাণ ফেরি থেকে শাল, শাড়ি না কেনাই ভাল হবে। যেতে বা আসতে শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট থেকেও কেনাকাটা করা যায় কিছুই।
দার্জিলিংয়ে ভ্রমণের সময়: শীতের শুরু বা শেষের দিকে দার্জিলিং ভ্রমণের জন্য উত্তম সময়। দার্জিলিংয়ে পাহাড় ধসে পরে বর্ষা মৌসুমে। শীত বা গরমে সে ঝুঁকি নেই বললেই চলে। ঠাণ্ডার এড়াতে গরম কাপড় নেয়া জরুরি। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে চলাফেরা করলে দালাল বা হারিয়ে যাওয়ার শংকা থাকবে না।
দার্জিলিংয়ে বেড়ানোর মোট খরচ: ঢাকা থেকে দার্জিলিং থাকা, খাওয়া, যাতায়াত বাবদ প্রতিজনে সর্বোচ্চ খরচ ১৫ হাজার টাকা মতো লাগবে। বুড়িমারি দিয়ে খরচ কম হবে। কলকাতার হয়ে গেলে খরচটা একট বাড়বে।
ফেইসবুক সিকিউরিটি ও সুরক্ষার জন্য যা করতে হবে ব্যবহারকারীদের।
January 25, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো। আর সেই তালিকায় প্রথমেই আছে মার্ক জুগারবার্কের ফেইসবুক । তবে অনেকেই ফেইসবুক একাউন্টের পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়েছেন। বিভিন্ন কারণেই ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড চলে যেতে পারে অন্যের নিয়ন্ত্রণে। তবে আর দেরি না তরে চলুন জেনে নেই ফেসবুক পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে-
একাউন্ট ফিশিং:
এই প্রক্রিয়ায় হ্যাকার আপনাকে বিভিন্নভাবে লিংক পাঠাবে। হতে পারে ফেসবুক ম্যাসেজে কিংবা আপনার ইমেইলে। অবিকল ফেসবুক থেকে আসা নোটিফিকেশনের মতই লিংক আসে। ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না আসলে এসব ফেইসবুকের না। একে বলা হয় ফিশার ওয়েব। অবিকল দেখতে একটি ওয়েবসাইটের মতো হলেও আসলে তা নয়। ফলে যদি ফেইসবুক ভেবে লগ ইন করেন তাহলেই আইডি খোয়া যাবে আপনার।
ওয়েবসাইটের শেয়ার বাটন:
কিছু ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে শেয়ার বাটন ক্লিক করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটে ছবি শেয়ার করতে সেখানে যে অপশন থাকে সেখানে ক্লিক করলেও অনেক সময় আপনার একাউন্ট ও পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে পারে।
ফেইক ফ্রেন্ড:
অনেক সময় দেখা যায় হ্যাকার ছদ্মবেশে আপনার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে। আপনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আপনাকে ইনবক্সে লিংক পাঠায়। এসব লিংকে না বুঝে ক্লিক করলেই আপনার গোপন পাসওয়ার্ড এবং ইমেইল হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
সাইবার ক্যাফেতে লগ ইন:
অনেকে শুধু মোবাইলেই ফেসবুক চালাতে অভ্যস্ত। মাঝেমধ্যে কম্পিউটারে বসেন কেবল বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে। এসব ক্ষেত্রে যারা পাবলিক কম্পিউটার যেমন- সাইবার ক্যাফেতে যান, অনেক সময় তারা একাউন্ট লগ আউট করতে ভুলে যান। অথবা অনেকেই লগ ইন করার সময়ে খেয়াল করেন না রিমেম্বার পাসওয়ার্ড দেয়া রয়েছে। এভাবে আপনার অজান্তে অন্য কেউ আপনার একাউন্ট এ প্রবেশ করে হ্যাক করে নিতে পারে।
ফেইসবুক অ্যাপ:
ফেসবুকে নানা অ্যাপ রয়েছে। এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব সময় সাবধান থাকা উচিত। অনেকেই এসব অ্যাপকে নিজের ইমেল একাউন্ট পাসওয়ার্ডসহ নানান তথ্য দিয়ে দেন। যা অনেক ক্ষেত্রেই এরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে বিক্রি করে। এভাবে ফেসবুক অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের একাউন্ট হারাতে পারেন।
Thursday, January 24, 2019
শাওমি রেডমি নোট ৭ দাম মাত্র ১৫০ ইউ এস ডলারে।
January 24, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
প্রতিযোগীতা মূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য নিত্যনতুন পণ্য বাজারে আনার কৌশলটি অনেকের জন্য কাজে দেয়। অন্ততঃ শাওমি এক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন বলতেই হবে। চীনের অ্যাপল বলে লোকমুখে পরিচিত এই ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা একের পর এক নতুন ফোন বাজারে এনে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে।
এইতো ১৫ দিন আগে শাওমি প্লে ফোন উন্মোচন করেই একেবারে গিনেজ বুকের বিশ্বরেকর্ডে নাম লিখিয়ে ফেলল শাওমি। আর এরই মধ্যে কোম্পানিটি নতুন শাওমি রেডমি নোট ৭ স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
শাওমি রেডমি নোট ৭ এ কী কী আছে?
শাওমি রেডমি নোট ৭ ফোনের স্ক্রিন সাইজ ৬.৩ ইঞ্চি, যা বর্তমানের ট্রেন্ড ওয়াটার ড্রপ নচ নিয়ে এসেছে। এর রেজ্যুলেশন ১০৮০ x ২৩৪০ (৪০৯ পিপিআই), সাথে আছে গরিলা গ্লাস ৫।অত্যন্ত কম দামের শাওমি রেডমি নোট ৭ ফোনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর ক্যামেরা। রেডমি নোট ৭ স্মার্টফোনের মূল ক্যামেরায় আপনি পাচ্ছেন ৪৮ মেগাপিক্সেল বিশাল সেন্সর। এর ডুয়াল লেন্স সেটাপে সাথে থাকছে একটি ৫ মেগাপিক্সেল সেন্সর যেটি এআই ও পোর্ট্রেট মুডে কাজে লাগবে।
শাওমি রেডমি নোট ৭ এর সেলফি ক্যামেরাটি ১৩ মেগাপিক্সেল হবে, যা ওয়াটার ড্রপ নচের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।
ফোনটি এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ৯ পাই এবং এম আই ইউ আই ১০ ব্যবহার করছে। আরও আছে হাইব্রিড ডুয়াল সিম এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার।
৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি সমৃদ্ধ এই ফোনটি কুইক চার্জ ৪ সাপোর্টেড। ফলে শূন্য থেকে ১০০% চার্জ করতে কুইক চার্জার দিয়ে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট সময় লাগবে।
যদিও বক্সের মধ্যে সাধারণ চার্জার দেয়া থাকবে। তার মানে কুইক চার্জার আলাদা কিনতে হবে।
২.২ গিগাহার্টজ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ চিপসেট চালিত শাওমি রেডমি নোট ৭ ডিভাইসে ৩/৪/৬ জিবি র্যাম এবং ৩২/৬৪ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েশন পাওয়া যাবে। দাম হবে ১৫০ ডলার (৩/৩২), ১৭৫ ডলার (৪/৬৪), এবং ২০০ ডলার (৬/৬৪), যা বাংলাদেশে এলে কিছুটা বাড়তে পারে।
শুরুতে ব্লু, টুইলাইট গোল্ড এবং ব্ল্যাক কালারে চীনে পাওয়া যাবে শাওমি রেডমি নোট ৭ ফোন। জানুয়ারির শেষ নাগাদ ডিভাইসটি বাংলাদেশের বাজারে আসতে পারে।
যৌন হেনস্থা আইন
January 24, 2019
| ছবি: সংগৃহীত |
১৯৭৯ইং সালে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ রোধের জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনে ভারতও অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। এই কনভেনশনে নারীদের অধিকার রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা পালন করার একটি শর্ত হল তাদের যৌন হেনস্থা রোধ করতে হবে। ভারত এই কনভেশনে সই করলেও এ পর্যন্ত লোকসভা এ বিষয়ে কোনো আইনই প্রণয়ন করেনি। তবে ১৯৯৭ইং সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট 'বিশাখা ও অন্যরা বনাম রাজস্থান প্রদেশ ও অন্যরা' মামলায় যে রায় দেয়, সেটি কার্যক্ষেত্রে আইনেরই সমতুল্য। সুপ্রিম কোর্টের বিচারে কাজের জায়গায় কোনো মেয়েকে উত্যক্ত করার অর্থ তার যে কোনও পেশা বা জীবিকা গ্রহণের সাংবিধানিক অধিকারককে অস্বীকার করা। কিন্তু যেহেতু এ ব্যাপারে কোনও আইন নেই, তাই তার অভাব পূরণ করতে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কতগুলি নির্দেশাবলী জারি করেছে। আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করে সাধারণ মানুষের সচেতনতার উপরে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন বা নির্দেশিকার অন্যতম উদ্দেশ্য এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
যৌন হেনস্থা কি?
যৌন হেনস্থা নানান আকার নিতে পারে। কতগুলো উদাহরণ নিলে ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে।
আমার এক সহকর্মী (বা সহকর্মীরা) আমাকে শুনিয়ে শুনিয়েই আমার জামা-কাপড় নিয়ে নানান কুরুচিপূর্ণ বিরক্তিকর মন্তব্য করে।
আমার 'বস'প্রায়ই আমার গায়ে হাত দেন, আমি তাতে অস্বোয়াস্তি বোধ করি। উনি অবশ্য ভাব দেখান যে হঠাৎ হঠাৎ করেই লেগে যাচ্ছে - এর মধ্যে কোনো দুরভিসন্ধি নেই। কিন্তু আমার মনে হয় উনি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার গা স্পর্শ করছেন।
আমার সামনে বসে আমার সহকর্মীরা নানা রকম অশ্লীল রঙ্গ-রসিকতা করে। আমি বিরক্তি প্রকাশ করলে আমায় খ্যাপায় আমি হাসিঠাট্টা বুঝি না বলে। কিন্তু থামে না ওদের রঙ্গ-রসিকতা চালিয়ে যায়।
আমি এক বাড়িতে রান্নার কাজ করি। বাড়ির বাবু প্রায়েই রান্নাঘরে এসে আমার দিকে লোভি লোভি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। মাঝে মাঝেই এটা ওটা এগিয়ে দেবার অছিলায় আমার গা স্পর্শ করেন।
আমার 'বস'-এর ঘরে কোনো কাজের ব্যাপারে গেলে প্রথমেই আমার চেহারা আর পোষাকের প্রশংসা করেন। কাজের চেয়ে আমার ব্যক্তিগত জীবনেই ওনার উত্সাহ বেশি। কথায়-বার্তায় আকারে-ইঙ্গিতে উনি বুঝিয়ে দেন আমাকে ওনার খুব পছন্দ। আমি ওনাকে প্রশ্রয় দিতে চাই না, কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারি না কারণ আমার পদোন্নতি ওনার উপরে নির্ভর করছে।
এ ধরণের অভিজ্ঞতা অনেক নারীর জীবনেই ঘটেছে। কাজ করতে গেলে এই ধরণের ঘটনা ঘটবে বলেই সবাই মেনে নেন এবং সমাজের অন্যান্য নানা অবিচারের মত এগুলোকেও সহ্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে যৌন হেনস্থা হল:
গায়ে হাত দেওয়া বা হাত দেবার চেষ্টা করা।
যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছে প্রকাশ করা।
যৌন রসাত্বক মন্তব্য বা রসিকতা করা।
অশ্লীল ছবি বা বই প্রদর্শন করা।
অন্য যেকোনো অবাঞ্ছিত যৌন আচরণ - দৈহিক, মৌখিক বা ইঙ্গিতসূচক।
এ ধরণের আচরণের প্রতিবাদ জানালে চাকরি চলে যেতে পারে পদোন্নতির সম্ভবনা নষ্ট হতে পারে, কর্মক্ষেত্রে একটা অপ্রতিকুল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পার - কর্মক্ষেত্রে এই নিরাপত্তার অভাব নারীকে এক পরম অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে। এতে তার জীবিকা অর্জনের অধিকার খর্ব হয়, তার স্বাস্থ্য-হানিও ঘটতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় লাঞ্ছিত নারীকে কিছু হাতিয়ার দিয়েছে যৌন হেনস্থর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য। কিন্তু তার জন্য নারীকে সক্রিয় হতে হবে। প্রথমে তার প্রতি যে আচরণটি করা হয়েছে বা হচ্ছে সেটি অবাঞ্ছিত - সেটা প্রমাণ করতে হবে। উত্যক্তকারীকে উপেক্ষা না করে তাকে নিজের অস্বোয়াস্তি বা আপত্তির কথা জানাতে হবে। রেজিস্ট্রি পোস্টে আপত্তি জানালে সেটি প্রমাণ হিসেবে থাকবে। তারিখ দিয়ে হেনস্থার বিবরণ লিখে রাখা, বিষয়টি নিয়ে সহানুভুতিসম্পন্ন সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা, ঘটনার সাক্ষী থাকলে তার সাক্ষ্য রাখা। কর্ম সংস্থায় যৌন হেনস্থা সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকলে তার সঙ্গে আলোচনা করা - এগুলো সবই অবাঞ্ছিত আচরণ প্রমাণে সাহায্য করবে। অনেক ক্ষেত্রে এই রকম আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, না হলে অভিযোগ শোনার জন্য যে কমিটি থাকে - তাদের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।
যৌন হেনস্থা দূর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিধান অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব নারীদের জন্য বৈষম্যমুক্ত কাজের পরিবেশ তৈরি করা। তার জন্য কর্তৃপক্ষকের জন্য কোর্টের যে নির্দেশাবলীতে রয়েছে, তার কয়েকটি হল:
(১) যৌন হেনস্থা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা ও সার্কুলার জারি করা।
(২) সরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে আচরণ সংক্রান্ত নিয়মাবলীর মধ্যে যৌন হেনস্থা ও তার শাস্তির উল্লেখ করা।
(৩) বেসকরারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে 'ইণ্ডাস্ট্রিয়াল এমপ্লয়েমেণ্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর যে হুকুমনামা আছে - তার মধ্যে যৌন হেনস্থার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা।
(৪) কর্মক্ষেত্রে কাজ করার জায়গা, বিশ্রাম নেবার জায়গা, স্বাস্থ্যরক্ষা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্য হওয়ার জায়গা এমন ভাবে তৈরি করা যাতে কোনো নারীকর্মীর পক্ষেই সেটি অসুবিধাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে।
(৪) যদি কোনো আচরণ ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় পড়ে বা অন্য কোনো আইন তাতে লঙিঘত হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার দায়িত্ব সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। তাঁদের আরও দায়িত্ব থাকবে যে যার উপর যৌন হেনস্থা করা হয়েছে আর যারা সেই হেনস্থার সাক্ষী - তাদের উপর যেন কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ বা অন্যায় না হয় সেটা দেখা।
(৫) এই আচরণ যদি চাকরির নিয়মাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অসদাচারণ বলে বিবেচিত হয়, তাহলে সেই অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া।
(৬) যৌন হেনস্থার অভিযোগ নেবার জন্য অভিযোগ শুনানির কমিটি গঠন করা, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগের মোকাবিলা করা যায়।
(৭) ইউনিয়ন বা কর্মীপরিষদের দায়িত্ব হল মিটিং-এ কোনো কর্মী যৌন হেনস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে, তা করতে দেওয়া এবং মালিক-কর্মীর মিটিং-এ এ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা।
দুর্ভাগ্যবশতঃ আমাদের দেশে বেশির ভাগ নারীই কাজ করছেন অসংগঠিত সংস্থায়। সেখানে মালিক-কর্মীর আচরণ সংক্রান্ত কোনো নিয়মাবলীও নেই, অভিযোগ জানানোর কোনো কমিটিও নেই। তাই বহু ক্ষেত্রেই যৌন হেনস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় চলে গিয়ে অন্য কোথাও কাজ নেওয়া।
আপনার মোবাইল কি বৈধ এখনই জেনেনিন?
January 24, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বৈধভাবে আমদানি করা এবং উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই ‘এনওসি অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডেটাবেজ (এনএআইডি)’ চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডাক, টেযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে এই ডেটাবেজের উদ্বোধন করেন।
গ্রাহকের মোবাইল ফোনটি বৈধ নাকি অবৈধ ভাবে আমদানি করা হয়েছে, তা এখন জানা যাবে সহজেই। মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে আপনি যাচাই করতে পারবেন আপনার মোবাইলের বৈধতা। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমদানি করা অথবা দেশে তৈরি মোবাইলের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির তথ্যভান্ডারে রয়েছে। এর আগের আইএমইআই নম্বর হয়তো পাওয়া যাবে না ডেটাবেজে।
বিটিআরসির তথ্যমতে, নতুন মোবাইল ফোনসেট কেনার সময় ফোনের প্যাকেটের গায়ে লেখা ১৫ ডিজিটের ২টি আইএমইআই নম্বরটি দেখে নিতে হবে। যদি প্যাকেটের গায়ে লেখা আইএমইআই নম্বরটি মনে না থাকে তাহলে সহজেই *#০৬# ডায়াল করলেই ২টি আইএমইআই নম্বর চলে আসবে।
এরপরে মোবাইল ফোনের এসএমএস অপশনে গিয়ে বড় অক্ষরের কেওয়াইডি লিখে স্পেস দিয়ে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বরটি লিখে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে গ্রাহক বিটিআরসির ডেটাবেজে ওই আইএমইআই নম্বরটি আছে কি না, তা জানতে পারবেন।
বিটিআরসি’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) এর আর্থিক সহায়তায় এনএআইডি চালু করা হয়েছে। এই ডেটাবেজ চালু হওয়ায় অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেট আমদানি করা বন্ধ হয়ে যাবে। গত বছর দেশে মোট সোয়া তিন কোটি হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে বিটিআরসি’র মাধ্যমে ২ কোটি ৭৬ লাখ ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হয়। যত হ্যান্ডসেট বিক্রি হয় তার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আমদানি করা হয়। এর ফলে বিদায়ী বছরে এক হাজার থেকে ১২শ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
Wednesday, January 23, 2019
যদি সূর্য হারিয়ে যায় তখন পৃথিবীর কী হবে?
January 23, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
জানার ও কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। আচ্ছা, কী হবে যদি এই মুহূর্তে হঠাৎ সূর্যটা গায়েব হয়ে যায়? অনেকে হয়ত ভাববেন এইসব চিন্তা করে সময় নষ্ট করে লাভ কী? কিন্তু কিছু কিছু কৌতূহলী মানুষ সারাক্ষণ এসব নিয়েই চিন্তা করে যাচ্ছেন। আপনারও যদি এই প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে চলুন দেখা যাক আসলেই এখন সূর্যটা বিলীন হয়ে গেলে কেমন হবে!
সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ৩,৩৩,০০০ গুন ভারী আর এটা প্রতি সেকেন্ডে এক শত বিলিয়ন হাইড্রোজেন বোমার সমান শক্তি তৈরি করে। আর এর প্রবল আকর্ষণ বল দিয়েই এটা পৃথিবী সহ আটটি গ্রহকে তাদের কক্ষপথে ধরে রেখেছে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন সূর্য না থাকলে আমাদের কী হবার কথা।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য হঠাৎ গায়েব হয়ে গেলে সৌরজগতের গ্রহগুলো সব ছিটকে মহাশূন্যে হারিয়ে যাবে। পাশাপাশি এদের মাঝে সংঘর্ষ হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সূর্য কিন্তু আমাদের আলোর ও প্রধান উৎস। কিন্তু আলোর ব্যাপারটি একটু ভিন্ন। কারণ এত বেশি গতিতে চলার পরেও বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট লেগে যায়। তাই মজার ব্যাপার হল ঠিক এই মুহূর্তে সূর্য বিলীন হয়ে গেলে তা আমাদের চোখে দেখে বুঝতে ৮ মিনিট সময় লেগে যাবে। মানে ৮ মিনিট পর বুঝবো যে সূর্য নেই। অবশ্য তার আগেই গ্রহগুলো ছিটকে গিয়ে একটা হুলস্থূল কান্ড ঘটে যাবে।
তবে অন্য কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে শুধুমাত্র আলোর অভাবে আমাদের তৎক্ষণাৎ কোন সমস্যা হবে না। কারণ ইলেকট্রিসিটি থাকবে এবং পাশাপাশি তারাগুলো তখনও কিছুটা আলো দিবে। এমনকি বৃহস্পতি গ্রহকেও প্রায় ১ ঘণ্টার মত দেখা যাবে (কারণ বৃহস্পতি থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে আসতে আসতে কিছুটা সময় নেবে। এই সময়ের পার্থক্যের কারণে সূর্য হারিয়ে গেলেও ঠিক আগের মুহূর্তের আলোটুকু এই পথ ঘুরে আসতে যে সময় দরকার সেই সময়টা বৃহস্পতিকে দেখা যাবে )।
কিন্তু পৃথিবীতে বিপত্তি ঘটবে ৮ মিনিট পর। কারণ, সূর্যের আলো ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ হবে না।
তাই ছোট উদ্ভিদগুলো খাবার তৈরি করতে না পেরে কয়েকদিনের মধ্যেই মারা পড়বে। আর বড়গুলো হয়তো আরো কিছুদিন টিকে থাকবে। এর চেয়েও বড় সমস্যা আছে। আমরা জানি যে সূর্য আমাদের তাপেরও উৎস। আর তাপ যে কতটা দরকারি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সূর্য বিলীন হয়ে যাওয়ার ১ সপ্তাহের মাঝে পৃথিবীর তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যাবে। আর সূর্যহীন এক বছর শেষে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দাঁড়াবে মাইনাস ৭৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
চিন্তা করে দেখুন তো, এই বরফশীতল অবস্থায় কোন জীবটির অস্তিত্ব থাকবে? তবে হাইড্রথার্মাল ভেন্টে যেসব প্রাণি আছে সেগুলো সূর্য ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
ওই অবস্থায় পৃথিবীর সমুদ্রের উপরিভাগের পানিগুলো বরফ হয়ে পুরো পৃথিবীকে একটি বরফ খণ্ডের মত লাগবে। তবে মাটির নিচে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে পৃথিবীর “কোর” তখনও তাপ উৎপাদন করবে। কেউ যদি এইদিকটায় সুবিধাজনক কোনো আশ্রয় পায়, তাহলে তার ভাগ্য কিছুটা প্রসন্ন বলা যায়, কিন্তু খাবে কী!
সূর্য না থাকলে মহাকর্ষ বল এর অভাবে পৃথিবী শূন্যের দিকে সোজা ছুটতে থাকবে। এখন পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬৭০০০ মাইল বেগে ছুটে চলেছে। সেই হিসেবে অন্য কোন কিছুর সাথে সংঘর্ষ না ঘটলে পৃথিবী প্রথম ১ বিলিয়ন বছরে পুরো আকাশগঙ্গা ছায়াপথের দৈর্ঘ্যের সমান দূরত্ব অতিক্রম করে ফেলবে আর অনন্তকাল এইভাবেই চলবে। কিন্তু আসলেই কি তাই? আমাদের ছায়াপথেই প্রায় ১০০ বিলিয়ন সূর্যের মত তারা রয়েছে, আরও আছে ১ বিলিয়নের মত ব্ল্যাক হোল। তাদের মাঝে কোন একটা যে পৃথিবীকে আবার ঐটার কক্ষপথে বসিয়ে দিবে না (কিংবা গ্রাস করবেনা) তাই বা কে বলতে পারে। সবই সর্ব শক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জানেন।
পারিবারিক আইন ও আদালত, ১৯৮৪
January 23, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে নারীদের সুবিধার জন্য - তাদের পারিবারিক সমস্যার দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য। আজকের ভারতবর্ষে নারীদের আইনগত অনেক অধিকার থাকলেও, আইন সম্পর্কে বহু নারীর অজ্ঞতা, আর্থিক অসুবিধা ও যে-কোনও মামলা নিস্পত্তি হতে দীর্ঘকাল সময় লাগা, ইত্যাদি প্রতিকুলতার জন্য নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে অনেক সময়েই বঞ্চিত হয়ে থাকেন। এইসব সমস্যার কথা ভেবেই পারিবারিক আদালত আইন তৈরি করা হয়েছে।
পারিবারিক কোর্টে কোনও উকিল নিযুক্ত করতে পারে না (অর্থবলের ফলে এক পক্ষ দুর্ধর্ষ উকিল এনে যাতে মামলায় নিজের সুবিধা না করে নিতে পারে, বা যাতে আইনের মারপ্যাঁচে মামলা দীর্ঘস্থায়ী না করতে পারে - এগুলি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে) । এই কোর্টে উকিলের বদলে থাকবে শুধু নিরপেক্ষ পরামর্শদাতা বা কাউন্সেলর (Counselor) । তারা বাদী ও বিবাদী - দুই পক্ষের কাছেই যাবে ও তাদের সাথে কথা বলবে প্রয়োজন মত তাদের বন্ধু আত্মীয়স্বজনদের প্রশ্ন করবে বিষয়টি ভালো করে জানার জন্য। ব্যাপারটি নিজেরা পরিষ্কার বুঝে তারা দু-পক্ষকেই বোঝাবে ও বিচারকের কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করবে।
মামলা যদি বৈবাহিক -বিষয়ক হয়, তাহলে প্রথমে বিচারকের চেষ্টা হবে ব্যাপারটা আপোসে মিটিয়ে ফেলা। সেটা সম্ভব না হলে, উভয়পক্ষ যদি রাজি হয় - তাহলে তাদের সন্মতি নিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদের আদেশ দেওয়া। সম্পত্তি কি ভাবে ভাগ করা হবে, ভরণপোষণের দায়িত্ব কার কি বর্তাবে, নাবালকের অভিভাবকত্ব কে পাবে - এইসব বিচারক স্থির করে দেবে।
১২ বছর অন্তর ফোটে এই ফুল
January 23, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
নীলাকুরিঞ্জি— কত শুনেছি তার নাম। অতি সাধারণ, হালকা নীল রঙের ছোট ছোট ফুল। গন্ধও নেই তেমন। তবুও কেন তার এত কদর!
কারণ একটাই— সে অতি দুর্লভ। বারো বছর পর পর সে ফোটে। সেই সময় পশ্চিমঘাট পর্বতমালার নীলগিরি পর্বত আক্ষরিক অর্থেই নীল হয়ে ওঠে তার আগমনে।
২০১৮ সালেই জুলাই থেকে অক্টোবর তার ফুটবার সময়। মনটা লাফিয়ে উঠেছিল। ১২ বছর পর কে কোথায় থাকব তার ঠিক নেই। সুতরাং এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। কর্তামশাইকে রাজি করানো, প্লেনের টিকিট কাটা, হোটেল বুক— ঝপাঝপ সব করে ফেললাম।
চেন্নাই হয়ে কেরলের কোচি শহর। সেখান থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে সবুজে মোড়া পাহাড়ি শহর মুন্নারে। কিন্তু, দু’দিনের মধ্যেই মনের তুরুক নাচ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। টিভি, খবরের কাগজ সব জায়গায় খবরের শিরোনামে কেরলের বন্যা। মুন্নার যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ। কোচি বিমানবন্দরেরও একই অবস্থা।
সব বুঝি বিফলে যায়। মনখারাপের বোঝা কোথায় রাখি! তবু আশায় বাঁচে চাষা। হোটেল বুকিং ক্যানসেল করলেও ফ্লাইটের টিকিট করা হলো না সেই আশাতেই। শেষে এক বন্ধুর পরামর্শে ঠিক হলো, চেন্নাই থেকে কোদাইকানাল চলে যাব। সেখানেও নাকি নীলাকুরিঞ্জি ফোটে। তবে খুবই কম।
হোক কম। তবুও দেখতে তো পাব। সেখান থেকে মুন্নার যেতে পারলে ভাল। না হলে অন্য কোথাও চলে যাব।
সেই মতো সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহান্তে বেরিয়ে পড়লাম। কলকাতা থেকে দুপুরের ফ্লাইট। বিকেল ৪.৩০ নাগাদ পৌঁছে গেলাম চেন্নাই। সেখান থেকে বেশ সুন্দর আর আরামদায়ক নাইট সার্ভিস স্লিপার বাস। ৫২৬ কিলোমিটার পথ পেরোতে সময় নেয় ঘণ্টা দশেক।
সকাল ৬টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম মেঘকুয়াশা মাখা, সদ্য ঘুম ভাঙা, হালকা শীতের চাদর জড়ানো কোদাইকানাল শহরে। মোটামুটি পছন্দসই এক হোটেল খুঁজে, লটবহর রেখে, ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়া গেল শহর দেখতে। অবশেষে বিকেলের দিকে কোদাইকানাল বোটানিকাল গার্ডেনে দেখা মিলল সেই বিরল ফুলের। পাহাড়ের গায়ে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো নয়, তবু চোখের দেখা তো হলো।
সে রাত কাটল কোদাইকানালেই। পরের দিন অনিশ্চিত যাত্রা মুন্নারের দিকে। বন্যাতে মুন্নারে যাওয়ার রাস্তাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দু-একটি খুললেও আমাদের একটু ঘুরপথেই যেতে হয়েছিল। কোদাইকানাল থেকে বাসে ২ ঘণ্টার রাস্তা বাটলাগুন্ডু। সেখান থেকে বাসে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে গিয়ে পৌঁছলাম থানিতে। এখান থেকে জিপ ভাড়া করে মুন্নার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা।
মুন্নারে ঢুকতেই মন ভাল হয়ে গেল। গোটা শহর জুড়ে শুধু সবুজ চা বাগান। আর আছে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ। চারিদিকে বিভিন্ন আকারের পাহাড়, কোনওটা নীল, কোনওটা সবুজ। জঙ্গল, ছোট ছোট ঝরনা, লেক দিয়ে সাজানো সুন্দরী মুন্নার।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙল এক উত্তেজনা নিয়ে। যে কারণে মুন্নারে আসা, তা দেখতেই আজ যাব এরাভিকুলাম ন্যাশানাল পার্ক-এ। এই সময় পাহাড় নাকি ছেয়ে থাকে নীল ফুলে। নীল আকাশের সঙ্গে নাকি বাজি লড়ে নীলগিরি।
এই ট্রিপে প্রায় জোর করেই আসা প্রকৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে। সেপ্টেম্বর, কিন্তু এখনও বর্ষার প্রকোপ কাটেনি। ২০০০ মিটার উচ্চতার এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্কে যখন পৌঁছলাম, মেঘ নেমে এসেছে মাথার উপর। দূরের পাহাড়গুলো আবছা, রহস্যময়। আর সব থেকে দুঃখজনক ঘটনা, অতি বৃষ্টিতে প্রায় সব ফুল ঝরে গিয়েছে।
মনটা খারাপ হয়ে গেল। টিম টিম করে এদিক ওদিক ছড়িয়ে কিছু নীলাকুরিঞ্জি। বাকি পাহাড় জুড়ে শুধু ছাইরঙা ফুলহীন গাছগুলো ভরে আছে। মনকে সান্ত্বনা দিলাম। যে ভয়ানক বন্যার কবল থেকে বেঁচে উঠল এই শহর, তার পর এইটুকু দেখতে পাওয়াও তো সৌভাগ্যের ব্যাপার।
এরই মধ্যে হঠাৎ পাশের পাহাড় থেকে দুড়দাড় করে নেমে এল বেশ কয়েকটি 'নীলগিরি থর'। বুনো ছাগলেরই এক প্রজাতি, দেখতে কিছুটা হরিণের মতো। এই প্রাণীগুলি নীলগিরির নিজস্ব বাসিন্দা।
ইতিমধ্যে মাথার উপর জমে থাকা মেঘগুলি ভারী হয়ে আর নিজেদের ধরে রাখতে পারল না। নামল ঝমঝমিয়ে। ভিজে চুপ্পুস হয়ে ফিরে এলাম মুন্নারে। আবার বারো বছর! আর কি পাবো দেখা?
লেখাটি সংগৃহীত
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২ বছরের জেল
January 23, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
স্পেন ছেড়ে ইতালিত ক্লাবে যোগ দিলেও স্পেন এর আদালত পিছু ছাড়ছে না পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। স্পেনে পুরোনো সেই কর ফাঁকির মামলার শুনানিতে আজ মাদ্রিদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে রোনালদোকে। দোষী সাব্যস্ত হলেও কারাবাস করতে হচ্ছে না জুভেন্টাস তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। মাদ্রিদের আদালত তাঁকে দুই বছরের জেল দিয়েছেন। তবে স্পেনে সহিংস অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো প্রথম অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত সাজা পেলে কাউকে জেল খাটতে হয় না। জরিমানা অবশ্য এড়াতে পারছেন না রোনালদো। একই শুনানিতে আদালত তাঁকে ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছেন।
কর ফাঁকির মামলার মধ্যেই গত বছরের শেষ দিকে তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন মডেল ক্যাথরিন মায়োর্গার করা ধর্ষণের মামলাও আবার নতুন করে চালু হয়েছে। সম্প্রতি সেটির জন্য ইতালিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে রোনালদোর ডিএনএ চেয়ে পাঠিয়েছে লাস ভেগাসের পুলিশ। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এগুলো তাঁর জীবনযাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলছে কি না। এই প্রসঙ্গ তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সি আর সেভেন, ‘আমি খুব ভালো আছি।’ আদালত চত্বর ছেড়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে ওঠার আগে ভক্তদের কিছু অটোগ্রাফও দিয়েছেন তিনি।
পুরুষদের মাথায় টাক আছে তিনটি ঘরোয়া সমাধান
January 23, 2019
| ছবি: সংগৃহীত |
একটা বয়স পেরোলেই যুবক বা বৃদ্দ সব পুরুষরাই টাকের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। মাথার সামনের দিকে বা মাঝখানে চুল পাতলা হতে দেখা যায়। এক সময়ে মাথার সামনের অংশের সব চুল পড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁরা হেলমেট পরে কাজ বা মোটর বাইক চালান, তাঁদের আগে মাথায় টাক পড়ে। কিন্তু এই টাক সমস্যা থেকে বাঁচারও রয়েছে বিশেষ কিছু উপায়। জেনে নিন কয়েকটি ঘরোয়া উপায়।
• এক গ্লাস পানি একটি পাত্রে নিয়ে ফোটান। পানি ফুটে উঠলে এতে ২টি জবাফুল দিয়ে ৩-৪ মিনিট সিদ্ধ করুন। সেই পানি ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা করে, তাতে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। চুল শ্যাম্পু করার পরে এই মিশ্রণটি মাথায় লাগিয়ে নিন। জবা ফুলের রস চুলের গোড়ার জন্য উপকারী।
• তিন গ্লাস পানিতে দশটি নিমপাতা ফোটান। পানি ফুটে গেলে ঠান্ডা করুন। তার পরে চুলের গোড়ায় ভাল করে মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে দু’দিন ব্যবহার করুন।
• অলিভ অয়েল তৈল গরম করে নিন। এর পরে এতে দুই চামচ মধু এবং এক চামচ দারচিনি গুঁড়ো ভাল করে মেশান। মিশ্রণটি ভাল করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিবেন। শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন এইটা ব্যবহার করুন।
Tuesday, January 22, 2019
মুসলিম বিবাহ আইন
January 22, 2019
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ভারতবর্ষে মুসলিম আইন সৃষ্টি হয়েছে মূলতঃ কোরআন থেকে। তবে নির্দেশ গুলি সংশোধিত হয়েছে বিধানসভা ও লোকসভায় গৃহীত বিল এবং কোর্টের বিভিন্ন রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে।
মুসলিম আইন (শরিয়ত) অনুসারে বিবাহ বা নিকা হল পরস্পরের উপভোগের জন্য এবং বৈধ সন্তান উত্পাদনের জন্য স্বেচ্ছায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
মুসলিম বিবাহ হতে গেলে এক পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসতে হবে এবং অন্য পক্ষকে তাতে সন্মতি জানাতে হবে। সন্মতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে না এবং এই সন্মতি কোনও শর্ত-সাপেক্ষ হওয়া চলবে না। উপরোন্তু এই সন্মতি আদায় করার জন্য কোনও রকম চাপ সৃষ্টি, মিথ্যার প্রশ্রয় নেওয়া বা কোনোরূপ প্রভাব খাটানো চলবে না। একই বৈঠকে প্রস্তাব ও সন্মতিদান সম্পন্ন করতে হবে এবং এগুলি করতে হবে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে। সাক্ষী থাকবে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন নারী (সুন্নি আইন অনুসারে)। নারীসাক্ষীদের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের হতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমনা ও মুসলিম। শিয়া আইনে বিবাহের সময় সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা নেই।
মুসলিম বিবাহ আইনে নাবালক ও অসুস্থমনা ব্যক্তিদের বিবাহ হওয়া সম্ভব, কিন্তু সেই ক্ষেত্রে অভিভাবক বা কোনও প্রতিনিধি কর্তৃক এই বিবাহ-চুক্তি সম্পাদিত হবে। নাবালকরা প্রাপ্ত-বয়স্ক হবার পর চাইলে এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
এই বিবাহের অধিকার ও দায়ের মধ্যে রয়েছে বিবাহের আগে, বিবাহের সময়ে অথবা বিবাহের পরে উভয়পক্ষের মধ্যে যে বোঝাপড়া হবে, তা যদি মুসলিম আইন বা সাধারণ নীতির পরিপন্থী না হয়, তাহলে সেই শর্ত বাধ্যতামূলক হবে।
মুসলিম বিবাহ আইনে দেনমোহরের ব্যবস্থা আছে। দেনমোহরে একটি অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট করা হয়, যেই পরিমান অর্থ স্ত্রীকে দিতে স্বামী বাধ্য থাকবে। বিবাহের সময়ে বা পূর্বে এই দেনমোহর স্থির হয়। অবশ্য পরেও করা যেতে পারে। দেনমোহরকে বিবাহ-চুক্তির মূল্য বা শর্ত বলা চলে না (মুসলিম বিবাহে কোনও শর্ত থাকে না)। লাহোর ও এলাহাবাদ হাইকোর্ট দেনমোহরকে স্ত্রীর মর্যাদাস্বরূপ বলে বিচার করেছেন - অর্থাৎ এটি হল আইনগত স্ত্রীর প্রাপ্য মার্যাদা। বিবাহ-চুক্তিতে যদি লেখাও থাকে দেনমোহর দিতে হবে না - সেক্ষেত্রেও দেনমোহর স্ত্রীর প্রাপ্য। অন্যপক্ষে কলকাতা হাইকোর্টের মতে, দেনমোহর হল সম্পত্তির মূল্য।
মুসলিম বিবাহ আইনে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ। সেই আত্মীয়তা রক্ত-সম্পর্কিত হতে পারে (যেমন, পুরুষের ক্ষেত্রে তার মাতা, মাতামহী, কন্যা, পৌত্রী, ইত্যাদি), কিংবা অন্য কোন নিকট আত্মীয় হতে পারে (যেমন, পুরুষের ক্ষেত্রে শাশুড়ি, স্ত্রীর পূর্ববিবাহজাত কন্যা, বিমাতা, ইত্যাদি)।
এই আইন অনুসারে পুরুষরা একসঙ্গে চারটি বিবাহ করতে পারে। কিন্তু নারীদের পক্ষে একই সঙ্গে একাধিক স্বামী থাকা নিষিদ্ধ।
মুসলিম বিবাহ আইনে অনেক অবৈধ বিবাহ বৈধ হয়ে যায় যখন অবৈধতার কারণ লুপ্ত হয়। যেমন, চারটি স্ত্রী বর্তমান থাকলেও কেউ যদি আবার বিবাহ করে, তাহলে সেই বিবাহ অবৈধ। কিন্তু সে যদি একজন স্ত্রীকে তালাক দেয় (বা পরিত্যাগ করে), তাহলে তার অবৈধ বিবাহটি বৈধ হয়ে যায়। কোনও নারীর ইজ্জতের সময়কালে তাকে বিবাহ করলে সেই বিবাহ অবৈধ, আবার ইজ্জতের সময়ে পার হয়ে গেলেই সেটি বৈধ বলে গণ্য হবে।
(ইজ্জত: স্বামীর মৃত্যুর পর বা বিবাহ-বিচ্ছেদের পর মুসলিম নারী যে-সময়ের জন্য [মোটামুটিভাবে তিনমাস বা তার অধিক] একা থাকে)।
সুন্নি পুরুষ যদি কোনও মুসলিম নারী বা কিতাবিয়াকে (অর্থাৎ , যে-ধর্মে ঈশ্বর-প্রদত্ত বাণী পুস্তকাকারে [বাইবেল, কোরান, ইত্যাদি] আছে - সেই ধর্মাবলম্বীকে) বিবাহ করে - তাহলে সুন্নি আইন অনুসারে সেটি বৈধ হবে। কিন্তু যে ধর্মে পৌত্তলিকতা আছে (যেমন, হিন্দু ধর্ম) - সেই ধর্মাবলম্বী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। করলে, সেটিকে নিয়ম-বহির্ভূত বা অনিয়মিত বলে গণ্য করা হবে। শিয়া আইনে এটি শুধু অনিয়মিত নয়, এটি হবে অবৈধ। সুন্নি ও শিয়া - কোন আইনেই মুসলিম নারী কোনও অমুসলিম পুরুষকে (সে কিতাবিয়া হলেও) বৈধভাবে বিবাহ করতে পারে না। সুন্নি আইন অনুসারে সেটি হবে নিয়ম-বহির্ভূত বিবাহ। শিয়া আইন অনুসারে সেটি হবে অবৈধ।
যদিও কোরআন ও হাদীছে এ-বিষয়ে সমর্থন নেই, তবুও অন্যান্য চুক্তির মত বিবাহ-চুক্তিও যাতে ভঙ্গ করা যায় - তার ব্যবস্থা ভারতবর্ষের মুসলিম আইনে রয়েছে। ১৯৩৯ সাল অনুসারে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে নারীর পক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে যাবার কয়েকটি শর্ত আছে:
১) চার বছর ধরে স্বামী নিখোঁজ।
২) দুই বছর ধরে স্বামী তাকে অবহেলা করছে বা ভরণপোষণ দেয়নি।
৩) স্বামী সাত বছর বা তার অধিক কালের জন্য কারাদণ্ড পেয়েছে।
৪) তিন বছর ধরে কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দাম্পত্য কর্তব্য করেনি।
৫)দুই বছর ধরে স্বামীর মাথা খারাপ কিংবা কুষ্ঠরোগগ্রস্থ বা বাজে যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত।
৬) বিবাহের সময় স্বামী অক্ষম ছিল এবং এখনও আছে।
৭) ১৫ বছর বয়স হবার আগে যে বিবাহ হয়েছিল, ১৮ বছর বয়সের আগেই সে বিবাহকে স্বামী অস্বীকার করেছে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক ঘটেনি।
৮) স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করছে, যেমন, তাকে প্রহার করছে বা মানসিক ভাবে পীড়ন করছে, অসৎ রমণীর সঙ্গে সংসর্গ করছে, স্ত্রীকে জোর করে অসামাজিক অবৈধ জীবনযাপন করতে বাধ্য করছে, ধর্মীয় আচরণে হস্তক্ষেপ করছে, স্ত্রীর আইনসঙ্গত অধিকারে বাধা দিচ্ছে, কোরআন এর অনুশাসন অনুযায়ী সকল স্ত্রীদের সঙ্গে সম-আচরণ করছে না, ইত্যাদি।
পুরুষদের ক্ষেত্রে বিবাহ-বিচ্ছেদের একক ইচ্ছার আইন আছে। যে কোনও পুরুষ তিনবার তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারে। যার উদ্দেশ্যে তালাক দেওয়া হল, সে সেখানে না থাকলেও এই বিচ্ছেদ স্বীকৃতি পাবে। তবে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে সেই পুরুষ আবার বিবাহ করতে পারবে না। তালাক-প্রাপ্তা সেই মুসলিম নারী যদি অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করে এবং সেই বিবাহ ভেঙ্গে যায়, তখনই আবার তাকে বিবাহ করা যাবে।
শরিয়ত আইনে স্ত্রীকে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার দেওয়া হয়েছে দুইটি ক্ষেত্রে। এক হল জিহার, অর্থাৎ স্বামী যদি নিষিদ্ধ সম্পর্কের কোনও স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয় এবং তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি না হয়। সেক্ষেত্রে স্ত্রী আবেদন করলে আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের আদেশ দেবে।
স্ত্রী স্বামীকে মুক্তিমূল্য (স্বামীর শর্ত অনুযায়ী খুলা) দিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ করিয়ে নিতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের সন্মতিতেই বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়, একে বলা হয় মুবারাত।
মুহাম্মদ আহমেদ খান ও শাহবানো বেগমের মামলায় সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, বিবাহ বিচ্ছেদের পরে যদি মুসলিম নারী নিজের ভরণপোষণ চালাতে পারে, তাহলে পুরুষের দায়িত্ব ইজ্জতের পরেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই নারী যদি নিজের ভরণপোষণ চালাতে সক্ষম না হয়, তাহলে ক্রিমিনাল কোডের ১২৫ ধারা অনুযায়ী তার ভরণপোষণের দায়িত্ব থাকবে প্রাক্তন স্বামীর। এর পর মুসলিম স্বামীদের প্রাক্তন স্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নানান বাদ-প্রতিবাদ শুরু হয়। মুসলিম নারী (বিবাহবিচ্ছেদের পর অধিকার রক্ষা আইন), ১৯৮৬ পাশ করানো হয় সুপ্রীম কোর্টের এই রায়ের প্রযোজ্যতা সীমিত করার জন্য। সাধারণভাবে ফৌজদারী আইনের ১২৫ ধারা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদি না সেই নারী ও তার প্রাক্তন স্বামী যৌথভাবে বা আলাদা ভাবে কোর্টে ঘোষণা করে বা স্বীকৃতি দেয় যে তারা ফৌজদারী আইনের ১২৫ থেকে ১২৮ ধারা মেনে চলবে।
এই আইনে স্বামীর দায়িত্ব থাকলো:
(১) শুধু ইজ্জত কাল পর্যন্ত। ইজ্জত কাল হলো বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনটি ঋতুকালের পর্যন্ত আর যদি ঋতুর অবস্থা না থাকে তাহলে তিনটি চান্দ্রমাস পর্যন্ত। যদি সন্তান সম্ভবা অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে সন্তানের জন্ম বা গর্ভপাতের সময়ের মধ্যে স্বামীর কাছ থেকে ন্যায্য ও উপযুক্ত ব্যবস্থা ও খোরপোষ পাবে।
(২) যদি বিবাহ বিচ্ছেদের আগে বা পরে জাত সন্তানের ভরণপোষণ সে নিজেই বহন করে, তাহলে তার প্রাক্তন স্বামী সন্তান জন্মের দুবছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেবে।
(৩) দেন মোহরের সমান অর্থ দেবে।
(৪) বিয়ের সময় আগে বা পরে স্বামী, আত্মীয় বা বন্ধুদের দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি স্বামী দিয়ে দেবে।
উল্লেখিত সমস্ত সম্পত্তি না দিলে বিবাহ বিচ্ছিন্না স্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানাবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট একমাসের মধ্যে তার রায় দেবে।
এই আইন অনুসারে ইজ্জত কালের অর্থের পর যে স্ত্রী নিজের ভরণপোষণ চালাতে না পারে, তার আত্মীয়স্বজন (যারা তার সম্পত্তির অধিকারী) তারা দায়িত্ব নেবে। তারাও যদি অক্ষম হয়, তাহলে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)











